ধনীর দুলাল কিংবা ভবঘুরে; সবার একই মর্যাদা

প্রকাশের সময় : 2018-07-13 12:28:08 | প্রকাশক : Admin
�ধনীর দুলাল কিংবা ভবঘুরে; সবার একই মর্যাদা

মারসালিন মিজানঃ কেউ সম্ভ্রান্ত। কেউ ছিন্নমূল, ভবঘুরে। ধনী কেউ। কেউ হতদরিদ্র। কিন্তু সবাই একসঙ্গে পাশাপাশি বসেছেন। ইফতার করেছেন। মাথা গুনলে আড়াই থেকে ৩ হাজারের কম হবে না। এত এত মানুষের ইফতার যে সে কথা নয়। অনেকে নিশ্চিত চমকে উঠবেন। অথচ বায়তুল মোকাররম মসজিদের পূর্ব শাহানে প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে দৃশ্যটি। দেশের সবচেয়ে বড় ইফতার আয়োজনটি করেছে সরকারী প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

প্রতিবারের মতো এবারও রমজানের প্রথম দিন থেকে চলেছে ইফতার আয়োজন। রোজাদারদের প্রত্যেককে অতিথি জ্ঞান করে তাদের জন্য বিনা খরচে ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আরও উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে এখানে সবাই সমান মর্যাদার। ধনী-দরিদ্রের কোন পার্থক্য করা হচ্ছে না। আলাদা কোন ব্যবস্থা নেই কারো জন্য।

মূল আয়োজনটি হয়েছে মসজিদের পূর্ব শাহানে। এখানে প্রায় ২০ হাজার স্কয়ার ফুট জায়গাজুড়ে রোজাদারদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিন আসরের নামাজের পর থেকে শুরু হয়েছে থালা বাটি সাজানো গুছানোর কাজ। রোজাদাররা নিজ হাতে বিভিন্ন কাজ করছেন। একই সময় চলছে বয়ান। অপেক্ষাকৃত প্রবীণরা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন। এভাবে ইফতারের সময় ঘনিয়ে আসছে। বাড়ছে ইফতার করতে আসা লোকজনের সংখ্যা। বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আশপাশের দোকানদার, গুলিস্তান এলাকায় কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ মানুষ, ভিক্ষুক, ভবঘুরে, এতিম-মিসকিন সবাই এসে পাশাপাশি বসছেন। সত্যি দেখার মতো দৃশ্য। ভেদাভেদ ভুলে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষা।

বিরাট কর্মযজ্ঞ তদারকি করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ ও মার্কেট বিভাগ। সংশ্লি−ষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইফতারে খাবার পরিবেশনের জন্য রয়েছে সাড়ে ৩০০টি বড় ডিশ। প্রতিটিতে ৬ থেকে ৭ জনের ইফতার করার ব্যবস্থা। রোজাদাররা ডিশের চারপাশে চমৎকার গোল হয়ে বসে ইফতার করেছেন।

মসজিদে পুরুষের পাশাপাশি মহিলাদের জন্য ইফতারের পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে। মসজিদের পূর্ব-দক্ষিণ প্রান্তে নামাজ কক্ষে প্রতিদিন শতাধিক মহিলা ইফতার করেছেন বলে জানা যায়। এখানেও ভেদাভেদহীন। এখানেও সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক। সব মিলিয়ে অন্যরকম একটি আয়োজন।

বিশাল এই আয়োজন সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিদিন কাজ করেছেন মসজিদের ২০ জন খাদেম ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ১০ থেকে ১৫ জন সাধারণ মুসল্লি। এভাবে কাজটিও ভাগাভাগি করে নিয়েছেন সবাই।

একদিন ইফতারের আগে কথা হয় হাবিব নামের এক যুবকের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার বাসা মিরপুরে। দূপুরে গুলিস্তানে কাজ ছিল। শেষ করতে অনেক সময় লেগে গেছে। তাই এখানে ইফতার করতে আসা। রেস্তরায় বসে ইফতার করা যেত। কিন্তু এখানে অনেক গরিব মানুষ আসেন। তাদের সঙ্গে বসে ইফতার করার একটা আলাদা তৃপ্তি। এ কারণেই বায়তুল মোকাররমে ইফতার করা বলে জানান তিনি।

শহীদ নামের এক ভবঘুরে কিশোর স্বীকার করলো যে, সে রোজা রাখেনি। কিন্তু ইফতার করতে এসেছে। তার ভাষায়- ‘আইজকা রোজা রাখতে পারি নাই। ঘুমাইছিলাম। উইট্টা দেহি, দিন হয়া গেছে।’ তবে রোজা না রাখলেও সারাদিন কিছু তেমন খাওয়া হয়নি তার। বলল, ‘ক্ষুধা লাগছে। কেউ খাইতে দেয় না। এইখানে দেয়। তাই আইছি।’ কথা শুনে মনটা কেমন খারাপ হয়ে গেল। আবার ভাল লাগল এই ভেবে যে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন শহীদের মতো ভাগ্য বঞ্চিতদের জন্য এমন চমৎকার একটি ব্যবস্থা রেখেছে। আয়োজনটি সম্পর্কে সংশ্লি−ষ্ট বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মজুমদার বলেন, এবার একেবারে প্রথম দিন থেকেই আড়াই থেকে তিন হাজার রোজাদার এসেছেন। ইফতার করছেন। কেউ কারও পূর্ব পরিচিত নন। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। কিন্তু কোন বৈষম্য নেই। সবাই মিলে মিশে সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে ইফতার করেছেন। বেশি মানুষ একসঙ্গে ইফতার করলে সোয়াব বেশি জানিয়ে তিনি বলেন, এ কারণেও অনেকে এখানে ইফতার করতে আসেন। ইফতারের আয়োজন রোজার শেষ দিন পর্যন্ত চালু ছিল বলে জানান তিনি। - জনকণ্ঠ

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com