যে ভাষণ মুহূর্তেই স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের করে নেয়

প্রকাশের সময় : 2021-03-03 13:02:11 | প্রকাশক : Administration
যে ভাষণ মুহূর্তেই স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের করে নেয়

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ দেয়া ভাষণের দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক ৭ মার্চ হিসেবে ঘোষণা’ করা হয়েছে। এখন থেকে ৭ মার্চ সরকারী ও বেসরকারী ভবন এবং বিদেশে কূটনৈতিক মিশনে ওড়ানো হবে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। তবে এ দিবসটির ক্ষেত্রে সাধারণ ছুটি প্রযোজ্য হবে না।

জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের আবেদন চিরদিনের এবং তা কখনও শেষ হবার নয়। কারণ এরমধ্য দিয়েই মুক্তিকামী বাঙালীর আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেছিল। এই ভাষণের আবেদন এখনও মুছে যায়নি। যখনই শুনি তখনই মনে হয় শরীরের ভেতর কাঁটা দিয়ে ওঠে যে, এ ভাষণ আমাদের জন্য এখনও কতটা প্রযোজ্য এবং সজীব। এই ভাষণ বাঙালীর মুক্তিকামী মানুষের আশা-আকাঙ্খা বাস্তবায়নের ভাষণ।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার একটি লেখা থেকে এ  সম্পর্কে জানা যায়। এ ভাষণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিচারণ করে বলেন, ৭ মার্চের বক্তৃতা দেয়ার আগে আমার- মা বাবাকে বলেছিলেন- তোমার সারাটা জীবন তুমি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছ। তুমি জান এদেশের মানুষের মুক্তি কিসে। কাজেই কারো কথা শোনার কোন প্রয়োজন নাই। তোমার মনে যে কথা আসবে তুমি সেই কথাই বলবে। সেই বক্তৃতাই দেবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর এই একটি ভাষণ যেখানে জাতির পিতার হাতে কোন কাগজ ছিল না। কোন নোট, কিছুই ছিল না। এই ভাষণ সম্পূর্ণ তিনি তাঁর মন থেকে বলেছিলেন। যেটি ছিল একটি উপস্থিত বক্তৃতা।

এই ভাষণ আমাদের এখনও যে উজ্জীবিত করে তার প্রমাণ হচ্ছে- এই ভাষণ ‘৭৫ এর পর নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্রতি ৭ মার্চ, ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মাদিনে, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে, ১৫ আগস্টের দিনে সব সময় বাজাতেন। আর এই ভাষণ বাজাতে যেয়ে তারা প্রতিনিয়ত বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। সেনা স্বৈরশাসকরা যারা একের পর এক ক্ষমতায় এসেছেন, তারা এই ভাষণ বাজাতে দিত না। কিন্তু শত বাধা অতিক্রম করেও বাংলার মানুষের মনে একটা জিদ নিয়েই এই ভাষণ বাজিয়েছেন।

৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় থেকে কত বার, কত দিন, কত ঘণ্টা, কত মিনিট এই ভাষণ বাংলাদেশে বেজেছে। সে সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বজ্রকণ্ঠ নামে প্রতিদিন এই ভাষণ বাজানো হতো। আর স্বাধীনতার পরও বিশেষ দিনগুলিতে ভাষণ বাজানো হয়েছে। পৃথিবীর অন্য ভাষণগুলো একবার হয়ে যাওয়ার পর আর দ্বিতীয়বার বাজেনি। সেই দিক থেকে ৭ মার্চের ভাষণ একটা অনন্য দৃষ্টান্ত।

লক্ষ কোটি জনতার সমাবেশ। কানায় কানায় পূর্ণ রেসকোর্স ময়দান। মঞ্চে এসে দাঁড়ালেন বাঙালীর বিস্ময়পুরুষ ‘তোমার নেতা আমার নেতা/শেখ মুজিব শেখ মুজিব’! মুহূর্তেই উত্তাল হয়ে উঠল জনসমুদ্র। ঢেউ খেলে গেল। আর তারপর ঐতিহাসিক ভাষণ। মাত্র ১৯ মিনিটের একটি ভাষণ রচনা করল নতুন ইতিহাস। অমর কবিতা হয়ে ছড়িয়ে পড়ল সারা বিশ্বে। স্বাধীনতার গোলাপ হয়ে ফুটল। ১৯৭১ সালে দেয়া এ ভাষণ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ নামক বিশ্বখ্যাত জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে। আজ এবং আগামীর বাংলাদেশ রাষ্ট্র কাঠামোর প্রধান ভিত্তি ৭ মার্চের ভাষণ।

শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা দুনিয়ায় ভাষণটি ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ হিসেবে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে। জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কো ভাষণটিকে বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের মূল ভাষণ ২৩ মিনিটের হলেও ১৯ মিনিট রেকর্ড করা হয়েছে। অভিনেতা আবুল খায়ের এটা রেকর্ড করে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে তাকে রেকর্ডটা উপহার দিয়েছিলেন। বলা বাহুল্য, গোটা ভাষণটি ছিল অলিখিত। বুকে জমা কথাগুলোই বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু।

স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ হলেও, বাঙালী এই ভাষণটিকে যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করেছিল। কৌঁসুলী শেখ মুজিব এদিন সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলেও, বলার খুব কিছু বাদ রাখেননি। তাই অনেকেই ৭ মার্চকে স্বাধীনতা ঘোষণার দিন বলেই মানেন।

৭ মার্চের জনসমুদ্রে উত্তাল ঢেউ হয়ে এসেছিলেন শেখ মুজিব। সেখানে তিনি ছিলেন মহানায়ক। সেদিনের ১৯ মিনিটের বিকেলটা ছিল শুধু তাঁর। সেদিন আর কোন দৃশ্য ছিল না তাঁর দৃশ্য ছাড়া। সেদিন আর কোন কণ্ঠস্বর ছিল না তাঁর কণ্ঠস্বর ছাড়া। সেদিন একটিমাত্র নদী কলস্বরিত ছিল বাঙলায়। সেদিন তিনিই ছিলেন বাংলার দিনমণি-অংশুমলী।

একজন মানুষ এত সহজ ভাষায় মানুষের মনের ভেতরে, মাথার ভেতরে, রক্তের ভেতরে কিভাবে ঢুকে যেতে পারেন, তার প্রমাণ একাত্তরের ৭ মার্চের ভাষণ। মঞ্চে দাঁড়িয়েই বিশাল জনসমুদ্রে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে বাঙালী জাতিকে মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার উদাত্ত আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com