প্রসংগ; কল্পনাশক্তি পৃথিবীকে শাসন করে

প্রকাশের সময় : 2018-07-25 18:46:27 | প্রকাশক : Administrator
�প্রসংগ;  কল্পনাশক্তি পৃথিবীকে শাসন করে

মুজাহিদুর রহমান: অনেকদিন ধরে লেখাটি লেখার কল্পনা করে যাচ্ছি। 'কল্পনা'র স্বপ্ন। নিজেকে নিয়ে নতুন রাজ্য গড়ার স্বপ্ন। কল্পনাশক্তি আছে বলেই আমরা জন্তু-জানোয়ারের চেয়ে আলাদা। ওদের শুধু দৃষ্টি শক্তিটুকুই আছে। পৃথিবীকে শাসন করার কল্পনা শক্তি নেই। তাইতো কত কত বিশাল দেহের জন্তু-জানোয়ার থাকা সত্ত্বেও ক্ষুদ্রকায় মানুষ আজ অবদি পৃথিবী শাসন করে যাচ্ছে।

রিকান অরভিল রাইট এবং উইলবার রাইট। আপন দু'ভাই। উড়োজাহাজের আবিষ্কারক। তাদেরও নিয়ে ঘাঁটলাম। ছোট থেকেই ওরা ছিল কল্পনাপ্রবণ। ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে দু'ভাই ইচ্ছে করলেন, এমন একটি যান বানাবে যা আকাশ পথে চলবে। তাদের ইচ্ছে যখন মানুষেরা শুনল, তখন সকলেই হাসাহাসি করল। এ কী করে সম্ভব!

সবকিছু উপেক্ষা করে ওরা চেষ্টা চালাতে লাগল। ওদের আগে এ নিয়ে যত গবেষণা হয়েছিল সমস্ত বিবরণ পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করল। এতে অনেক ভুল ধরা পড়ল। সবশেষ বুঝতে পারে কল্পনার সঙ্গে প্রচুর অধ্যবসায়  করতে হবে। এভাবে দীর্ঘ সাত বছর কল্পনার সঙ্গে অধ্যবসায়  আর অধ্যবসায়ের সঙ্গে কল্পনা মিশিয়ে বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে হাজার হাজার মানুষকে সাক্ষী রেখে প্রায় বারো সেকেন্ড আকাশে উড়ে রাইট ভ্রাতৃদয়ের প্রথম বিমান। হাসাহাসি করা মানুষগুলোই আজ পৃথিবীতে নিশ্চিহ্ন, বিস্মৃত। কিন্তু যাদের নিয়ে হাসা হলো ওরা আজ বইয়ের পাতায় জীবিত। ওদের ওই কল্পনা শক্তির কল্যাণে কত দ্রুত আমরা এদেশ-ওদেশ ঘুরে বেরাচ্ছি! দুশো, তিনশো বছর আগে দূরে কোনো প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা ছিল দুর্বোধ্য ব্যাপার। চিঠি আদান-প্রদান বৈ কোনো দ্রুতগামী ব্যবস্থা ছিল না। চিঠি পৌঁছা, পত্রপাঠ শেষে সেই চিঠির উত্তর দেওয়া অনেক সময়ের ব্যাপার ছিল। কখনো মাস বা কখনো বছর অবদি লেগে যেত। আমি, আপনি কেউ এখন তা ভাবতেও পারি না।

আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট 'বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট' যখন তার গন্তব্যের দিকে যাত্রা করল সেই সুদূর আমেরিকা থেকে, তখন আমরা কিন্তু ঘরে বসে সরাসরি ওই যাত্রার সাক্ষী হয়ে থাকলাম। এ সবগুলোর মূলনীতি হলো 'বেতার'। ইতালীয়ন বিজ্ঞানী গুগলিয়েলমো মার্চেজ মার্কনি বেতারের জনক। ছোটকাল থেকেই পদার্থ বিজ্ঞানের প্রতি প্রচন্ড ঝোঁক ছিল। অল্প বয়েসে চারতলা থেকে বোতাম টিপে নিচতলায় বেল বাজান। কিন্তু ইতালি সরকার তার এ কাজের গুরুত্ব দেননি। তাই বাবার পরামর্শে চলে যান ইংল্যান্ড।

গুগলিয়েলমো মার্চেজ মার্কনি বিশ বছর বয়সে মার্কিন বিজ্ঞানী হার্জের একটা প্রবন্ধ থেকে জানতে পারেন যে, সদ্যপ্রয়াত এক বৈজ্ঞানিক এমন একটা বৈদ্যুতিক যন্ত্র বের করতে পেরেছেন, যার সাহায্যে ঘরের একদিক থেকে প্রেরিত বৈদ্যুতিক তরঙ্গ বিনা তারে ঘরের অন্যদিকে আগুনের ফুলকি জ্বালিয়ে দেয়। মার্কনি হার্জের মতো বৈদ্যুতিক যন্ত্র তৈরীর চিন্তায় বিভোর হয়ে থাকলেন। মার্কনির কাজ শুরু হলো লন্ডন জেনারেল পোস্ট  অফিসের একটি কক্ষ থেকে পাশের বাড়ির কাছে বার্তা প্রেরণের মধ্য দিয়ে।

এটুকুতে তার মন ভরেনি। কল্পনা করলেন আটলান্টিকের এপার থেকে হাজার হাজার মাইল দূর ওপারে তারবিহীন বার্তা পাঠাবেন। তখনকার অন্য বিজ্ঞানীরা তার এ কথা শুনে টিপ্পনি কাটল। তারা ভাবল, ভূপৃষ্ঠের বক্রতার জন্যে এতদূর তারবিহীন বার্তা প্রেরণ সম্ভব না। কিন্তু মার্কনি তার কল্পনাশক্তিকে শ্রদ্ধা করল। কয়েক বছর কঠিন অধ্যবসায়ের পর কল্পনাশক্তিকে বাস্তবে রুপ দেয়। এই সফলতার জন্যেই আজ 'হ্যালো' বললে হাজার হাজার মাইল দূরে ওপারে থাকা প্রিয়জনও 'হ্যালো' বলে উঠে।

এবার বলি আমাদের কথা। আমার বন্ধুদের মধ্যে বা পরিচিতদের মধ্যে যারা ছাত্র হিসেবে ভালো তাদের স্বপ্ন হলো বড়জোর বি.সি.এস ক্যাডার। এই হলেই যেন তাদের জীবন সার্থক। আর যারা একটু দুর্বল ডিফেন্স যেন তাদের জীবনের আশা-ভরসা। যুবসমাজ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে সরকারি একটা চাকরির জন্যে। অঘোষিত, অলিখিত কিছু নিয়ম আমাদের দেশে চালু হয়ে গেছে।

শতাব্দীর পর শতাব্দী তাদের নাম বেঁচে থাকুক, তাদের সুকর্মের সুফল মানুষের জীবনের গতি বাড়িয়ে দিক এগুলো তাদের কল্পনাতীত। তারা শুধু মৌসুমি ফুলের মতো দু'দিনের মনোযোগ চায়। এর পিছনে আমাদের পরিবার যত'টা দায়ী তার'চে কম দায়ী নয় রাষ্ট্রের শিক্ষা অভিভাবকরা। কখনো কোনো ক্লাসে শিক্ষকগণ যেমন এ নিয়ে আলোচনা করেন না, তেমনি কোনো পাঠ্যবই'য়ে এর প্রতি আমাদের উৎসাহিত করার মতো কোনো উপযুক্ত লেখা পড়িনি।

বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা অন্য দেশে হতে নিজেদের দেশে নিয়ে যাচ্ছে বিল গেটস, জাকারবার্গ, ইলন মাস্ক'রা। এ টাকা তারা তাদের কল্পনা শক্তিকে কাজে লাগিয়েই নিয়ে নিচ্ছে। আর আমরা ঘরের টাকা ঘরের লোকের হাত বদলিয়ে বদলিয়ে ধনী হবার চেষ্টা করছি। পানিতে রেখা টানার মতো নিছক চেষ্টা বৈকি। আমরা কি একটু ভাবতে পারি না! আমাদের কল্পনা শক্তি কাজে লাগিয়ে দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে পারি না!

সবশেষে বিনীত অনুরোধ দেশের শিক্ষা অভিভাবকদের কাছে। আপনারা আমাদের একটু সহযোগিতা করে দেখুনি না, আমরা কি করতে পারি। আপনারা পাশে থাকলে আগামী দশ বছরের মাঝেই ইনশাআল্লাহ আমরা বাঙালিরাই পৃথিবী শাসন করব। কেন জানেন? কারণ মন্ত্র'টা আমরা জেনে গেছি। 'কল্পনাশক্তি পৃথিবীকে শাসন করে'।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com