রমজানের ভাবনা

প্রকাশের সময় : 2018-07-13 12:14:45 | প্রকাশক : Admin

মেহেদী দিলদারঃ রোজায় ধরেছে, তাই ভাবনাগুলো এলোমেলো। মসজিদে, বিপণিবিতানে সবখানেই দারুন ভিড়। ছকবাধা রুটিনের অনেকটাই পরিবর্তন। আমাদের বাসার সামনে সারাদিন যে ছেলেগুলো বসে বসে আড্ডা দেয় রমজানের শুরু থেকেই ওদেরকে এখন নিয়মিত মসজিদে দেখা যায়। প্রতিদিন আনন্দ সহকারে তারাবির নামাজও পড়তে যায়। সরকারি-বেসরকারি দলের ডাক সাইটে নেতারাও এই রমজানে ওমরাহ পালনে যাচ্ছেন নিয়মিতই, আল্লাহর সাথে একটা বোঝা পড়ার নিয়তে। রমজানের পরে দেশটা ভালো হয়ে যাবে নিশ্চয়ই।

সেদিন এক ভাই  বলতে ছিলেন, আমরা সাধারণত পরিচিত-অপরিচিত কারও  সাথে দেখা হলে সালাম দেই, বলি- "আসসালামু আলাইকুম"।  মানে হলো ‘আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক  বা ‘আপনি নিরাপদে থাকুন’। অর্থাৎ, আমার দ্বারা আপনার শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে না, বরং কল্যাণ সাধিত হবে এবং আমার জ্ঞাতসারে অন্য কারও দ্বারাও আপনার শান্তি ও নিরাপত্তাহানি ঘটতে পারবে না।

অন্য অর্থে যখন কেউ কাউকে সালাম দেয়, সালাম দেয়ার মাধ্যমে সালাম প্রদানকারী এই অঙ্গীকার করে যে, তার দ্বারা সালাম গ্রহণকারীর কোন অনিষ্ঠ হবেনা। এখন শুনি ছিনতাইকারীরাও কোনো কোনো সময় ছিনতাইয়ের আগে সালাম প্রদান করে। সালাম দিয়ে ঘরে ঢুকে, ডাকাতি করে, খুন করে বের হয়ে আসে। আমরা যারা ভদ্রলোক তারাও সালাম দিয়ে আলোচনা শুরু করে অনেক সময় মারামারি- গালাগালি দিয়ে আলোচনা শেষ করি। অদ্ভুত আমাদের ধর্মীয় আচার-আচরণ। মুখে যা বলি অন্তরে তা লালন করিনা। প্রতি ওয়াক্ত নামাজে বলি- "হে আল্লাহ! আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।" কিন্তু আমাদের বাস্তব ভিন্ন।

আমরা প্রচলিত ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করছি ঠিকই কিন্তু ব্যবহারিক জীবনে এর কোনোই প্রভাব নেই। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া লোকও ঘুষ খায়, মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করে, আর বেতনের টাকা আলাদাভাবে জমিয়ে রাখে হজ্বে যাবার জন্য, পাক সাফ হয়ে আসবেন হালাল বেতনের টাকা দিয়ে। ঘুষের টাকায় বাড়ী-গাড়ি, জমানো হালাল বেতনের টাকায় হজ্বব্রত পালন। নিশ্চয়ই মুক্তিলাভ। দারুন হিসাব। ইহকাল-পরকাল দুইই ঠিকঠাক। ধর্মে নিষিদ্ধ কাজ করার সময় তাদের বিবেকে বাধে না। যারা ইবাদত করেন, তাদের অনেকেই  ইসলামের নিষিদ্ধ কাজগুলো করছেন। আবার যারা ইবাদত করেন না, তারাও করছেন। তাহলে ইবাদতকারী ও অমান্যকারীর মধ্যে কি তফাৎ রইল?

নৈতিকতা এবং আচরণ- এ দুই-ই মানব সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ইসলামে এ বিষয়গুলো সমধিক গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম প্রত্যেক মুসলমানের জীবনের প্রতিটি দিক নির্ধারণ করে দিয়েছে। বিশ্বাসীদের ক্ষেত্রে ইসলাম তার সকল আচরণ ও ব্যবহার যাচাই করার মানদণ্ড দিয়েছে। ইসলাম অন্যান্য ব্যক্তির সাথে, সার্বিকভাবে সমাজের সাথে, প্রাকৃতিক জগতের সাথে তার সম্পর্ক এবং খোদ নিজের ব্যাপারেও তার সম্পর্ক নির্ধারণ করে দিয়েছে।

আমরা কথিত ধার্মিকেরা ধর্মপালনকে কতিপয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছি।  কালেমা (ঈমান), নামাজ, রোজা, হজ্ব ও জাকাত এ পাঁচ ফরজ অবশ্যই পালনীয়। কলেমা, নামাজ ও রোজা ধনী-দরিদ্র সহজে আদায় করতে পারে। কিন্তু হজ্ব ও জাকাত একমাত্র ধনীলোকের পক্ষে সম্ভব। তাই প্রধান তিনটি ফরজ আদায়ের পাশাপাশি শিরক থেকে বিরত থাকা, সুদ-ঘুষ বর্জন করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা, গুম-হত্যা না করা, অন্যের প্রতি জুলুম না করা, পরের ধন আত্মসাৎ না করা, মিথ্যা না বলা, অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত না হওয়া, পরনিন্দা না করা, আমানত খেয়ানত না করা, ওয়াদা ভঙ্গ না করা প্রভৃতি ইসলাম ধর্মের অন্যতম শিক্ষা। আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি এগুলো মেনে চলাই হচ্ছে ইবাদত, প্রতিটি মুসলমানের অবশ্য পালনীয় বিষয়।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com