স্বপ্নের মতো একটা স্কুল আছে আমাদের

প্রকাশের সময় : 2018-11-07 17:46:26 | প্রকাশক : Admin
স্বপ্নের মতো একটা স্কুল আছে আমাদের

সিমেক ডেস্কঃ বাচ্চাদের সবচেয়ে প্রিয় কাজ কী? খেলাধুলা করা। আর সবচেয়ে অপ্রিয় কাজ কী? পড়াশোনা করা। এখন যারা অভিভাবক, তারা যখন শিশু ছিলেন, তখনও এই দুটি প্রশ্নের উত্তর একই ছিল। মোটাদাগে আমাদের দেশের শিক্ষার ব্যবস্থাটাই এরকম- পড়া আর খেলা এই দুটি বিষয় এখানে ঠিক বিপরীত জায়গায় অবস্থান করে। যেন একটি করলে আরেকটি করা যাবে না। আর দুটোই একসাথে চালানোর কথা তো এখানে অভিভাবকেরা ভাবতেই পারেন না!

অথচ শিশুদের মনোজগতটা কিন্তু অন্যরকম। বড়রা বুঝতে পারেন না কিংবা বুঝতে চান না যে, শিশুদের মন তো আর বড়দের মতো না। তাকে ইচ্ছেমতো খেলতে দিলেই সে সবচেয়ে খুশি হবে, জোর করে পড়তে বসালে না। একগাদা বই-খাতা সহ একটা ভারী ব্যাগ তার কাঁধে চাপিয়ে দিলে সে পড়ালেখা বিষয়টাকে মোটেই ভালো চোখে দেখবে না, বরং বই-খাতাকে ভাবতে শুরু করবে নিজের শত্রু । হয়তো দেখা যাবে, স্মার্টফোনের যে গেমটির প্রথম ধাপ পেরুতেই আপনার কষ্ট হয়ে যায়, সেটার যাবতীয় কলাকৌশল আয়ত্ত করে ইতিমধ্যেই আপনার বাচ্চা সেই গেমে ‘এক্সপার্ট’ হয়ে গেছে। অথচ একটা ট্রান্সলেশন করতে বললেই যেন তার ছোট্ট মাথাটা একদমই কাজ করে না। অংকের খাতায় যে শিশুটা সাধারণ যোগ-বিয়োগের হিসাব মেলাতে পারছে না, দেখা যাবে, সে আবার ক্রিকেট খেলার সময় নিজের রানের হিসাব ঠিকই মুখে মুখে করে ফেলছে!

শিশুদের মনোজগতটা কিন্তু অন্যরকম। এরকম কেন হয়? আসলে একটা শিশু কীভাবে তার চারপাশটাকে দেখে? সে কী করতে পছন্দ করে? কোন কোন বিষয় নিয়ে তার আগ্রহ? এরকম কতগুলো প্রশ্নের উত্তর যদি জানা যায়, তাহলে কিন্তু তাকে কিছু শেখানোর জন্য খুব একটা বেগ পেতে হবে না। যদি একটা বাচ্চা খেলতে খেলতেই শেখার সুযোগ পায়, তাহলেই সে কেবল ঐ শেখার কাজটিতে আনন্দ খুঁজে পাবে। আগ্রহী হয়ে উঠবে আরও নতুন কিছু শিখতে।

অথচ আমাদের স্কুলগুলো তো এমন না। এখানে বাচ্চাদের পড়াশোনা মানে একগাদা বই, হোমওয়ার্ক, টিউটোরিয়াল, ক্লাস টেস্ট, ফাইনাল- ঠিক বড়দের পড়ালেখার মতোই। একদম ছোট্ট বয়সেই ‘ভর্তি পরীক্ষা’র মতো কঠিন প্রতিযোগিতায় পর্যন্ত তাকে বসতে হয়। খেলার মাঠ তো নেই-ই, স্কুল ছুটির দিনে টিভি দেখা বা গেম খেলা কিংবা বড়দের সাথে রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসে থাকা ছাড়া তার আর কিছু করার থাকে না। টুকটাক খেলার সুযোগ যা একটু থাকে, তাতে তো তার মন ভরে না। রিমোট কন্ট্রোল খেলনা গাড়ি বা রোবটগুলোও বেশিদিন ভালো লাগে না তার। ওদিকে স্কুলের হোমওয়ার্ক হিসাবে হাতের লেখা সুন্দর করার নামে পাতার পর পাতা জুড়ে তাকে বর্ণমালা লিখতে হয়। সে হাঁপিয়ে উঠে, বর্ণগুলোর প্রতি তার মনে তৈরি হয় বিরুদ্ধতা। শিশু বয়স থেকেই ধীরে ধীরে পড়াশোনাটা তার কাছে পরিণত হতে থাকে বিরক্তিকর ও বিস্বাদ এক বস্তুতে। স্কুলটা কখনো কখনো তাদের কাছে হয়ে যায় প্রচণ্ড ভারী বোঝা!

কিন্তু এমন একটা স্কুল যদি হতো, যে স্কুলে কোনো পড়ালেখা নেই! সেখানে শিশুরা শুধু খেলে, গল্প করে আর ছবি আঁকে! সেখানে তারা গল্প শুনে, এরপর নিজেরা গল্প বানায়, গল্প লিখে,  আবার ছবি এঁকে এঁকে গল্পের বইও বানিয়ে ফেলে। এই গল্পের মতো করে পুতুল বানিয়ে আবার তারা পুতুল নাচও করে! সেই স্কুলের শিশুরা আইসক্রিমের কাঠি দিয়ে প্লেন বানায়,   প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে বানায় কলমদানি, কিংবা নারকেলের পাতা পেলে বানিয়ে ফেলতে পারে পাতার চশমাও! এখানে রোবট নিয়ে খেলার আগে বাচ্চাগুলো নিজেরাই সেটা বানিয়ে নেয়, কিংবা বানায় ছোট্ট পুতুলের ঘরও! খেলতে খেলতে এখানে তারা টেরও পায় না যে, এসব খেলার ভেতর দিয়েই তারা শিখে ফেলছে অনেক কিছু, একগাদা বইয়ের বালাই ছাড়াই!

এমন স্কুল কিন্তু সত্যি সত্যি আমাদের দেশেই আছে! সেই স্কুলে বাচ্চারা খেলে আর শেখে। একদল বুদ্ধিদীপ্ত তরুণের হাত ধরে স্কুলটি চলছে ঢাকা আর চট্টগ্রাম দুই শহরেই, সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে। নাম তার কিডস টাইম।

স্কুলটি মূলত ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের জন্য। এই বয়সের শিশুদের পড়াশোনার ধরনটা যদি হয় একঘেঁয়ে, তাহলে পড়ালেখা ব্যাপারটা তার কাছে সারাজীবন একঘেঁয়েই লাগবে। আবার যদি উল্টোটা হয়, মানে পড়াশোনার মাঝে শিশু যদি আনন্দ খুঁজে পায় এই বয়সেই, তাহলে সেটাই সে সারাজীবন মনে রাখবে। এই স্কুলের শুরুটা সেই চিন্তাটি নিয়েই। কীভাবে শিশুর মাঝে সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা আর মূল্যবোধ- এই তিনের সমন্বয়ে একটা আনন্দময় স্কুলজীবন তৈরি করা যায়, সেই ভাবনা নিয়েই কিডস টাইমের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে। একদম  শুরুতে স্কুলটির পাঠ্যবিষয় ছিল একটিমাত্র কোর্স, যার নাম ক্রাফট কোর্স।

ক্রাফট কোর্স মানে সত্যি সত্যি হাতে কলমে ‘কিছু বানাতে শেখা’। ‘দীপু নাম্বার টু’ সিনেমাটি আমাদের প্রায় সবারই দেখা। সেখানে দীপুকে দেখা যায়, সে নানারকম হাতের কাজে অভ্যস্ত। সে বই বাঁধাই করতে পারে, কিংবা শর্ট সার্কিটে পুড়ে যাওয়া ফিউজও ঠিক করে ফেলতে পারে। এই ধরনের সহজ কিছু কাজ বড়দের অনেকেই করতে পারে না শুধু না জানার কারণে নয়, সেই সাথে অনভ্যস্ততার কারণেও। শিশুরা যদি এই বয়সে একটা কিছু তৈরি করতে শেখে, তাহলে তাদের মাঝে এই অভ্যস্ততাটুকু চলে আসে।

সে যখন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে রং-বেরঙের মুখোশ বানায়, ভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আইসক্রিমের কাঠি আর কাগজ দিয়ে শহিদ মিনার বানায়, তাহলে তার মাঝে জন্ম নেয় সৃজনশীলতার বোধ। একই সাথে নিজের সংস্কৃতিকে লালন করার একটা শিক্ষাও সে পায় এখান থেকে। সেই সাথে এগুলো করতে গিয়ে হাত-পায়ের ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের ছোট্ট শরীরে যে একটা ভারসাম্য তৈরি হয়, সেটাও কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের হাতে ছোটখাট উপকরণ তুলে দিলেই তারা খেলাচ্ছলে বানিয়ে ফেলতে পারে দারুণ সব জিনিস, আর তাদের মাঝ থেকে সেই সৃষ্টিশীলতার গুণটুকু তুলে আনা হয় এই স্কুলে।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com