ছয় হাজার মেগা বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ শুরু বিনিয়োগ হচ্ছে ৬০ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশের সময় : 2018-08-18 17:25:52 | প্রকাশক : Admin

সিমেক ডেস্কঃ বিদ্যুত খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হচ্ছে। বাংলাদেশ বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), দেশের বেসরকারী কোম্পানি সামিট পাওয়ার, মার্কিন কোম্পানি জেনারেল ইলেক্ট্রিক (জিই) এবং জাপানের মিৎসুবিসি কর্পোরেশন যৌথভাবে এই বিনিয়োগ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের  বিদ্যুত খাতের সব থেকে বড় চুক্তি এটি। ইউরোপের সিমেন্স এর পরে এটিই হবে দেশের বিদ্যুতখাতে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। দুটি ভিন্ন প্রকল্পে মহেশখালীতে মোট ছয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্রের সঙ্গে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির জন্য স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

এ নিয়ে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। সামিট এবং জিই আরের মধ্যে প্রথম এমওইউটি সই হয়। সামিট পাওয়ার জিইর সঙ্গে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট এলএনজি ভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করবে। সামিট এবং জিইর সঙ্গে প্রকল্পটিতে জাপানের মিৎসুবিসি কর্পোরেশন অংশীদার হিসেবে থাকছে। দ্বিতীয় এমওইউটি সই হয়েছে বিদ্যুত ভবনে। যেখানে জিইর সঙ্গে পিডিবি যৌথভাবে তিন হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করবে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জানানো হয় তিন হাজার ৬০০ মেগাওয়াট প্রকল্পের ৫১ শতাংশ অংশীদারিত্ব থাকবে পিডিবির হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে ৩০ ভাগের মালিকানা পাবে জিই। এছাড়া ১৯ ভাগ পিডিবি এবং জিইএর সমাঝোতার ভিত্তিতে অন্য কোম্পানিকে দেয়া হবে। মূল কাজের মধ্যে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা জরিপের সঙ্গে মহেশখালীতে ৫ হাজার ৬০০ একর ভূমি উন্নয়ন। তিন হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনা, এলএনজি আমদানি অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। তবে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন করা যাবে। প্রকল্পটির ভূমি উন্নয়নে এক দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার এবং বিদ্যুত কেন্দ্র এবং এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে দুই দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হবে। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।

অন্যদিকে দেশের বেসরকারী খাতের বিদ্যুত উৎপাদনকারী সব থেকে বড় কোম্পানি সামিট পাওয়ার, জেনারেল ইলেক্ট্রিক (জিই) কোম্পানি ও জাপানের মিতসুবিশি কর্পোরেশন মিলে তিন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি করেছে। দেশীয় মুদ্রায় এই বিনিয়োগের পরিমান ২৪ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় জিইর প্রধান পণ্য এনএইচএ গ্যাস টারবাইন ব্যবহার করে ৬০০ মেগাওয়াট করে মোট দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার চারটি ইউনিট নির্মাণ করা হবে। এখানে মোট তিন লাখ ৮০ হাজার ঘনমিটার গ্যাস মজুদ ক্ষমতার দুটি এলএনজি টার্মিনাল, একলাখ মেট্রিক টন ক্ষমতার একটি তেলের সংরক্ষণাগার এবং ৩০০ মেগাওয়াটের একটি ফার্নেস অয়েল চালিত বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

সরকার মহেশখালীতে বিদ্যুত হাব নির্মাণ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। শুরুতে মহেশখালীতে ১০ হাজার মেগাওয়াটের কয়লা চালিত বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে কয়লার পাশাপাশি সেখানে এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। ইতোমধ্যে মাতারবাড়িতে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি একটি ১২০০ মেগাওয়াটের কয়লা চালিত বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু করেছে।

চট্টগ্রামের মহেশখালীতে বিদ্যুৎ হাব নির্মাণ করার সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। দীর্ঘমেয়াদি এ পরিকল্পনায় শুরুতে সেখানে ১০ হাজার মেগাওয়াটের কয়লাচালিত বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে কয়লার পাশাপাশি সেখানে এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com