আজব দেশের গুজব খেলা!!!!!

প্রকাশের সময় : 2021-03-31 14:30:34 | প্রকাশক : Administration
আজব দেশের গুজব খেলা!!!!!

ইঞ্জিঃ সরদার মোঃ শাহীন

করোনা আর ভ্যাকসিন শব্দ দু’টো বাদ দিলে গেল দু’মাসে মিডিয়া জুড়ে তৃতীয় বহুল প্রচারিত শব্দটি হলো আল জাজিরা। প্রিন্ট কিংবা টিভি মিডিয়া; অথবা ইউটিউবসহ স্যোসাল মিডিয়া। কোথায়ও বাদ থাকেনি শব্দটি। ঘুরে ফিরে বার বার এসেছে। একটা কাঁপুনি ধরানো শক্তিতে আশপাশ তোলপাড় করার চেষ্টা করেছে। শুধু জনমনে কাঁপুনি ধরানো নয়; ধরাবার চেষ্টা করেছে সরকারের গদিতেও। জোসটা এমন ছিল যে হাসিনা সরকারের পতনঘন্টা বাজাটা শুধু সময়ের ব্যাপার।

সমস্যা হলো, এখনও পতন তো ভাল, পতনের ঘন্টাটিও বাজেনি। মহাঘন্টা নিয়ে সুদূর লন্ডনে যিনি বসে আছেন বাজাবার প্রত্যাশায়, উল্টো তার বিলাসী জীবন, জুয়া খেলা এবং নাইট ক্লাবে যাওয়া নিয়ে লন্ডন ভিত্তিক স্টার নিউজটিভি প্রতিবেদন প্রচারের জন্যে বেশ নড়েচড়ে বসেছে। যে তীর তিনি হাসিনার দিকে ছুঁড়েছেন, সেই তীর এখন তার দিকেই ফিরে আসছে কি না কে জানে!

রাজনীতির কথা আসলেই কেউ ভাল করে জানে না। যারা কিছুটা জানে, তারা ফিসফিস করে বলে। বলে, তার কাছ থেকেই টাকা খেয়ে আল জাজিরা আবারো জাল জাজিরার তকমা পেতে যাচ্ছে। পেতে পারে। পুরানো স্বভাবের কারণে এটা তাদের অধিকারের মধ্যেই পড়ে। বছরব্যাপী তাদের টাকা খেয়ে প্রতিবেদন প্রচারের বহু রেকর্ড আছে। তবে এসবের কোন ক্লু পাবার ক্ষমতা আমার নেই।

ক্ষমতা আমার বড়ই সীমিত। কেবল ক্ষমতা নয়; ভাবনাও সীমিত। জাজিরার আল আর জাল নিয়ে কোনদিনও ভাবিনি আমি। কে জানে হয়ত জাজিরা নিজেও ভাবে না। এতকিছু ভাবলে চলে? চলার জন্যে টাকা দরকার। টাকা! টাকার জন্যে সবাই কি না করে! টাকার বিনিময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চুলকানী মার্কা নিউজ প্রচারের বহু উদাহরণ জাজিরার আছে। জন্মলগ্ন থেকেই আছে। টাকা পেলে জাজিরার কাছে আল ও যা, জাল ও তা।

জাজিরার কাজই হলো আল নামধারী হয়ে সর্বদা জাল কর্ম করা। তবে খুব ভালভাবে করতে পারে না। শুরুটা যেমন তেমন, মাঝপথে এসে পেঁচিয়ে ফেলে। অর্ধসত্য কিংবা অল্প সত্যকে এমনভাবে ফুঁপিয়ে ফাঁপিয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করে যেখানে আসল সত্যকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। সত্যিটুকু ঢাকা পড়ে যায়। এবং একটি চমৎকার প্রতিবেদন হবার সম্ভাবনা হারিয়ে বিতর্কিত প্রতিবেদনে পরিণত হয়। ভুল কৌশলগত কারণে আসল সত্যটুকুর গুরুত্ব কমিয়ে মিথ্যাটুকু দিয়েই পুরো প্রতিবেদন সাজানো হয় বলেই এমনটা হয়। এটাই ওদের স্টাইল। সর্বদা সত্যকে অবলম্বন করে মিথ্যে ডকুমেন্টারী বানানোতে জাজিরার তুলনা জাজিরা নিজেই। ফলে প্রতিবেদনে থাকা সত্যটুকুরও আর সত্যতা থাকে না। সাধারণত অশুভ শক্তির শুভশক্তি হবার ভান করার চেষ্টাই এমন লেজেগোবরে অবস্থার জন্ম দেয়। অশুভ শক্তি সত্য দিয়ে শুরু করে বটে। শেষ করে মিথ্যে দিয়ে। কে না জানে, জাজিরা তাবৎ পৃথিবীর অশুভ শক্তির প্রচারকেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত। একেবারে প্রচারের শুরুর দিন থেকেই স্বীকৃত।

কাতার ভিত্তিক এই চ্যানেলটি জন্মলগ্ন থেকেই অশুভ শক্তিকে পেট্রোনাইজ করছে। আলকায়েদা আর আইএসকে নিয়ে কী না করেছে! এই দু’টো সংগঠনের অফিসিয়াল মিডিয়া হিসেবে আল জাজিরাকে কে না চেনে! জাজিরা সন্ত্রাসের মদদদাতা হয়ে ভিনদেশের সন্ত্রাস, দূর্নীতি নিয়ে সারাক্ষণ কথা বলে। কথা বলে ভিনদেশের গণতন্ত্র নিয়েও। অথচ আজ পর্যন্ত একটি দিনও কাতারের গণতন্ত্র নিয়ে একটি কথাও বলেনি। আর কোনদিন কাতারেও গণতন্ত্র দেখিনি আমরা।

কোনদিন দেখার আশাও নেই। কাতার সরকার এই জাজিরার মালিক, যারা নিজেরাই অগণতান্ত্রিক রাজপরিবার চালায়। তাঁদের কাছ থেকে গণতন্ত্র তো ভাল, বস্তুনিষ্ঠতা আশা করাই তো ঠিক না। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আল জাজিরা কখনোই বস্তুনিষ্ঠতার ধার ধারেনি। বরং শুরু থেকেই কাজ করছে বিশ্বব্যাপী জঙ্গীদের মুখপাত্র হিসেবে। এবং জঙ্গীবাদকে উস্কে দিতে দেশে দেশে সরকার ও প্রগতিশীল শক্তিকে টার্গেট করে হলিউড সিনেমার মতো গল্প বানাচ্ছে। সত্যি বলতে, বিভিন্ন দেশে আল জাজিরা নিষিদ্ধ হয়েছে এই জঙ্গীবাদকে উস্কে দেয়ার জন্যই। আল জাজিরা আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী যে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে এবারের কর্মকান্ড তারই ধারাবাহিকতা মাত্র।

আমি কোনভাবেই বলছি না আল জাজিরার প্রতিবেদনের সব তথ্য মিথ্যে। এখানে যথেষ্ট মাত্রায় সত্যিও আছে। চোখ ছানাবড়া হবার মত সত্যিও আছে। তবে সত্যি যেমনি আছে, তেমনি মিথ্যেও আছে। আমার প্রশ্নটি ঠিক এখানেই। একটি মিডিয়ার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মিথ্যা থাকবে কেন? আর যে তথ্য অনেক আগেই অনেক মিডিয়ায় বেরিয়েছে, সেটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন হয় কি করে? আর সত্যিটুকুকেই বা খামাখা কেন বিকৃত করবে? থাকুক না সত্যির মত করেই প্রকৃত সত্যি ।

সেনাপ্রধানের ভাই জোসেফকে নিয়ে প্রকৃত সত্যি কথাটি বললেই হতো। ক্ষমা পাবার সময় জোসেফ এর মৃত্যুদন্ডের আদেশ ছিলো না। ছিলো যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ। নিম্ন আদালতে জোসেফের মৃত্যুদন্ডের রায় হয়েছে ঠিক, কিন্তু উচ্চ আদালতে আপিল করবার পর সেই সাজা কমে যাবজ্জীবনে দাঁড়ায়। সেই কারাদন্ডে জোসেফ ২০ বছর জেল খেটেছিলো; বাকি ছিলো দেড় বছরের মতো। ফলে রাষ্ট্রপতি আসলে জোসেফের দেড় বছরের সাজা মওকুফ করেন; কোনভাবেই মৃত্যুদন্ড নয়।

জেনে রাখা দরকার যে, কারাবিধির ৫৬৯ ধারা অনুসারে কোনো বন্দি তার সাজার মেয়াদের দুই-তৃতীয়াংশ খাটার পর সরকার চাইলে তাকে মুক্তি দিতে পারে। রাষ্ট্রপতি জাস্ট সেটুকুই করেছেন। মহাভারত অশুদ্ধ করেন নাই। অশুদ্ধ করে থাকলে এ কাজ বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনিই প্রথম করেন নাই। যার যখন দরকার হয়েছে তখনই করেছেন। জিয়া করেছেন, এরশাদ করেছেন। করেছেন খালেদাও। খালেদার আমলে মৃত্যুদন্ড থেকে ক্ষমা পাওয়া ঝিন্টু ছিলেন সুইডেন বিএনপির নেতা। ঝিন্টু ২০০৫ সালে দেশে ফেরার পর রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পান।

খালেদার আগ্রহেই পান। খালেদার আগ্রহে অন্যের বেনিফিট নেবার কথা থাক। স্বয়ং খালেদা জিয়া নিজেই তো বেনিফিট নিচ্ছেন। বর্তমানে কোর্টের নয়, সরকারের বিশেষ ক্ষমতায় সাজা স্থগিতের সুবিধা নিয়ে জেলের বাইরে আছেন। বলা যায় না, সাজা মওকুফও করিয়ে ফেলতে পারেন। এসব এড়িয়ে যেয়ে কিংবা বিবেচনায় না নিয়ে জনগণকে বোকা বানিয়ে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলার মাহাত্ম তো নিশ্চয়ই আছে। সবকিছুর পেছনে নিশ্চয়ই কাজ করছে মহাশক্তিধর কোন গোষ্ঠী। শক্তিধর গোষ্ঠীটি ইদানীং বেশ নড়েচড়ে ওঠেছে। বাতাসে কান পাতলে এটা টেরও পাওয়া যায়। নানা কানাঘুষা ভেসে বেড়াচ্ছে বাতাসে। এবং শক্তিধর গোষ্ঠীর হঠাৎ নড়ে ওঠার কারণও ক্রমেই রহস্যময় হয়ে উঠছে। আর পরিষ্কার হয়ে উঠছে তাদের চেহারা।

দেশে কিংবা দেশের বাইরে নিরপেক্ষতার নামধারী যে পক্ষ আল-জাজিরা নিয়ে মাতম করছেন, আসলে তারা কারা? কী তাদের শ্রেণি চরিত্র? তারা কী চান? তাদের নিকট অতীত কী বলে? তারা নিজেরা দুধে ধোঁয়া তুলসী পাতা তো? কিংবা ফুলের মত পবিত্র তাদের চরিত্র। তারা নিজেরা ক্ষমতায় থেকে ক্ষমতার অপব্যহার করেননি তো? ক্ষমতাকে ব্যবহার করে ধরাকে সরা জ্ঞান করার রেকর্ড নেই তো তাদের? তারা কি সুকর্ম করে দেশ থেকে নির্বাসিত হয়েছেন? নাকি হাজারো অপকর্মের গুরু হয়ে বিদেশে পালিয়ে কোনমতে বেঁচেছেন?

এখন তারা দেশপ্রেমিক সেজেছেন। আর ধরেছেন নিরপেক্ষতার ভান। তাদের বেশির ভাগই নিজেকে অরাজনৈতিক দাবি করে। অথচ তাদের আচরণ সর্বদা রাজনৈতিক। আপাদমস্তক তারা পক্ষপাতমূলক রাজনীতির লেজুরবৃত্তি করেন। তারা বঙ্গবন্ধুকে মেনে নেয়ার ভান করে সর্বদা তাঁর দোষ খুঁজে বেড়ান। কিন্তু বিনাবাক্য ব্যয়ে ক্রেডিট দেন জিয়াকে। সর্বদা আইনের উর্ধ্বে রাখতে চান জিয়া কিংবা ইউনুসকে। আর বঙ্গবন্ধুকে নামাতে চান জনতার কাতারে। তাদের সকলেই প্রচন্ড রকমের ভারত বিরোধী। ভারত বিরোধীতায় জিকির তোলেন আর পাকিস্তানের অপকর্মে পালন করেন কবরের সুনসান নিরবতা।

তারা পদ্মা সেতুর বিষয়েও ঘেতর ঘেতর করেছিলেন। আগুন সন্ত্রাসের সময়ে ছিলেন মুখে কলুপ এঁটে। রোহিঙ্গাদের মুসলিম ভাই বলে দেশে আশ্রয় দেবার দাবীতে সে কী কান্না! আর এখন রোহিঙ্গাদের কুকর্ম দেখে ওদেরকে দেশ থেকে তাড়াবার দায়িত্ব হাসিনাকে দিয়ে দিব্যি শীতনিদ্রায় গেছেন। কানে দিয়েছেন খিলকি। তারা ভারতে ধর্মনিরপেক্ষ সরকার চান, কিন্তু বাংলাদেশে চান রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম।

এসব চাওয়ায় যতনা ধর্মপরায়ণতা আছে, তারচেয়ে ঢের বেশি আছে ভন্ডামী। তাদের কোন চাওয়ার মাঝে কোন কালেই কোন সততা ছিল না। ছিল মুখভর্তি কেবল ফেনা। চাইতে চাইতে মুখে ফেনা তুলে ফেলা ছাড়া তারা আর কিছু জানে না। নিত্যদিন তারা কেবল চায়। অনেক অনেক কিছু চায়। কেবল চায় না, মুখোশে লুকানো তাদের আসল চেহারাটি আমজনতা জেনে ফেলুক! বুঝে ফেলুক!! কিংবা কায়দা করে সত্যি সত্যি একদিন ধরে ফেলুক!!!

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com