ইন্টারনেটের অপব্যবহার

প্রকাশের সময় : 2018-10-10 22:36:14 | প্রকাশক : Admin

মানবকল্যাণের জন্যেই প্রযুক্তি, কিন্তু সেই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সমাজে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করছে এক শ্রেণীর মানুষ। জীবনের সকল ক্ষেত্রেই এখন ব্যবহৃত হচ্ছে ইন্টারনেট। তাতে জীবনযাপন অনেক সহজ ও গতিময় হয়ে উঠেছে। অথচ ইন্টারনেটের অপব্যবহার করে, অপপ্রচার চালিয়ে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে কিছু লোক।

ইন্টারনেট পুরো পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। বিশ্বায়নের এই যুগে জীবনের সব ক্ষেত্রে এখন ইন্টারনেটের ব্যবহার ছাড়া কল্পনা করা যায় না! খোলা আকাশের মতো ইন্টারনেটও সবার জন্য অবারিত। ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ছোট-বড় বয়সের কোন বিধিনিষেধ নেই। প্রযুক্তির ব্যবহার খারাপ নয়। তবে ব্যবহারের ওপরই এর ভাল-মন্দ নির্ভর করে। ইন্টারনেটের সুফল বলে শেষ করা যাবে না। মুহূর্তের মধ্যে যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ক্ষেত্রে মানুষের জীবনযাপন আগের থেকে সহজ করে দিয়েছে ইন্টারনেট। ফলে পৃথিবী আগের থেকে অনেক বেশি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, বদলে যাচ্ছে চারপাশ।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালত, বিভিন্ন গবেষণা, বিভিন্ন মার্কেট, উন্নত যানবাহন, নিজস্ব বা ভাড়াটে বাড়ি, দামী রেস্টুরেন্ট, গোপন নিরাপত্তা, ক্রয়-বিক্রয়, ফাইল-ডাটা সংরক্ষণ, ধর্মীয় রীতি-নীতি চর্চা, পত্র-পত্রিকা পাঠ, মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বের যে কোন প্রান্তে তথ্য আদান-প্রদান ইত্যাদি ক্ষেত্রে বর্তমানে ইন্টারনেট অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

বিভিন্ন দেশ, কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংক পর্যন্ত ইন্টারনেটের সহায়তায় লেনদেন ও হিসাব-নিকাশ করে থাকে। গুগল, ফেসবুক, ইমো, টুইটার, ইউটিউবসহ নানান প্রকার সামাজিক সাইটগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদান করা হচ্ছে। ইন্টারনেটের অবদানে ইউটিউব, ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং এবং পিটিসিসহ ইত্যাদি প্রযুক্তির সহায়তায় হাজার হাজার বেকার যুবক-যুবতী থেকে শুরু করে চাকরিজীবী, ছাত্র-শিক্ষক, নারী-পুরুষ, ছোট-বড়, অফিসার-কর্মচারী সকল বয়সের মানুষ উপার্জন করছে লাখ লাখ টাকা।

কম্পিউটার, ল্যাপটপ, পিসি, ও অ্যান্ড্রয়েড সেটগুলো বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্রদের জন্য শিক্ষার একটা বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেটাও ইন্টারনেটের ওপর ভিত্তি করেই। ইন্টারনেটের যে কত চাহিদা সেটা দু’দিন ইন্টরনেট বন্ধ করে রাখলেই প্রমাণ পাওয়া যাবে। আজকের বাংলাদেশ এই অবস্থানে আসার অন্যতম ভূমিকাও ছিল ‘ইন্টারনেটের’। আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে করেছে সহজ-সরল ও গতিময়। যার অবদানে ঘরে বসেই আয়ত্ত করছি বিশ্বের সকল প্রান্তে ঘটে যাওয়া তথ্য এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনাসহ অংশগ্রহণ করছি দূরবর্তী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে। নিঃসন্দেহে ইন্টারনেট আমাদের জন্য আশীর্বাদ। কিন্তু আমরা সেটাকে অকল্যাণে ব্যয় করছি। প্রদীপের নিচে অন্ধকার থাকে। ইন্টারনেটের অপব্যবহারও মানুষের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সমাজে মন্দ লোকের অভাব নেই। ফেসবুক, ভাইবার, হোয়াটসএ্যাপ, মেসেঞ্জার, ইমোসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতারণার ফাঁদ পেতে নানা কৌশলে টার্গেট ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রতারকচক্র হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। ইন্টারনেটে নারী ও কিশোর -কিশোরীরা হয়রানি ও যৌন নিগ্রহের শিকার হচ্ছে। ইন্টারনেটকে অনেক উগ্রবাদী সংগঠন তাদের অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ব্যবহার করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে আবার ভুয়া ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সমাজে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। এতে করে সমাজে অস্থিরতা তৈরি হয় যা মুহূর্তেই বিপদের কারণ হতে পারে।

কেউ কেউ সঠিক বিষয় উপলব্ধি না করে রাস্তায় পাওয়া তথ্য, কারও মানহানি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য, সংশ্লি−ষ্ট ঘটনা বা বিষয়ের সঙ্গে জড়িত নয় এমন তথ্য, উস্কানি ও হয়রানিমূলক তথ্য ইত্যাদি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করছে। যার ফলে, দেশে দেখা দেয় অরাজকতা, ক্ষুণœ হয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সম্মান, বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে এই মিথ্যা অপপ্রচারগুলো এবং বয়ে আনছে দেশের জন্য অমঙ্গল। আর আমরা এই গর্হিত কাজ করে নিজেকে পরিচয় দিচ্ছি অসচেতন নাগরিক এবং  নির্বুদ্ধিতার। আবার কেউ ইন্টারনেটের সাহায্যে বিভিন্ন অসৎ কৌশল অবলম্বন করে ব্যাংক, প্রতিষ্ঠান এবং উচ্চ পদস্থ ব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

ইন্টারনেটের অবাধ ব্যবহারে অশ্ল−ীলতা বাড়ছে, বাড়ছে অনলাইনে জুয়া খেলা। ইন্টারনেটের মাত্রাতিরিক্ত আসক্তিতে সামাজিক ও পারিবারিক টানাপোড়েন বাড়ছে, বাড়ছে নৈতিকতার অবক্ষয়। ইন্টারনেট আসক্তি মাদকাসক্তির মতো। মাদক যেমন একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়, ইন্টারনেটের অপব্যবহারও জীবনকে শেষ করে দেয়। নেশা, জঙ্গীবাদ, দেশদ্রোহে ও অপরাধ প্রবণতায় ইন্টারনেটকে কাজে লাগানো হচ্ছে। কৌতূহলী অনেক জীবন ইন্টারনেটের রঙিন দুনিয়ায় অসতর্কতার কারণে শেষ হয়ে যাচ্ছে।

অপরিণত বয়সে ইন্টারনেট থেকে সন্তানদের দূরে রাখা উচিত। পরিবারের মা-বাবাকে খেয়াল রাখতে হবে পরিবারের সন্তান কিভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে, কোন কোন সাইট ব্যবহার করছে, কোথায় যাচ্ছে। ইন্টারনেটে কোন কোন সংগঠন বা গোষ্ঠী তরুণদের টার্গেট করছে। উগ্রবাদে আকৃষ্ট করছে!

উন্নত দেশে সন্তানদের ইন্টারনেট ব্যবহারের গতিবিধি লক্ষ্য রাখার জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি ও এ্যাপস রয়েছে। আমাদের দেশেও এগুলো ব্যবহার করা যায় কিনা ভেবে দেখা দরকার। মনে রাখতে হবে, উন্নতি ও অগ্রযাত্রায় সকল ভাল কাজে যেমন ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া সম্ভব তেমনি ইন্টারনেটের অপব্যবহার করে ক্ষতিও ডেকে আনা সম্ভব। তাই এ ব্যাপারে তরুণ জনগোষ্ঠীসহ সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। -সাধন সরকার ও আফফান ইয়াসিন

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com