কবি নির্মলেন্দু গুণ

প্রকাশের সময় : 2018-09-13 11:07:40 | প্রকাশক : Admin
�কবি নির্মলেন্দু গুণ

সিমেক ডেস্কঃ কবি নির্মলেন্দু গুণ। বাংলাদেশের সুখে-দুঃখে আনন্দ-বেদনায় এমন আপন কবি বিরল। আপন বলতে মানুষের কবি, জনগণের কবি। আমাদের কাব্যজগৎ বিপুল প্রতিভাবান কবিদের ভিড়ে ঠাসা। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, মাইকেল, জীবনানন্দ, শামসুর রাহমান আছেন, আছে তারার মিছিল। এই বঙ্গদেশে কবিতাকে জীবিকা করে জেদের ওপর বেঁচে থাকা? আশ্চর্য-ই বটে। তিনি কিন্তু তাই করে দেখিয়েছেন।

অকালপ্রয়াত আবুল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে স্বাধীন দেশের তারুণ্যে পুঁতেছিলেন স্বপ্নের বীজ। এত বছর পর অবাক হয়ে দেখি অমিতাচারী কবি, স্নানাহার এমনকি জীবনযাপনেও যাঁর কোন স্থিরতা ছিল না যার আসলে নানা কারণে বেঁচে না থাকার-ই কথা, তিনি আছেন, কবিতাই তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছে। রাজনৈতিক কারণেও মারা যেতে পারতেন। মুজিববাদ, মুজিববাদ বলে ফেনা তোলা কবিরা যখন অন্তরালে, তখন তিনি অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আলোর মুখ দেখালেন। ‘আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি’র মত সাহসী কবিতার কবি গ্রেপ্তার হলেন বটে, দমে গেলেন না।

এই দমহীন সত্য বলার কবিতা শিল্পের মাপে যাই হোক আমাদের জাতীয় জীবনে ছিল এক পশলা বৃষ্টির মত। কবিতা ও জীবন দিয়ে দেশ ভালোবাসার বড় ছোট উদাহরণের চলন্ত ডিকশনারি এই কবি। শান্তি নিকেতনে অনুষ্ঠানের রেওয়াজ কোনো কিছু শেষ হলে “সাধু, সাধু” বলা। এমনি এক সভায় বসে সাধু, সাধু বলতে বলতে তাঁর মনে হয়েছিল, “একি আমি তো পদ্মাপাড়ের মানুষ, আমি এতবার সাধু সাধু বলছি কোন কারণে? যেই ভাবা সেই কাজ, পরের বার জোরে জোরে বলে উঠলেন “দরবেশ, দরবেশ!”।

আমেরিকা ভ্রমণকালে লাস ভেগাসে জুয়ার আড্ডায় সব হারিয়ে ভোরবেলা ঢুকেছিলেন ম্যাকডোনাল্ডসে। কফি কিনে ফ্রি জেলি আর প্যাকেটের চিনি খাচ্ছিলেন অবিরল। কাউন্টারে কর্তব্যরত মেয়েটির চোখ এড়াল না। চোখে চোখেই রাখছিলো কবিকে। একটু পরে নিতে আসা বাঙালী যুবকটির সঙ্গে যখন বেরিয়ে যাবেন তরুণীটি প্রশ্ন করেছিলো, হোয়ের ইউ ফ্রম? আবারো তাঁর দেশপ্রেম চাঙ্গা হয়ে উঠেছিল। মনে মনে ভাবলেন এই সুযোগ। দেশকে বাঁচানোর দেশের ভাবমূর্তির ও বটে। সপাট বলে দিলেন “আই অ্যাম ফ্রম ইন্ডিয়া”। এক ঢিলে দুই পাখি। দেশ বাঁচলো, নিজেও বাঁচলেন। আটকে গেল ইন্ডিয়া। নানাভাবে আমাদের অপদস্থ করতে আগ্রহী ইন্ডিয়ানদের বিরুদ্ধে এমন মধুর প্রতিশোধ খুব একটা চোখে পড়ে না।

ভালোবেসে তাঁকে আমি দাদা বলে ডাকি। দু’বার সিডনিও ঘুরে গেছেন। প্রাণবন্ত আর খোলামেলা। এখন তিনি স্কুল-পাঠশালা, চিত্রশালা, শহীদমিনার নিয়ে ব্যস্ত। নিজ গ্রামে শিশুদের জন্য এসব কাজে ডুবে আছেন। এখন বলেন জনপ্রিয়তা ভালো তবে সবসময় নয়। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের গৌরকিশোর ঘোষ পুরস্কার পেয়েছিলেন। সব টাকা দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়েছেন। টাকা তাঁর কাছে রক্তচাপের মত। বেশি হলে উচ্চচাপ আর কম হলে নিম্নচাপ। তাই টাকা পেলেই খরচ। ভালোই আছেন। তাঁর ভাষায় সমাজসেবা এক ধরনের নেশা। তিনি এখন তাতেই বুঁদ।

তাই বলে কবিতা লেখা, ছবি আঁকা, সত্য ভাষণ কোনোটাই বন্ধ নেই। এইতো সেদিন বললেন বহুকাল আগে তিনি যখন কাজী নজরুলের মত ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা মন্তব্য করেছিলো “এর লাইগা তোগরে যুদ্ধ কইরা পাহাড় থেইক্যা নামাইয়া আনছি? তোরা ভোটে দাঁড়াস কোন সাহসে? তোরা তো জন্ম লইছস আমাগোরে ভোট দেওনের লাইগা”। জীবনে কবিতায় ভালোবাসা ও চেতনায় এমন দেশপ্রেমী বলেই আজ তিনি দেশবরেণ্য অকুতোভয়।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com