ধরলা সেতুর উদ্বোধন

প্রকাশের সময় : 2018-07-13 12:28:35 | প্রকাশক : Admin
ধরলা সেতুর উদ্বোধন

সিমেক ডেস্কঃ গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার ধরলা নদীর ওপর নির্মিত উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু ‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’ উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে। অবশ্যই একই বছর উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে ওঠার আমাদের স্বপ্ন সফল হবে। কেউই এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে রুখতে পারবে না। আমি হয়ত আমার জীবদ্দশায় তা দেখে যেতে পারব না, কিন্তু নতুন প্রজন্ম আমাদের এই কাজের সুফল ভোগ করবে।

কুড়িগ্রাম, রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার মানুষের জন্য এই সেতুকে ‘ঈদ-উল ফিতরের উপহার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও রংপুর অঞ্চলের মানুষের জন্য এই সেতুটি আমার পক্ষ থেকে ঈদের উপহার হিসেবে নেবেন। আপনারা এই সেতু রক্ষণাবেক্ষণ করবেন, দেখেশুনে রাখবেন। এই সেতুর ফলে এ এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার হবে। মানুষের যোগাযোগ অনেক সহজ হয়ে উঠবে।

প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটির শুভ উদ্বোধনের পর সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করা হয়। এ উপলক্ষে সেতুর দুই পাড়ে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট অংশে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভিডিও কনফারেন্সে হাজার হাজার মানুষ বড় পর্দায় প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখার জন্য বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ভিড় জমায়। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলে সেতুটি উদ্বোধন ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন দুই জেলার হাজার হাজার জনগণ।

কুড়িগ্রাম এলজিইডির তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থ ও প্রযুক্তিতে এই গার্ডার সেতুটি নির্মিত হয়েছে। ১৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৫০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু। এই সেতুটি উত্তর ধরলার তিনটি ইউনিয়নসহ কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর এই সেতুটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। এই সেতুটির মাধ্যমে ভুরুঙ্গামারী স্থলবন্দর থেকে সরাসরি ঢাকার সঙ্গে প্রায় ৯০ কিলোমিটার পথ কমে গেল। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে বড় ভূমিকা রাখবে ব্রিজটি। এই সেতু নির্মাণের ফলে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

দীর্ঘদিন অবহেলিত উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কুড়িগ্রাম তো একসময় মঙ্গা পীড়িত এলাকাই ছিল। সেখানে দুর্ভিক্ষ লেগেই থাকত। আজকে আমরা এইটুকু দাবি করতে পারি, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে এসে ওই এলাকা থেকে মঙ্গা দূর করেছিল। তিনি বলেন, আমি সমগ্র বাংলাদেশ সফর করেছি। কুড়িগ্রাম লালমনিরহাটের প্রত্যেকটি উপজেলায় আমি গিয়েছি এবং তখনই এই যাতায়াত করতে গিয়ে দেখেছি কী অবহেলিত ছিল এই এলাকা।

ওই সময় কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে যাওয়ার ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, এক একটি এলাকা এতই অনুন্নত ছিল। যখন রাজীবপুরে গেলাম, সেখানে চলাচলের কিছু নেই। এমনকি একটি ভাল রাস্তাও নাই। রিক্সা ভ্যানও পাওয়া যায় না। এ রকম একটা অবস্থা ছিল। পায়ে হেঁটে হেঁটে যেতে হতো। ধরলা নদী পার হতে গেলে তখন বহু সময় লাগত। দুই খানা নৌকা বেঁধে তার ওপর গাড়ি বেঁধে পার করা হতো।

লালমনিরহাট সফরের অতীত স্মৃতি স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেকটি উপজেলা আমি গিয়েছি। সেখানে দেখেছি মানুষের কি দুরবস্থা। রংপুর কুড়িগ্রাম। মঙ্গা এলাকা সব সময় বলাই হতো। বিভিন্ন জায়গায় আমি ঘুরেছি। আমি মানুষের চেহারা দেখেছি হাড়ের সঙ্গে চামড়া লাগানো। পেট-পিঠ একসঙ্গে। শীর্ণ বস্ত্র পড়া। পেটে খাবার নাই। এ ধরনের দুর্ভাগা অবস্থায় ছিল ওই সব অঞ্চলের মানুষ। প্রতি বছর ওখানে দুর্ভিক্ষ লেগেই থাকত। আমরা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ছুটে গেছি। লঙ্গরখানা খুলেছি। সাহায্য করেছি। আমরা তখন বিরোধী দলে, কতটুকু করা যায়। এমনকি যখন সংসদের সদস্যও না তখনও গিয়েছি। এই রকম একটা অভিজ্ঞতা আছে প্রত্যেকটি এলাকায় ঘুরে ঘুরে। যখন যেখানে গিয়েছি চিন্তা করেছি কীভাবে এ সব অঞ্চলের মানুষের উন্নতি করা যেতে পারে।

আওয়ামী লীগ জনগণকে দেয়া ওয়াদা রাখে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ধরলা নদীর ওপর প্রথম সেতুটিও আওয়ামী লীগ ১৯৯৬-০১ সাল মেয়াদে সরকারে থাকার সময়ই নির্মাণ করেছিল। কিন্তু মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সেতুটি উদ্বোধন করে যেতে পারিনি। পরবর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মাস দুয়েকের মধ্যে উদ্বোধন করে।

এতদিন ধরলা নদীর কারণে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলা থেকে ফুলবাড়ী উপজেলা বিচ্ছিন্ন ছিল। সেতুটি নির্মাণের ফলে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী, নাগেশ^রী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষ স্বল্প সময়ে বিভাগীয় শহর রংপুর যাতায়াত করতে পারবে।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com