মেট্রোরেল দৃশ্যমান!!!

প্রকাশের সময় : 2018-04-27 21:06:08 | প্রকাশক : Admin
�মেট্রোরেল দৃশ্যমান!!!

সিমেক ডেস্কঃ সকল অনিশ্চয়তা কাটিয়ে দৃশ্যমান হচ্ছে মেট্রোরেল। ইতোমধ্যে স্বপ্নের এই প্রকল্পের প্রথম স্প্যান বসানোর কাজ সম্পন্ন। রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে দুটি পিলারকে যুক্ত করে এই স্প্যানটি বসানো হয়েছে। শীঘ্রই আগারগাঁও এলাকায় বসানো হবে আরেকটি স্প্যান। চলতি মাসেই স্প্যান বসানোর কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। আগামী বছর ডিসেম্বরের আগেই মেট্রোরেলের উত্তরা-আগারগাঁও অংশ ট্রেন চলাচলের জন্য প্রস্তুত হবে বলে আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। রাজধানীর যানজট নিরসনে সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পসমূহের একটি মেট্রোরেল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীর চলমান যানজট নিরসন ও চলাচলে স্বাভাবিক অবস্থা নিশ্চিত করতে হলে মেট্রোরেল স্থাপনের বিকল্প নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের তাগিদও দিয়ে যাচ্ছেন তারা। পাশাপাশি রাজধানীর আশপাশের জেলাসমূহে দ্রুত গতি সম্পন্ন ট্রেন সার্ভিস চালুরও পরামর্শ দিয়ে আসছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞ মহল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে প্রকল্পের কাজ। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রকৌশলী ও কর্মীরা। এরই অংশ হিসেবে উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় দুটি পিলারকে যুক্ত করে বসানো হয়েছে স্প্যান।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মোট ২০ দশমিক এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে ৭৭০টি স্প্যান বসবে। তবে প্রথম পর্যায়ে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আগারগাঁও পর্যন্ত চলাচলের লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগিয়ে চলছে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ। শীঘ্রই আগারগাঁও পয়েন্টে বসানো হবে দ্বিতীয় স্প্যান। বাকি অংশে সয়েল টেস্টের কাজ চলছে। পাশাপাশি মাটির নিচে থাকা বিভিন্ন সেবা সংস্থার লাইন সরানোর কাজও চলছে বলে জানা গেছে।

প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মাসেই স্প্যান বসানোর কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। আগামী বছর ডিসেম্বরের আগেই মেট্রোরেলের উত্তরা-আগারগাঁও অংশ ট্রেন চলাচলের জন্য প্রস্তুত হবে। দুটি অংশে ভাগ করে মেট্রোরেলের কাজ চলছে। মূল ডিপো নির্মাণ এবং চলাচলের লাইন। এরই মধ্যে আগারগাঁও পর্যন্ত পাইলিং শেষ হয়েছে। এখন মাটির ওপরের অংশে পিলার নির্মাণ করে তার ওপর বসানো হবে স্প্যানগুলো।

প্রায় ৫৯ একর জায়গার ওপর নির্মিত হচ্ছে মেট্রোরেলের মূল ডিপো। যেখান থেকে ৪ মিনিট ১৯ সেকেন্ড পর পর ছেড়ে যাবে ৬ জোড়া বগি নিয়ে বিদ্যুতচালিত অত্যাধুনিক ট্রেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই ডিপোর কাজ শেষ হবে। পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হলে প্রতি ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী উভয় দিক থেকে আসা যাওয়া করবে মেট্রোরেলে। আগামী বছর জাপানের গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কাওয়াসাকি-মিৎসুবিশি থেকে কোচ আমদানি করা হবে। বিদ্যুতচালিত এই ট্রেনে সর্বক্ষণিক বিদ্যুত সুবিধা নিশ্চিত করতে দুটি প্লান্টও নির্মাণ করা হচ্ছে। যা শুধু ট্রেন চলাচলের জন্য কাজে লাগানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প কর্মকর্তারা।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উড়াল সড়কের চাইতে মেট্রোরেল ও বিআরটি প্রকল্পের বেশি সুফল পাবেন সাধারণ মানুষ। তাছাড়া যানজট এড়াতে মেট্রোরেলের কোন বিকল্প নেই। এই প্রকল্পটিই হবে যানজট নিরসনে সবচেয়ে কার্যকর।

রাজধানীর উত্তরায় দিয়াবাড়ি খালের দু’পাশের জমিতে মেট্রোরেলের ডিপো নির্মাণ করা হয়েছে। এখান থেকেই ২০১৯ সালে চলবে দেশের প্রথম মেট্রোরেল। মাত্র ৩৭ মিনিটে পৌঁছে যাবে উত্তরা থেকে মতিঝিল। উত্তরা থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেলের-৬ রুটের নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। সম্পূর্ণ এলিভেটেড রুটের মেট্রোরেলের ১৬টি স্টেশন থাকবে। প্রতি ঘণ্টায় উভয়দিক থেকে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা থাকবে।

প্রকল্প সংশ্লি−ষ্টরা জানিয়েছেন, মেট্রোরেল রুট-৬ এর পাশাপাশি আরও দুটি রুট নির্মাণের প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এর মধ্যে মেট্রোরেল রুট-১ (এমআরটি-১) হচ্ছে গাজীপুর থেকে ঝিলমিল প্রকল্প পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ। প্রথম পর্যায়ে এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর এবং খিলক্ষেত হতে পূর্বাচল পর্যন্ত প্রায় ২৭ কিলোমিটারের কাজ করা হবে। এর মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার হবে আন্ডারগ্রাউন্ড।

সরেজমিন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মিরপুর ১২ নম্বর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শুরু করে মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর, কালশী মোড়, মিরপুর ১১ নম্বর, মিরপুর ১০ নম্বর এলাকা, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, তালতলা এবং আগারগাঁও এলাকা পর্যন্ত দিন-রাত কয়েকশ শ্রমিক কাজ করছেন। এর মধ্যে কালশী মোড় ও আগারগাঁও মোড়ে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। বিশেষ করে আগারগাঁও এলাকায় মেট্রোরেলের একটি অবকাঠামো গড়ে উঠছে।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com