ইতিহাস-ঐতিহ্যের জেলা গাইবান্ধা

প্রকাশের সময় : 2024-02-14 15:41:21 | প্রকাশক :
ইতিহাস-ঐতিহ্যের জেলা গাইবান্ধা

জেসিউর রহমান শামীম: ইতিহাস-ঐতিহ্যের জেলা উত্তরবঙ্গের গাইবান্ধা। গাইবান্ধার প্রধান নদ-নদী তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকায় রয়েছে ছোট বড় নানা চর। চরের মানুষের জীবন-বৈচিত্র্য দেখতে হলে আসতে হবে গাইবান্ধায়।

উত্তর বঙ্গের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী জনপদ গাইবান্ধা জেলার দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থান গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো; ফুলছড়ির বালাসী ঘাট, সাদুল্লাপুরের নলডাঙ্গা জমিদার বাড়ি, গোবিন্দগঞ্জের প্রাচীন মাস্তা মসজিদ, গাইবান্ধা পৌর পার্ক, ড্রীমল্যান্ড, ঘেগার বাজার মাজার, ড্রীম সিটি পার্ক, হযরত শাহ জামাল (রাঃ) মাজার শরীফ, জামালপুর শাহী মসজিদ, রাজাবিরাট প্রসাদ, পাকড়িয়া বিল ইত্যাদি।

গাইবান্ধা সদরেই অবস্থিত পৌর পার্ক। একটি পুকুরকে ঘিরে তৈরি এটি। পুকুরের চারপাশে ফুল-ফল-ঔষধি গাছ। পুকুরে শান বাঁধানো ঘাট, রঙিন মাছ, খোলা আকাশ সব মিলিয়ে যে কোনো বয়সী মানুষদের জন্য দারুণ এক সময় কাটানোর জায়গা। এখানে প্রাণীদের ভাস্কর্যসহ পত্রিকা ফলকও রয়েছে। এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও একটি সৌধ রয়েছে।

গাইবান্ধা সদর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়ায় ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার অবস্থিত। প্রায় ৮ বিঘা জায়গা খনন করে সম্পূর্ণ মাটির নিচে এ সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। ভূপৃষ্ঠ সমতলে ভবনের ছাদ আর সেই ছাদে শোভাবর্ধনের জন্য লাগানো হয়েছে নয়নাভিরাম সবুজ ঘাস। এটি মূলত বেসরকারি একটি সংস্থার কার্যালয়। এটি নির্মাণশৈলীর জন্য ইতোমধ্যেই দেশি-বিদেশি নানান পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে।

বালাসী ঘাট গাইবান্ধার অন্যতম দর্শনীয় স্থান। এর অবস্থান ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়াতে। বর্ষায় বালাসী ঘাট পানিতে থৈ থৈ করলেও শীতকালে এখানে চর ভেসে ওঠে। বর্ষার সময় ও শীতকালে দুই সময়ে দুই রূপ ধারণ করলেও দেখতে সবসময় আকর্ষণীয় লাগে। নদীতে সূর্যাস্ত দেখার দারুণ এক জায়গা এটি। বালাসী ঘাটে ছিল বাংলাদেশের একমাত্র রেলওয়ে ফেরি। এ ফেরি দিয়ে পুরো একটি ট্রেন পার হতো। বালাসী ঘাট থেকে নৌকায় কুড়িগ্রাম, জামালপুর যাওয়া যায়। এ ছাড়াও বালাসী ঘাটে ঘোড়া ভাড়া করে চর দেখা ও নৌকা ভাড়া করে নদী ভ্রমণ করা যায়।

গাইবান্ধা জেলা সদরে অবস্থিত এসকেএস ইন মূলত সবুজে ঘেরা ১৯.২ একর জায়গা জুড়ে নির্মিত নজরকাড়া একটি রিসোর্ট। নানা প্রজাতির গাছ, কৃত্রিম লেক, পানির ফোয়ারা, সুইমিং পুল, দৃষ্টিনন্দন পুকুর, ঝুলন্ত সেতু, জিম, সেমিনার কক্ষ, উন্মুক্ত মঞ্চ, কিডস জোন, কটেজসহ নানান সুবিধা রয়েছে এখানে। এ ছাড়াও বিভিন্ন রাইডও রয়েছে।

রংপুর চিনিকল লিমিটেড ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। চিনি কারখানা, বাণিজ্যিক খামার ও জৈব সার কারখানা এবং অফিস ও আবাসন ভবনসহ এর মোট আয়তন ১ হাজার ৮৪২ একর। এখানে চিনি তৈরির সমস্ত প্রক্রিয়া দেখতে পাওয়া     যায়। এটি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জে অবস্থিত।

গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার হরিণমারী গ্রামে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে ড্রিমল্যান্ড এডুকেশনাল পার্ক । ১৯৯৫ সালে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রশিদুন্নবী চাঁদ প্রায় ১৭ একর জমিতে গাইবান্ধা জেলা শহরের অন্যতম এই বিনোদন কেন্দ্রটি নির্মাণ করেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ ড্রিমল্যান্ড এডুকেশনাল পার্ক-এ আছে দেশি-বিদেশি বৃক্ষ, ফুলের বাগান, ভাস্কর্য এবং বিভিন্ন স্থাপনা।

ড্রিমল্যান্ড পার্কের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে সরু রাস্তার দুই পাশজুড়ে শোভাবর্ধণ করে থাকা নানা রকম দেশি-বিদেশি ফুলের গাছ। দর্শনার্থীদের বসে বিশ্রাম নেয়ার সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট দূরত্বে বেঞ্চ ও শেড নির্মাণ করা হয়েছে। ড্রিমল্যান্ড এডুকেশনাল পার্কের মাঝখানে গাছগাছালিতে ঘেরা শান বাঁধানো একটি সুন্দর পুকুর রয়েছে। আর বৃক্ষের ফাঁকে ফাঁকে রয়েছে ২৫৫ জন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী ও গুণীজনদের ভাস্কর্য। এছাড়া এখানে আরও আছে বাংলাদেশের বিশাল মানচিত্র, পলাশী যুদ্ধক্ষেত্রের মানচিত্র, জীবজন্তুর ভাস্কর্য এবং নানান রকম খেলাধুলার ব্যবস্থা।

গাইবান্ধা জেলা সদর থেকে ১৬ কিলোমিটার পশ্চিমে সাদুল্লাপুর উপজেলার অন্তর্গত বড় জামালপুর গ্রামে জামালপুর শাহী মসজিদের অবস্থান। জনশ্রুতি রয়েছে, প্রায় ৬০০ বছর পূর্বে ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে ইরাক থেকে ৩৬০ জন আউলিয়া বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েন। এদের মধ্যে গাইবান্ধা শহরে আগমনকারী সুফি হযরত শাহ জামাল (রঃ) এর তত্ত্বাবধানে এই ঐতিহাসিক শাহী মসজিদটি নির্মিত হয় এবং তাঁর নামানুসারে ইউনিয়ন পরিষদ ও মসজিদের নামকরণ করা হয়।

জামালপুর শাহী মসজিদটি দীর্ঘদিন মাটির চাপা পড়েছিল। পরবর্তীতে ৬০ শতকে গাইবান্ধা মহকুমা প্রশাসক হক্কানী কুতুবউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি মসজিদ অনুসন্ধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। হঠাৎ প্রচন্ড ঝড়ে মসজিদের স্থানে গজিয়ে উঠা বটগাছ ভেঙ্গে পড়লে স্থানীয় লোকজন মসজিদটি দেখতে পায়। এ কারণে অনেকে একে গায়েবি মসজিদ হিসেবে অবহিত করেন। মসজিদের সামনে একটি বিশালাকারের দিঘী রয়েছে, আর দীঘিটিকে ঘিরে নানা লোককথা প্রচলিত আছে।

জামালপুর শাহী মসজিদের নিচের দেয়াল ৭২ ইঞ্চি ও উপরের দেয়াল ৫৬ ইঞ্চি পুরুত্ব বিশিষ্ট। মসজিদের ভিতরে মাত্র ২ কাতারে নামায আদায় করার সুযোগ ছিল তাই মূল অবকাঠামো ঠিক রেখে মসজিদ সম্প্রসারণ ও সংস্কার করা হয়।

 

সম্পাদক ও প্রকাশক: সরদার মোঃ শাহীন
উপদেষ্টা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম সুজন
বার্তা সম্পাদক: ফোয়ারা ইয়াছমিন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: আবু মুসা
সহ: সম্পাদক: মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিস: ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
বার্তা বিভাগ: বাড়ি # ৩৩, রোড # ১৫, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন: ০১৮৯৬০৫৭৯৯৯
Email: simecnews@gmail.com