বদলে যাচ্ছে সিভিল এভিয়েশনের চেহারা

প্রকাশের সময় : 2018-09-13 11:02:52 | প্রকাশক : Admin
বদলে যাচ্ছে সিভিল এভিয়েশনের চেহারা

আজাদ সুলায়মানঃ বদলে যাচ্ছে দেশের বিমানবন্দরগুলোর সার্বিক চিত্র। ব্যাপক সংস্কার ও উন্নয়ন শুরু হয়েছে। দুই হাজার কোটি টাকার এ কর্মযজ্ঞ শুরুর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সিভিল এভিয়েশন। এসব প্রকল্পের কাজ আগামী দুই থেকে ৩ বছরের মধ্যে শেষ করার আশা প্রকাশ করেছেন সিভিল এভিয়েশনের সদস্য এয়ার কমোডর মোস্তাফিজুর রহমান। তার ভাষায়, তাক লাগানো উন্নয়নের আওতায় আনা হয়েছে এসব বিমানবন্দরকে।

এগুলো হচ্ছে- ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জেনারেল হ্যাঙ্গার প্রতিস্থাপন ও নতুন নির্মাণ, ৪৫০ কোটি টাকায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ওভারলে, ৫শ’ কোটি টাকায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ওভারলে কাজ, ২৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবন, ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে শাহজালাল অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ, ১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে যশোর বিমানবন্দরের টার্মিনাল, ৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবন ও পার্কিং নির্মাণ কাজ।

সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল নাইম হাসান জানিয়েছেন, এসব উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হলেই বদলে যাবে বিমানবন্দরগুলোর চেহারা। চোখ ধাঁধাঁনো উন্নয়নে পাল্টে যাবে মানুষের ধ্যান-ধারণা। দেশ-বিদেশে সুনাম ছড়াবে এভিয়েশন খাত। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে রাতদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী সিভিল এভিয়েশনের প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামী জানিয়েছেন, এবার যেসব প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে, দু’বছরের মধ্যে তা উদ্বোধনের পর দেশের বিমানবন্দরগুলোর আর কোন বড় কাজ বাকি থাকবে না।

তখন দেশী এভিয়েশন সেক্টরের বৈপ্লবিক পরিবর্তন বা উন্নতি তাক লাগিয়ে দেবে। বিমানবন্দর নিয়ে মানুষের ধ্যানধারণাই পাল্টে যাবে। কারণ মানুষ আগে টাকা বাঁচানোর জন্য সময় নষ্ট করে বাসে-ট্রেনে চড়ত। সেই মানুষই এখন সময় বাঁচানোর জন্য টাকা ব্যয় করে আকাশপথকেই বেছে নিচ্ছে। এখন মানুষের দৃষ্টিভাঙ্গি ও চিন্তা-চেতনায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। দেশের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় আর এয়ারলাইন্সগুলোর রমরমা ব্যবসা প্রমাণ করে; অন্য যে কোন সেক্টরের চেয়ে এভিয়েশন দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। এ কারণেই এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সিভিল এভিয়েশন তথা বর্তমান সরকার বেশ গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

কক্সবাজারে টার্মিনাল নির্মাণ: কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিকে উন্নীত করার প্রথম পর্যায়ের কাজ প্রায় শেষের পথে। তার আগেই এ বিমানবন্দরের জন্য একটি আন্তর্জাতিকমানের টার্মিনাল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সিভিল এভিয়েশন। ২৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন করে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী মাসেই এই টার্মিনাল ভবনের শুভ উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছে। অত্যাধুনিক স্থাপত্যরীতিতে দৃষ্টিনন্দন একটি টার্মিনাল নির্মাণ হবে এখানে, যা দেশ-বিদেশের যাত্রী সাধারণ ও পর্যটককে বিমোহিত করবে। এ টার্মিনালে নতুন করে থাকছে একটি বোর্ডিং ব্রিজ, কনভয় বেল্ট, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস পয়েন্টসহ অন্যান্য ডেস্ক। আগামী মাসের শুরুতে কার্যাদেশ দেয়ার পর পরই কাজ শুরু হয়ে যাবে।

সিলেট ওসমানী এয়ারপোর্টের রানওয়ে ওভারলে: সাড়ে ৪ শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ওভারলে প্রকল্পের কাজও শুরু হচ্ছে আগামী মাসেই। বিদ্যমান রানওয়েকে শক্তিশালী ও প্রশস্তকরণের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য লাইটিং সিস্টেমে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এ কাজের দরপত্র শেষে এখন কার্যাদেশ দেয়ার কাজ চলছে। এসব সংস্কার সম্পন্ন হলে এখান থেকে দুবাই ও লন্ডনে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব।

থার্ড টার্মিনালের জন্য জেনারেল হ্যাঙ্গার নির্মাণ: প্রস্তাবিত থার্ড টার্মিনালের জন্য যে জমি নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে বর্তমানে ভিভিআইপি লাউঞ্জ ও জেনারেল এভিয়েশনের হ্যাঙ্গার রয়েছে। এগুলো হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উত্তর সীমান্তে নিয়ে যাওয়ার জন্য ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি স্থানান্তর প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। জেনারেল এভিয়েশনের হ্যাঙ্গার সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরুর পরই পাশাপাশি বেশ কিছু বৃক্ষও কাটতে হবে। এটার দরপত্রও ডাকা হয়েছে। এখন চূড়ান্ত কার্যাদেশ দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

সৈয়দপুর এয়ারপোর্ট আধুনিকায়ন: প্রায় এক শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে উত্তর জনপদের সবচেয়ে ব্যতিব্যস্ত সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। দেশের অন্যতম কর্মব্যস্ত এই বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক হাব করার লক্ষ্যে জরুরী ভিত্তিতে একটি টার্মিনাল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এখানকার বর্তমান ডিপারচার লাউঞ্জকে সংস্কার, কনভয় বেল্ট ও নতুন একটি এরাইভ্যাল টার্মিনাল তৈরি করা হবে। এক সঙ্গে আসা-যাওয়ার প্রায় হাজার যাত্রী ধারণ ক্ষমতার এই ভবন নির্মাণ ছাড়াও এপ্রোচ লাইটিং সিস্টেমও চালু করা হবে। এখানকার লাউঞ্জ, পার্কিং ও অন্যান্য স্থাপনা তৈরির কাজ দু’বছরেই শেষ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামী।

যশোরে তাক লাগানো টার্মিনাল: যশোর বিমানবন্দরে ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক টার্মিনাল ভবন ও পার্কিং তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই এয়ারপোর্টে নতুন করে নির্মাণ হবে একটি দৃষ্টিনন্দন টার্মিনাল, যেখানে থাকবে নতুন কনভয় বেল্ট, এরাইভ্যাল ও ভিআইপি লাউঞ্জ। এখানে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটা পার্কিংও নির্মিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম শাহ আমানতে ব্যাপক সংস্কার: চট্টগ্রামে হজরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে কার্গো এপ্রোন নির্মাণ প্রকল্পের কাজের শতকরা ৬৫ভাগ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এয়ার কমোডর মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বাকি কাজটুকু ডিসেম্বরের আগেই শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে সবাই তৎপর। এটা হয়ে গেলে এখানে সুপরিসর দু’টি বোয়িং ৭৭৭ বা ছোট ৩টি উড়োজাহাজ একত্রে পার্কিং করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া এ বিমানবন্দরের রানওয়ে শক্তিশালী ও আধুনিকায়ন করার জন্য ৫ শ’ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

বরিশাল বিমানবন্দরের সমীক্ষা চলছে: দিন দিন কর্মব্যস্ত হয়ে ওঠা বরিশাল বিমানবন্দরকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দরে পরিণত করার লক্ষ্যে সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। এ সমীক্ষাতেই থাকবে এখানে কত টাকা ব্যয়ে কত দ্রুততম সময়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর করা সম্ভব। সমীক্ষা প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরই সিদ্বান্ত নেয়া হবে এখানে কি ধরনের স্থাপনা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব। তবে এখানে পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দরের জোরাল দাবি ও চাহিদা দুটো রয়েছে। সেটা বিবেচনায় নিয়ে সিভিল এভিয়েশন কাজ করছে। 

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com