আচারে অনাচার! কালচারে আলসার!!

প্রকাশের সময় : 2018-08-18 15:53:35 | প্রকাশক : Admin
�আচারে অনাচার! কালচারে আলসার!!

ইঞ্জিঃ সরদার মোঃ শাহীনঃ বাঁচা গেল! কঠিন বাঁচা বাঁচা গেল!! বিশ্বকাপ ফুটবল শেষ হলো যেন এক মহাবিশ্রী অবস্থা থেকে বাঁচা গেল। হাফ ছেড়ে বেঁচে গেলাম আমরা, বেঁচে গেল বাংলাদেশ। সত্যিই কপাল ভাল আমাদের; শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিশ্বকাপের ফাইনালে ছিল না। থাকলে নির্ঘাত প্রলয়কান্ড ঘটে যেত। সেভেনআপ আর মুরগীর ডিমে শহর, বন্দর, গ্রামগঞ্জ লেপটে যেত; মেখে একাকার হয়ে যেত। যা করেন আল্লাহপাক ভালোর জন্যেই করেন। কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছার আগেই বাংলাদেশকে বিদায় করেছেন। নানান অপ্রত্যাশিত অঘটন ঘটিয়ে একেবারে সদলবলে বিদায় করেছেন!

পৃথিবীতে একমাত্র জাতি হলো বাঙালী, যারা নিজেরা বিশ্বকাপ না খেলেও হাঁফাতে পারে। জাতি এবং দেশকে কাঁপাতে পারে। এবারের বিশ্বকাপে অন্যদেশের সাপোর্টার সেজে পূরো দেশকেই কাঁপিয়ে দিয়েছে। পারলে বিশ্বকেও কাঁপিয়ে দিত। ভাগ্যিস পারেনি। তারপরেও দমে থাকেনি। দমে থাকার পাত্র তো আমরা নই। নাওয়াখাওয়া ছেড়ে রাজনীতির মাঠের মত জাষ্ট দুটো দলে ভাগ হয়ে দিনরাত দেশকে ভাগ করেছি। “আরো জোরে হেইও” স্টাইলে নিজের জানা যত কৌশলী কটুক্তি আছে, সব প্রয়োগ করেছি অপর পক্ষের উপর।

এবং সন্দেহাতীত ভাবেই প্রমান করেছি এখানে খেলাটা কোন ইস্যু নয়; খেলা দেখাটা কোন বিনোদন নয়। বিনোদন হলো একটা কিছুর উছিলায় ভাগাভাগি করা; লাগালাগি করা। বাঙালী সব সময় উছিলা খোঁজে। রেশারেশি কিংবা লাগালাগির উছিলা। কোন দল বা দেশকে সাপোর্ট করে খেলা দেখাটা মূখ্য নয়। লাগালাগি করাটাই মূখ্য। নেচেকুদে অপরপক্ষকে ইচ্ছেমত ঘায়েল করাটাই বিনোদন। সবকিছু দেখে মনে হয়েছে, এবার বিশ্বকাপের খেলা হয়েছে দুটো দেশে; বাংলাদেশ এবং রাশিয়া। রাশিয়ায় খেলেছে খেলোয়ারগণ। আর বাংলাদেশে খেলেছে তথাকথিত সমর্থকবৃন্দ।

দূর্ভাগ্যজনক হলো, আমার শোনিম এই দুটো দেশের বাইরে বিশেষ একটি দেশকে সমর্থন করেছে এবং চেষ্টা করেছে নিয়মিত খেলা দেখতে। কিন্তু খেলা যে বাংলাদেশও খেলছে কিংবা বাংলাদেশেও হয়েছে এটা প্রথম দিকে ও বুঝতে পারেনি। যখন পেরেছে, তখন শুধু মিটমিট করে হেসেছে। কিছু বুঝে হেসেছে, নাকি হেসে আমাকে কিছু বুঝিয়েছে, কে জানে! বিষয়টা আমার কাছে রহস্যই রয়ে গেছে। আগে আমাদের দেশে বড়রা রহস্যময় আচরন করতো। এখন বাচ্চারা করে। বড়রা করে না; করতে পারে না। লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে যা করে, প্রকাশ্যেই করে। খোলামেলা ভাবেই করে।

খোলামেলা ভাবে করে তথাকথিত সেলিব্রেটিরাও। সব সেলিব্রেটিরা না করলেও অনেকেই করে। ক্ষেত্রবিশেষে বরং আরো বেশী করে। সামজিক শিক্ষার অভাবেই করে। বাংলাদেশে সেলিব্রেটিদের মধ্যে    অনেকে আছেন যারা সমাজের মাথা, দেশের সম্পদ; তাদের নিয়ে গর্ব করা যায়। তাঁরা দেশের অহংকার। জ্ঞানেগরিমায় কিংবা বিদ্যাবুদ্ধিতে তাঁরা অসাধারণ। তাঁদের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই তথাকথিত সেলিব্রেটিদের কথা বলছি। না বলে উপায় নেই; তাই বলছি।

ওইসব সেলিব্রেটিদের যোগ্যতা বলতে তেমন বিশেষ কিছু না। জন্মগত বাহ্যিক রূপের উপর শসা দিয়ে ঘষা সৌন্দর্য্য, অভিনয় করার অভিপ্রায়, আর মিডিয়ার জানাশোনা কিছু মিডিয়া। কিংবা খেলার মাঠে মোটামুটি বোলিং বা ব্যাটিং করতে পারা। এসবে লেগে থাকলে সুযোগ অবধারিত। জাষ্ট এইটুকু দিয়ে সুযোগ পেয়ে প্রতিষ্ঠা পাবার আগেই ঢং শুরু হয়। প্রথমে পাল্টায় কথার ঢং। মুখটা বাঁকিয়ে আধাবাংলা-আধাইংলিশ মিলিয়ে কীসব বলে! আর কথার ফাঁকে ফাঁকে একটু নাকে হাত দেয়। এটাও ঢংয়ের ষ্টাইল। এরপর উড়তে চায় তরতর করে। গাছে ওঠার ক্ষমতা না থাকলেও নিজেদেরকে ফরফর করে প্রথমে আকাশে নিয়ে উড়ায়। সূতায় বাঁধা ঘুড়ি যতটুকু উঠতে পারে; ওরা ততটুকুও পারেনা।

এরূপ ঘুড়ি হবার তীব্র আকাঙ্খা ওদেরকে এতটাই মাতাল করে দেয় যে, জীবনযাপনে হিতাহিত জ্ঞানশুণ্য হয়ে পড়ে। বেসামাল হয়ে যায়। গোপনেই মানায় এমন সবকিছু কখন প্রকাশ্যে নিয়ে আসে, তা নিজেরাও জানে না। ভাবসাবে বোঝাই যায় না, ওদের হুশ আছে। বেহুশের মত সব করে। নিজেদের চরিত্রকে উলঙ্গ করে ফেলে। ভাবসাব এমন যেন ওরা সবকিছুর উর্ধ্বে। ওদের জন্যে সব অনাচার সিদ্ধ। অথচ ওদের খেয়াল থাকেনা, জমিনে থেকে আমজনতা আস্মানের সব ঘুড়িকে দেখছে। একেবারে খোলামেলা ভাবেই দেখছে। দেখছে ওদের সব নোংরামী, ভন্ডামী।

এসব নোংরামী তারা ঢাকঢোল পিটিয়েই করে। মিডিয়াকে গায়ে পড়ে জানায়। আর স্যোসাল মিডিয়া তো বসেই থাকে। সবকিছু লুফে নেয়। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক; প্রকাশ্যে লিভটুগেদার করছে। কিন্তু মুখে স্বীকার করেনা। ভাবখানা এমন যেন আকাশ থেকেই পড়েছে। সে কী খুনসুটি!  ক্যামেরার সামনে খুনসুটি করে আর মিটিমিটি হেসে বলে, “হায় আল্লাহ! কী বলেন!! আমরা সহকর্মী; জাষ্টফ্রেন্ড।” কিন্তু ফেসবুকে অন্তরঙ্গ ছবি দিয়ে মাখিয়ে ফেলে। এভাবে চলে কিছুদিন। হঠাৎ স্ট্যাটাস চেঞ্জ; বিবাহিত। কিন্তু বোঝার উপায় নেই, বিবাহটা হলো কবে কিংবা কিভাবে।

যখন যেভাবেই হোক, পাবলিক জানার সাথে সাথেই শুরু হয় আবালদের অভিনন্দনের লাইন; ইন্টারভিউয়ের জোয়ার। এখানেও কথার লুকোচুরি। আধাসত্যি আধামিথ্যে বানিয়ে লুকোচুরি করা হয়। এভাবে চলতে চলতে একদিন আবার হঠাৎ সব চুপ। দুজনকে একসাথে আর দেখা যায় না। এরপর আবার স্ট্যাটাস চেঞ্জ; সিংগেল। শুরু হয় কাঁদা ছোড়াছোড়ি। আস্তে আস্তে এর দোষ ও লিখে, ওর দোষ এ। ফাইনালি যে দোষটা গড়গড় করে বেরিয়ে পরে তা হলো, দুজনার পরকীয়া একটু বেশী ওপেন হয়ে পরাতে এক ছাদের নীচে আর থাকতে পারলো না। 

লক্ষ্যণীয় হলো, এখানেও সামান্য লজ্জা শরমের বালাই নেই। কিন্তু এসব বিবেচনায় না নিয়ে শুরু হয় আফসোস্। তথাকথিত ভক্তদের আফসোস্রে কমেন্টসে ফেসবুক ভরে ওঠে। পত্রিকা, টিভিতে হেডলাইন হয়। তারা ইন্টারভিউ দিতেও আসে। স্বামীস্ত্রীর সম্পর্কে ভাটা, কিংবা তালাক হয় হয়। এসব নিয়ে তাদের চেহারায় সামান্য টেনশান নেই। মেকআপ মেখে, গেটআপ নিয়ে দিব্বি হাসতে হাসতে ইন্টারভিউ দেয়। এবং সবাই লাস্টলি একটি কমন কথা বলে, “ও আমার বিশ^স্ত ভাল বন্ধু। ডির্ভোস হলেও খুব ভাল বন্ধু হিসেবেই ও থাকবে।”

হিপোক্রেসী কাকে বলে! তালাকের পরেও ভাল বন্ধু হিসেবে থাকা যায়! এটা বলতেও লজ্জা হয় না! বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক চলছে। কিন্তু এটা বলতে কিংবা প্রকাশ করতেও লজ্জা নেই। আলাদা থাকা শুরু হয়েছে। এটাও মিডিয়ার একটি ইভেন্ট হয়! শেষমেষ যখন ডিভোর্স অবধারিত হয়, এটা হয় বড় ইভেন্ট। অনেক ক্ষেত্রেই বোঝাপরার ভিত্তিতে হয় বটে। তবে সর্বক্ষেত্রে নয়। যেখানে মতের ভিন্নতা হয়, সেখানে হয় ক্যাচাল। এটা হয় আরো বড় ইভেন্ট।    

এই পর্যন্ত এমন ধরনের এবং হরেক রকমের নোংরামী দেখেই আমরা এতদিন অভ্যস্ত ছিলাম। এবার যুক্ত হয়েছে বিশেষ ভন্ডামী। ঐসব সেলিব্রেটিরা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে কিংবা প্রেস ডেকে প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য প্রার্থনা করে। নিজেদের অবলা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী যেন সদয় দৃষ্টিতে বিষয়টি দেখেন। বিশেষ করে ভুক্তভোগী মেয়েরা এটা বেশী করে। একটি উন্নয়নশীল দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রচন্ড ব্যস্ততার মাঝেও দেশের কাজ ফেলে একজন নাগরিকের প্রাইভেট লাইফের যাবতীয় অবৈধ কর্মকান্ডের শালিশ করবে।

লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে সকল প্রকার রাষ্ট্রীয় আইন কিংবা সামাজিক অনুশাসনকে বৃদ্ধাঙুল দেখিয়ে অসামাজিক, উচ্ছৃঙ্খল এবং অবৈধ কাজ চালিয়ে যায় দিনের পর দিন। ইচ্ছেমত উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করে। তখন সব হয় সবলার ব্যক্তিগত বিষয়। ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়। যেদিন থেকে আনন্দে ভাটা পরে, কিংবা বিশ্বাস অবিশ্বাসের দ্বন্দ শুরু হয়, সেদিন এসব আর ব্যক্তিগত থাকে না। হয় একজন অবলার মহাবিপদের বিষয়; সামাজিক তথা রাষ্ট্রীয় বিষয়। তাই রাষ্ট্র তথা সমাজের কাছে বিচার চায়; পক্ষপাতহীন ন্যায় বিচার ।

আমরা নিজেরা মাঝেমধ্যে অন্যের প্রতি অন্যায় করলেও, অন্যের কাছে সব সময় ন্যায় বিচার আশা করি। এটা আচার নয়; অনাচার। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপের অনাচার থেকে বাঁচা গেলেও সেলিব্রেটিদের তথাকথিত কালচার নামক অনাচার থেকে বাঁচার উপায় নেই। ইতিমধ্যেই এসব কালচারে আলসার হয়েছে। গড়ে মাসে দুটো করে কেস জাতির বিবেকের কাছে আসছে। আসাটা বেড়েই চলেছে। এখন বোধ হয় আর চুপ করে থাকার সময় নেই। এখন বলা দরকার, শক্ত করে কিছু একটা করা দরকার। দরকার এসব উপদ্রুপ থেকে জাতিকে দ্রুততম সময়ে মুক্তি দেয়া। যাতে দেশ ও জাতি নুন্যতম সম্মান নিয়ে থাকতে পারে। এই হোক ঈদুল আজহার ব্রত! ঈদ মোবারক!!

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com