মাহাথির মোহাম্মদের জীবনের গল্প

প্রকাশের সময় : 2018-08-18 17:26:51 | প্রকাশক : Admin
মাহাথির মোহাম্মদের জীবনের গল্প

সিমেক ডেস্কঃ মাহাথির মোহাম্মদ সারা বিশ্বের কাছে এক নামে পরিচিত। তাকে বলা হয় আধুনিক মালয়েশিয়ার রুপকার। পুরো নাম মাহাথির বিন মোহাম্মদ। মালয়েশিয়ার মতো দরিদ্র রাষ্ট্রকে তিনি রূপান্তর করেছেন একটি অত্যাধুনিক রাষ্ট্রে। তিনি সমগ্র বিশ্বের রোল মডেল, সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। তিনি ২২ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০০৩ সালে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তার জন্যই আবারো ৯২ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। সম্প্রতি দেশটির ১৪ তম সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হন তিনি। সফল রাষ্ট্রনায়ক মাহাথির মোহাম্মদ এর জীবন সম্পর্কে আলোচনা থাকছে আজ। মাহাথির মোহাম্মদ ১৯২৫ সালের ১০ জুলাই মালয়েশিয়ার উত্তরঞ্চলীয় শহর এ্যালোর সেটরে জন্মগ্রহণ করেন। ভাই বোনদের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। পিতা মোহাম্মদ ইস্কান্দার। তার বাবা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। ১৯৫৫ সালের ৫ আগস্ট তিনি সিতি হাসমাহকে বিয়ে করেন। তাদের ৭ জন সন্তান রয়েছে।

মাহাথির মোহাম্মদের পড়াশোনা শুরু হয় মালয় স্কুলে। এরপর ভর্তি হন শহরের একটি ইংরেজি স্কুলে। ছোট বেলায় তাদের বাসায় একজন ধর্ম শিক্ষক ছিল। তিনি মাহাথিরকে পবিত্র কোরআন এবং ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বিষয় শিক্ষা দিতেন। কলেজের গন্ডি পেরিয়ে তিনি ভর্তি হন ‘সিঙ্গাপুর কিং এ্যাডওয়ার্ড কলেজে। সেখানে চিকিৎসা বিষয়ে পড়াশোনা করেন।

পড়াশোনা শেষ করার পর ১৯৫৩ সালে সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় ফিরে আসেন। চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেন সরকারি চাকরিতে। এক সময় সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে তার নিজ গ্রামে এ্যালোর সেটর এ মাহা ক্লিনিকে কাজ শুরু করেন। ১৯৭৪ সালের নির্বাচনে জয় লাভ হবার আগ পর্যন্ত তিনি চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন।

কলেজে পড়ার সময় থেকেই রাজনীতিতে তার আগ্রহের জন্ম হয়। চিকিৎসক হওয়ার সুবাদে খুব সহজেই সাধারণ মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ হয়েছে তার। ১৯৬৪ সালে তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তখন তার বয়স ছিল ৩৯ বছর। ১৯৬৯ সালে তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নিজ দলের প্রধান এবং মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী টেংকু আবদুর রহমানের সাথে মতের অমিলের কারণে ৩ বছর রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন। মাহাথির মোহাম্মদ রাজনীতিতে আবার ফিরে আসেন ১৯৭২ সালে। ১৯৭৪ সালের নির্বাচনে জয় লাভ করার পর তিনি শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮১ সালে মালয়েশিয়ার চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৭৬ সালে উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮১ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবার পর ২২ বছর ক্ষমতায় ছিলেন মাহাথির মোহাম্মদ। দীর্ঘ ২২ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০০৩ সালে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। ১৫ বছর পর মাহাথির মোহাম্মদ আবারো মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। গত ৯ মে মালয়েশিয়ার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের দল বারিসান ন্যাশনালকে (বিএন) হারিয়ে মাহাথির মোহাম্মদের জোট জয় লাভ করে। নির্বাচিত হবার পরদিন শপথ নেন তিনি । এটা ছিল মালয়েশিয়ার ১৪ তম সাধারণ নির্বাচন।

৯২ বছরে বয়সে প্রধানমন্ত্রী হওয়াটাই জানান দেয় তার জনপ্রয়িতা। সবচেয়ে বেশি বয়সে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে সারা বিশ্বে তাক লাগিয়েছেন তিনি। সততা, দক্ষ নেতৃত্বের কারণেই বারবার ক্ষমতায় এসেছেন। প্রমাণ করলেন লক্ষ্য অর্জনে বয়স কোনো বাধা নয়। মাহাথির মোহাম্মদ এশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ সময় গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী।

মাহাথির মোহাম্মদকে বলা হয় আধুনিক মালয়েশিয়ার রুপকার। আজকের মালয়েশিয়ার যে আমূল পরিবর্তন দেখছেন তা মাহাথির মোহম্মদের অবদান। ১৯৮১ সালে প্রধানমন্ত্রী নিবার্চিত হবার পরবর্তী ২২ বছরের শাসনামলে তিনি মালয়েশিয়াকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে করেছেন সমৃদ্ধ। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়ার আর্থ সামাজিক অবস্থা খুবই নাজুক ছিল। তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেন।

শিক্ষা ক্ষেত্রে তার অবদান ভুলবার নয়। তার আমলে মালয়েশিয়ানদের শিক্ষার ৯৫ শতাংশ খরচ সরকার বহন করতো। মালয়েশিয়ার মুসলিমদের জন্য তিনি ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেন। তার দক্ষ নেতৃত্বে দরিদ্র রাষ্ট্র থেকে মালয়েশিয়া পরিণত হয় বিশ্বর ১৪তম অর্থনৈতিক রাষ্ট্রে। তার আমলে সব ধর্মের লোকেরা সমানভাবে রাষ্ট্রে স্বাধীনভাবে বসবাসের সুযোগ পায়। মাহাথির মোহাম্মদের ‘ভিশন টোয়েন্টি টোয়েন্টি’ সারা বিশ্বের মানুষের কাছে প্রশংসিত হয়।

দীর্ঘ ২২ বছরের ক্ষমতায় মাহাথির মোহাম্মদের মালয়েশিয়ার ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। মাহাথির মোহাম্মদ তার দায়িত্ব পালনে ছিলেন সচেষ্ট। সময়ের কাজ তিনি সময়েই সম্পন্ন করতেন। তার দক্ষ নেতৃত্বের জন্যই মালয়েশিয়া আজ এত উন্নত। তার মতো দেশপ্রেমিক ক্ষমতায় থাকুন কে না চায়? তাই তো সুযোগ পেলেন আবারো মালয়েশিয়াকে আরও সুন্দর করে গড়ার।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com