‘মেধা যার, চাকরি তার’ এবং ‘জোর যার, মুল্লক তার’

প্রকাশের সময় : 2018-08-29 21:25:52 | প্রকাশক : Admin

প্রভাষ আমিনঃ আরেকটি খুবই জটিল এবং বিভ্রান্তিকর বক্তব্য হলো, কোটা আর মেধাবী। মনে হয় কোটা মানেই অমেধাবী। ব্যাপারটি মোটেই তা নয়। কোটা সুবিধা পেতে হলেও তো মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের, নারীদের, উপজাতিদের একটি ন্যূনতম যোগ্যতা অর্জন করেই আসতে হয়। প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষা পর্যন্ত সবাইকে লড়তে হয় সমানতালেই। কোনো মুক্তিযোদ্ধার এসএসসি পাশ ছেলে বা তৃতীয় শ্রেণি পাওয়া উপজাতি কেউ তো আর ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে যাচ্ছে না। বলা উচিত কোটা আর নন কোটা। সবাই তো মেধাবী। নইলে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পান কিভাবে? হয়তো উনিশ আর বিশ। যখন উনিশ আর বিশ, তখন আমার ২০ পাওয়া ছেলের চেয়ে মুক্তিযোদ্ধার ১৯ পাওয়া ছেলেই অগ্রাধিকার পাবে।

বৈষম্য কমানোটাই কোটা ব্যবস্থার মূল কথা। আমি নিশ্চিত এখন কোটার পক্ষে-বিপক্ষে গণভোট হলে কোটা বাতিলের পক্ষেই ৯৫ ভাগ লোক ভোট দেবেন। কিন্তু রাষ্ট্রের তো অবিবেচক হলে চলে না, তাদেরকে ৫ ভাগ হলেও যৌক্তিকভাবে বঞ্চিতদের পাশেই দাঁড়াতে হবে। কোটা অলমোস্ট বাতিল করলে কিন্তু নতুন করে বৈষম্য সৃষ্টি হবে। যাদের কোটা দরকার, তারা দুর্বল, অনগ্রসর। তারা হয়তো শক্তিশালী আন্দোলন গড়তে পারবে না। গায়ের জোর কম বলে কি তারা বঞ্চিতই থেকে যাবে? সরকারি চাকরিতে কোটা না থাকলে প্রমাণ হবে, সংখ্যাগুরু হলে গায়ের জোরে অন্যায্য দাবিও আদায় করে নেয়া যায়। মেধা যার, চাকরি তার; এই ধারণা হলো জোর যার, মুল্লুক তার’ এর আধুনিক সংস্করণ। কোটামুক্ত রাষ্ট্রের ধারণা হয় জঙ্গলে সম্ভব নয়; বৈষম্যমুক্ত আধুনিক রাষ্ট্রে। বাংলাদেশ এখনও ততটা আধুনিক ও বৈষম্যমুক্ত হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব যতই বলুন, নারী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির মানুষ এখনও অনগ্রসর। আর সংবিধানে অনগ্রসর জনগোষ্ঠির জন্য সরকারের বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা আছে। রাষ্ট্র যেদিন সব এলাকার, সব মানুষের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারবে, সেদিন কোটা তুলে দিলে আমি আপত্তি করবো না।

আমি নীতিগতভাবে কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিপক্ষে। কিন্তু আন্দোলন করার অধিকার সবার আছে। আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, ধর-পাকড়ের নিন্দা জানাচ্ছি। ভিসির বাসায় হামলার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। কিন্তু আন্দোলন করার অপরাধে যেন কাউকে হয়রানি করা না হয়। শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করা কখনোই অপরাধ নয়। হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com