ইন্টারনেটের অপব্যবহার

প্রকাশের সময় : 2018-10-24 16:58:07 | প্রকাশক : Admin

সিমেক ডেস্কঃ পূর্ব প্রকাশের পরঃ জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির অগ্রগতি মানুষের জীবনে এমন অভাবনীয় পরিবর্তন এনে দিয়েছে যা মাত্র দুই দশক আগেও ছিল সাধারণ মানুষের কল্পনার অনেক উর্ধ্বে। ইন্টারনেট উদ্ভাবন হওয়ার ফলে আমাদের পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে অভাবনীয় গতিতে এবং একইসঙ্গে আমাদের সামনে উন্মোচিত হচ্ছে নতুন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। অফিস-আদালত, পড়ালেখা, গবেষণা, সামাজিক যোগাযোগ সর্বক্ষেত্রেই ব্যবহার হচ্ছে ইন্টারনেট। কিন্তু, পাশাপাশি বেড়ে গেছে ইন্টারনেটের অপব্যবহারও।

ইন্টারনেট কোন মন্দ কিছু নয়। কিন্তু, সম্প্রতি ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে সারা পৃথিবীতেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো। বহু সংগঠন তাদের বিদ্বেষমূলক ভিডিও ইন্টারনেটের মাধ্যমে পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ভিডিওগুলোতে থাকে বিভিন্ন দেশ ও ব্যক্তিবর্গকে উদ্দেশ্য করে নানা হুমকি-ধমকি। যে কারণে আজকাল মানুষের মনে সদা আতঙ্ক ও ভীতি কাজ করে। এভাবে ইন্টারনেটের অপব্যবহার করে বিঘ্নিত করা হচ্ছে সামাজিক এবং মানসিক শান্তি।

প্রশ্ন হচ্ছে, ফেসবুকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? এটি কি সত্যিই আমাদের জন্য আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? আমরা প্রতিদিন ঘুম থেকে জেগে ফেসবুকে উঁকি না দিলে যেন প্রাতঃকর্ম ভালভাবে সম্পাদন হয় না। এটি আমাদের জীবনের মহামূল্যবান উপাদান ‘সময়’কে অযথা কেড়ে নিচ্ছে।

এটি একটি হুজুগ নির্ভর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এখানে প্রবেশ করলেই জানা যায় আজকের দিনে কোন ইস্যুটি হট যাচ্ছে। সেই হট বিষয়টি সবাই একটা করে স্ট্যাটাস দিবে কিংবা শেয়ার করবে। সেটা হতে পারে প্রেম, হতে পারে টিএসসিতে বসে থাকা প্রেমিক-প্রেমিকার রোমান্টিক চুমু, নেতা -নেত্রীদের কোন হাস্যকর খাপছাড়া মন্তব্য, কিংবা চলমান কোন দেশী-বিদেশী আন্দোলন সম্পর্কে পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক। যখন যেই হুজুগই সামনে আসে, সবাই সেটি নিয়েই মেতে ওঠে।

বিশেষ করে তরুণ সমাজের লেখাপড়া লাঠে উঠেছে এই ফেসবুকের কারণে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাল্যবিয়ে রোধ করেছেন। সতীদাহপ্রথা রোধ করেছেন রাজা রামমোহন রায়। আর শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়েছেন মার্ক জাকারবার্গ।

আমরা আজ বই পড়তে উদাসীন, গান শুনতে অনীহা, দাদি-নানিদের কাছ থেকে গল্প শুনতে আর আগ্রহ নেই, নেই পরিবার পরিজন কিংবা বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে বসে আড্ডা দেয়ার মানসিকতা।  সবই দখল করে নিয়েছে ফেসবুক। সেখানেই আমরা আমাদের আবেগ, অনুভূতি, সুখ-দুঃখ, হাসি-আনন্দ প্রকাশ করি। সেখানে আমাদের হাজার হাজার বন্ধু। তাদের সঙ্গে সবকিছু শেয়ার করি। কিন্তু তারা সবাই ভার্চুয়াল।

বাস্তবজীবনে খুব কমই তাদের সহযোগিতা কিংবা সাহচর্য পাই। এটি আমাদের সমাজে সৃষ্টি করছে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা। পিতা-মাতার অবাধ্যতা, পড়াশোনা বিমুখতা, মানসিক হতাশা, আত্মীয়তার সম্পর্ক হ্রাস, পরকীয়া, প্রতারণা ইত্যাদিসহ নানা সামাজিক সমস্যা। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিবাহবিচ্ছেদের আশঙ্কাজনক তথ্য। এসবের জন্য বহুলাংশে দায়ী এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

সম্প্রতি আরেকটি মারাত্মক সমস্যা তৈরি হয়েছে ফেসবুক নিয়ে। সেটি হলো- গুজব ছড়ানো। আমরা যদি সাম্প্রতিক কোটা আন্দোলন কিংবা নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের দিকে লক্ষ্য করি তাহলে বিষয়টা আমাদের নিকট স্পষ্ট হবে। কোটা আন্দোলন চলাকালীন একজন নিহত হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে কিভাবে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তোলা হয়েছিল কিংবা নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অফিসে চারজনকে ধর্ষণ এবং হত্যার গুজব ছবিসহ প্রচারিত করে কিভাবে অহিংস আন্দোলনকে সহিংস আন্দোলনে রূপদান করা হয়েছিল এসব আমাদের জানা রয়েছে।

ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা বেড়ে যাওয়ার কারণে বেড়ে যাচ্ছে সাইবার অপরাধ। অভিনব উপায়ে সাইবার অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে যা বিস্মিত করে তুলছে খোদ ইন্টারনেট বিশেষজ্ঞদেরই। আন্তর্জাতিক সাইবার আক্রমণের জন্য বেড়ে গেছে অর্থ আত্মসাৎ করার মতো ঘটনাও। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনাটি এ রকমই এক দৃষ্টান্ত। আরও আছে এটিএম জালিয়াতি, অনলাইন শপিংয়ে প্রতারণা এবং পাউন্ড/ডলার বিনিময়ে হঠকারিতা। দক্ষ হ্যাকারদের  দৌরাত্ম্য এতই বেশি যে, তাদের রুখে দেয়া তো দূরের কথা, তাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করাই মুশকিল।

তবে ইন্টারনেটের অপপ্রয়োগ সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রামসহ ব্যক্তিগত মেইল এ্যাকাউন্ট হ্যাক করে কিছু অসাধু হ্যাকার হাতিয়ে নিচ্ছে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য এবং স্পর্শকাতর ছবি। তারপর শুরু“হয় ব্ল্যাকমেইলিং, আর সেখানেও ব্যবহার হয় এই ইন্টারনেট। ইদানীং ট্রোল বা মিম তৈরির নামে হরহামেশা বিভিন্ন খ্যাতনামা ব্যক্তির সামাজিক মানহানি করা হচ্ছে যা সস্তা বিনোদনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সেই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্তি বেড়ে যাওয়ায় তরুণ সমাজও হুমকির মুখে। রাতজাগা এবং খাওয়া-দাওয়ায় অনীহা করার কারণে তাদের ভবিষ্যত স্বাস্থ্য ক্ষতির সম্মুখীন।

অপরদিকে, ফেসবুক, টুইটারে বেশি সময় ব্যয় করার কারণে পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। অনেকে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে পর্নোগ্রাফির ওপর। দাম্পত্য জীবনে তৈরি হচ্ছে কলহ। ফেসবুকে ভুয়া খবর এবং গুজব ছড়িয়ে সম্প্রতি আমাদের দেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা হয়েছে। এতে সাধারণ জনগণ এবং সরকার উভয়ই বিব্রত। সেই সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য ষড়যন্ত্রকারীরা বার বার বেছে নিচ্ছে ফেসবুক তথা ইন্টারনেটকেই।

আমরা বাচ্চাদের হাতে তুলে দিচ্ছি স্মার্টফোন। ছোটো বাচ্চারা না বুঝেই ব্লু হোয়েলের মতো আত্মঘাতী ফাঁদে পা দিয়ে অবেলায় হারিয়ে ফেলছে মূল্যবান জীবন।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com