শুধু বিশ্ববাসী নয়; দেশবাসীও চুপ!!!

প্রকাশের সময় : 2018-09-13 11:03:33 | প্রকাশক : Admin
শুধু বিশ্ববাসী নয়; দেশবাসীও চুপ!!!

বেশীদিন আগের কথা নয়। পুরোদেশের সকল ধরনের বিশেষ করে স্যোসাল মিডিয়া কাঁপিয়ে তুলেছিল দেশে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী বাঙালী ভাইয়েরা। আহা, কী আর্তনাদ! কী সহানুভূতি! মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ভাইদের জন্যে সে কী কান্না! বাংলাদেশী রসাতলে যাক; ছাড়খাড় হয়ে যাক। তবুও বাঁচাতে হবে। ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে সবকিছু নিয়ে। যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।

এখন সব ঝিমিয়ে পড়ছে। বারোলক্ষ মুসলিম ভাই যে পাহাড়ে আছে তা বাঙালী ভুলতে বসেছে। এখন তাদের জন্যে কোথায়ও আলোচনা হয় না, দোয়াও হয় না। ওরা আদো নামাজী মুসলীম নাকি বেনামাজী মুসলিম, সেই খবরও কেউ রাখে না। খবর রাখার সময় কোথায়! এখন সময় গা ছেড়ে ঘুমোবার। মিয়ানমারের কঠিন জঞ্জাল নিজের দেশে আমদানী করে সবাই গা ছেড়ে ছেড়ে দিয়েছে। ভাবখানা এমন যেন রোহিঙ্গাদের সব সমস্যা সমধান হয়ে গেছে। এখন দেখভাল করার সব দায়িত্ব একমাত্র বাংলাদেশ সরকারের। ওরা ফিরলে ফিরবে, না ফিরলে না ফিরবে; সমস্যা কি?

যারা এভাবে ভাবে সমস্যাটা তাদের নয়। সমস্যাটা বাংলাদেশের। সমস্যাটা আসলেই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রোহিঙ্গারা ফিরবে না। জোর করে ফেরত পাঠাতে না পারলে রোহিঙ্গাদের ফেরার সামান্য আগ্রহ ও নেই। ওরা এদেশে খুব ভাল আছে। এমন কোন সামাজিক অপরাধ নেই যা ওরা জানে না বা বর্তমান বসতিতে করে না। তাই এমন সুখের রাজ্য ছেড়ে ওরা কোনভাবেই ফিরতে চায় না।

আর রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারে এখন একটি হাইব্রিড সরকার আছে, বেসামরিক ও সামরিক বাহিনী মিলে সরকারটি চলে। কঠোর আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করা না গেলে দেশটি তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে চাইবে না। কারণ তারাই তো এদেরকে মিয়ানমার থেকে বিতারিত করেছে।

যেসব দেশ মিয়ানমারের উপর চাপ তৈরি করতে পারে সেসব দেশের সক্রিয়তার মধ্যে অনেক পার্থক্য দেখতে পাচ্ছি। সবাই সমানভাবে সক্রিয় নয়। একেকজন একেকরকম যুক্তি তৈরি করেছে। যুক্তি কতটুকু গ্রহণযোগ্য? নির্মোহভাবে সেখানে একটা সমস্যা রয়েছে। পশ্চিমা বিশ্ব মনে করছে, বেশি চাপ দিলে মিয়ানমার চীনের সঙ্গে ঘণিষ্ট হবে। এজন্য মিয়ানমারকে বেশি চাপ দিচ্ছে না।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে অনেক উদ্যোগ, তৎপরতা লক্ষ্য করেছি। মূলত এ সংকটের দায় বাংলাদেশের উপর চেপে আছে। তবে বাংলাদেশের কূটনীতি রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য সর্বোতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। তারা যা বলে তা করে না। যা কথা দেয় পরবর্তীতে তা রক্ষা করে না।

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে বাংলাদেশের উদ্যোগ চলমান রয়েছে। এটার গতি কখনো জোর পায়, কখনো-বা কিছু শ্লথ হয়ে যায়। কিন্তু উদ্যোগটি চলমান আছে, এটা একটি শুভ দিক। তবে সমস্যাটা নিয়ে সবাই কাজ করছে। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা, জাতিসংঘসহ সবাই সময়ে সময়ে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। এখনো হতাশ হওয়ার পর্যায়ে আসেনি যে, চূড়ান্তভাবে হতাশ হয়ে যেতে হবে।

এ ধরনের সমস্যা সাধারণত অল্প সময়ে হঠাৎ করে তড়িৎ সমাধান হয় না, এটাই আমরা দেখে এসেছি। তবে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোকে আও বেশি সক্রিয় হওয়া উচিত, যাতে রোহিঙ্গাদের যত দ্রুত সম্ভব ফেরত পাঠানো যায়। মে. জে. (অব.) আবদুর রশিদ, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com