দেশে খাদ্য উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি

প্রকাশের সময় : 2018-10-24 16:55:40 | প্রকাশক : Admin

তপন বিশ্বাসঃ ক্রমান্বয়ে কৃষি জমি কমলেও প্রতি বছর ফসল বাড়ছে। মানুষও বাড়ছে। বাড়ছে চাহিদা। অধিক উৎপাদনে সকল চাহিদা মিটিয়ে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। সরকারের নিরলস কর্মকান্ডে দেশ এই অবস্থায় উন্নীত হয়েছে। গত সাড়ে নয় বছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ে এটি বড় সাফল্য। গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করে শুধু খাদ্যশস্য নয়, বিভিন্ন ফল উৎপাদন করে দেশ রীতিমতো ঈর্ষণীয় অবস্থানে পৌঁছেছে।

সরকারের গত সাড়ে নয় বছরে এক ও দুই ফসলি জমি অঞ্চল বিশেষে প্রায় চার ফসলি জমিতে পরিণত করা হয়েছে এবং দেশে বর্তমানে ফসল নিবিড়তা ১৯৪ শতাংশ। ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দেশে চাল উৎপাদন হয়েছিল ৩ কোটি ১৩ লাখ ১৭ হাজার টন। চলতি অর্থবছরে ৩ কোটি ৬২ লাখ ৭৯৩ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া গম, ভুট্টা, আলু, ডাল, মসলা, তেল, শাক-সবজি পাট ইত্যাদি ফসল প্রতিবছর বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতি নিয়ত কৃষি জমি কমছে। কিন্তু নতুন নতুন উদ্ভাবনীর মাধ্যমে কৃষি সেক্টরকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কৃষি ক্ষেত্রে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও বায়োটেকনোলোজির যথাযথ প্রয়োগ করা হচ্ছে। সরকার সার, ডিজেল, বিদ্যুত ইত্যাদি খাতে আর্থিক সহযোগিতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত সকল খাতে মোট ৬৫ হাজার ৪শ’ ৪৭ কোটি টাকার মধ্যে সার খাতেই ৫৮ হাজার ৯শ’ ৪৫ কোটি টাকা আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে।

২০০৯ থেকে বিভিন্ন ফসলের ৫৮৪টি উচ্চফলনশীল নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে এবং ৪৪২টি উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত বিআরআরআই কর্তৃক ধানের ৩৫টি জাত, বিএআরআই কর্তৃক বিভিন্ন ফসলের ১৭০টি জাত, বিজেআরআই কর্তৃক পাটের ৯টি জাত, বিএসআরআই কর্তৃক ইক্ষুর ৮টি জাত ও সুগার বীটের ৪টি জাত, সিডিবি কর্তৃক তুলার ৭টি জাত এবং বিআইএনএ কর্তৃক বিভিন্ন ফসলের ৫৫টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। জিএমও প্রযুক্তি ব্যবহার বিটি বেগুনের ৪টি জাত উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং বিটি তুলার জাত উদ্ভাবনের কাজ চলমান রয়েছে।

কৃষি এবং কৃষিভিত্তিক সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের ই-কৃষি সেবার উন্নয়ন ঘটেছে। কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। খাদ্যশস্য উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রফতানি বাণিজ্যে কৃষি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মোট দেশজ উৎপাদন তথা জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১৪.১১ শতাংশ।

বর্তমান সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকের কল্যাণকে সর্বোচ্চ বিবেচনায় নিয়ে রূপকল্প ২০২১ এবং রূপকল্প ২০৪১ এর আলোকে সমবায় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কৃষিক্ষেত্রে সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে খোরপোষের কৃষি আজ বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরিত হয়েছে। ফলে দেশে কর্মসংস্থান সম্প্রসারিত হয়েছে। খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের স্থান দশম। অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com