স্বপ্নীল কক্সবাজার টার্মিনাল ভবন

প্রকাশের সময় : 2018-07-13 12:12:38 | প্রকাশক : Admin
স্বপ্নীল কক্সবাজার টার্মিনাল ভবন

বিশ হাজার ফুট ওপর থেকে প্লেনের জানালার পাশে বসে যখন দৃষ্টি যাবে সমুদ্রের নীলাভজলে- তখন ভেসে উঠবে উপকূলে ছোট্ট একটি ঝিনুক। ধীরে ধীরে প্লেন যতই নিচে নামবে, ঝিনুকের আকৃতি ততই বড় হয়ে উঠবে। সমুদ্রতীরের কাছাকাছি নেমে আসার পর নবাগত যাত্রীরা বুঝবে এটা ঝিনুক নয়, এটাই কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল। এমন দৃষ্টিনন্দন শৈল্পিকতায় সাজানো হয়েছে এই নতুন টার্মিনাল ভবনের নক্সা।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে স্বপ্নের এই টার্মিনাল। অর্থমন্ত্রী এই প্রকল্পের আর্থিক অনুমোদন দিয়ে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ প্রদানের বিষয়টি ফয়সালা করেছেন। এখন আর দিন গোনা নয়, ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছে। সিভিল এভিয়েশনের নেয়া অন্যতম এই প্রকল্পের কাজ আগামী দেড় বছরে শেষ হবে বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান। বলেছেন, সত্যিই এটি দেখার মতো একটি টার্মিনাল।

পর্যটনের স্বর্গভূমি কক্সবাজারের নতুন মাত্রা যোগ করবে আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল। সিভিল এভিয়েশনের প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামী জানিয়েছেন, এক লাখ বর্গফুটের কক্সবাজার বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক মানের প্যাসেঞ্জার ভবন নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারী ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। ২৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করবে দুটি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সিআরএফজি ও এনডিই।

কী কী থাকছে এই প্রকল্পে জানতে চাইলে প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বলেন, কি নেই তাতে। এখানে এমন কিছু অতিরিক্ত সুবিধাদি থাকছে- যা দেশের অন্য কোন বিমানবন্দর- এমনকি হযরত শাহজালালেও নেই। বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য দৃষ্টিনন্দন ও শৈল্পিক অবয়বের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। সমুদ্রের নীলাভ জলরাশির পাশেই বালুময় তীরে অনেক জীবাশ্ম থাকে। এদের অন্যতম ঝিনুক, যা নদীমাতৃক বাংলাদেশের আবহমানকালের চিরচেনা রূপ। এই ঝিনুকের আকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি করা হয়েছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের নক্সা।

বর্তমান পুরনো টার্মিনালের উত্তর পাশেই এক লাখ বর্গফুটের ওপর এমনভাবে নক্সা প্রণয়ণ করা হয়েছে যা বিশ হাজার ফুট ওপর থেকে দেখলে মনে হবে সাগর তীরে একটা ঝিনুক পড়ে আছে। জানালার পাশে বসা প্লেনের যাত্রীরা যতোই নিচে নেমে আসবেন ততোই এই ঝিনুক রূপান্তরিত হবে টার্মিনাল ভবনে। প্লেন থেকে নামার পর যাত্রীদের ধোঁয়াশা দূর হবে। মুক্তোর মতো সাদা টার্মিনালের ছাদটাকে মনে হবে- প্লেনে বসে দেখলাম ঝিনুক, এখন দেখছি এয়ারপোর্ট।

প্রকল্প পরিচালক আমিনুল হাসিব জানান, বর্তমান টার্মিনাল ভবনে প্রবেশমুখের উত্তর দিকে থাকছে নতুন টার্মিনালের প্রবেশদ্বার। মূল টার্মিনালটি উত্তর দক্ষিণে সুবিস্তৃত এক লাখ বর্গফুটের ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে। এতে থাকছে অত্যাধুনিক মানের বোর্ডিং ব্রিজ, যা টার্মিনালের মাঝ বরাবর সংযোগ দেবে। আগমনী ও বহির্গমন যাত্রীদের জন্য আলাদা আলাদা এক্সেলেটর, হাইস্পিড লিফট, চারটি চেকইন কাউন্টার, একটি সুবিশাল হোল্ডিং লাউঞ্জ, ইমিগ্রেশন কাস্টমস কর্নার, ৫টি কনভয় বেল্ট, ডিজিটালাজাইড সিকিউরিটি সিস্টেম, এয়ার পার্কিং জোন, এপ্রোনসহ অন্যান্য সুবিধাদি।

ভিআইপি যাত্রীরা টার্মিনালে প্রবেশ করবেন পূর্বপাশ ও সাধারণ যাত্রীরা উত্তর দিকের গেট দিয়ে। এক সঙ্গে চারটি কাউন্টারে এক হাজার যাত্রীর সেবা মিলবে। এভাবে দিবারাত্রি চব্বিশ ঘণ্টায় কমপক্ষে ১০ হাজার যাত্রী সেবার সক্ষমতা থাকবে এখানে। আপাতত আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের আলাদা আলাদা কাউন্টারে হ্যান্ডলিং দেয়া হবে।

এ বিষয়ে এয়ার কমোডর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ধাপে ধাপে একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক রূপ দেয়া হচ্ছে। এরই ধারবাহিকতায় প্রকল্পটিকে তিন ভাগে হাতে নেয়া হয়েছে। এর প্রথম পর্যায়ের কাজ প্রায় ৯ হাজার ফুট দৈর্ঘ্যের রানওয়ে, এপ্রোচ, এপ্রোন ও লাইটিংয়ের কাজ প্রায় শেষ। এখন শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিকমানের একটা প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল। এটা শেষের পর হাতে নেয়া হবে আরও সুবিস্তৃত সম্প্রসারণ কাজ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম হাব তৈরির বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই কক্সবাজার এয়ারপোর্টে সব অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল নাইম হাসান জানালেন, এই টার্মিনাল দিয়ে আপাতত ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত যাত্রীসেবা দেয়া যাবে। তারপরের বাস্তবতায় একটি সুপরিসর টার্মিনাল ভবন নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। যত দ্রুত জমি অধিগ্রহণের জটিলতা নিরসন হবে- ততোই সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে। কক্সবাজার এয়ারপোর্টের বর্তমান পুরনো টার্মিনালটি আপাতত অভ্যন্তরীণ হিসেবেই ব্যবহার হবে। তৃতীয় পর্যায়ের মূল টার্মিনাল তৈরির পর বর্তমান ভবনটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হবে।

এ সম্পর্কে সচিব মুহিবুল হক বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবেই গড়ে তোলা হবে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের কোল ঘেঁষে রাতের আলোতে ফ্লাইট ওঠানামার সময় অভূতপূর্ব নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করবেন যাত্রীরা। কারণ সমুদ্রের মাঝে স্থাপন করা এপ্রোচ লাইটিংয়ে অনন্য রূপ পাবে নীলাভ জলরাশি। আজাদ সুলায়মান, জনকণ্ঠ

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com