নতুন পথ দেখাবে বৃত্তাকার রেলপথ

প্রকাশের সময় : 2018-11-21 13:29:46 | প্রকাশক : Admin
নতুন পথ দেখাবে বৃত্তাকার রেলপথ

মহিউদ্দিন মাহীঃ বেশকিছু উড়ালসেতু চালু হয়েছে। মেট্রোরেলের কাজ চলছে। তৈরি হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। এগুলোর পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার যানজট কমাতে এবার সার্কুলার রেল বা বৃত্তাকার রেলপথের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে শুরু হচ্ছে ঢাকার চারপাশে সার্কুলার রেলের (বৃত্তাকার রেলপথ) কার্যক্রম। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য দক্ষ প্রতিষ্ঠান খোঁজার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ৩ অক্টোবরের মধ্যে যোগ্য প্রতিষ্ঠান তাদের ডকুমেন্ট জমা দেয় রেলপথ মন্ত্রণালয়ে। রেলপথ মন্ত্রণালয় এটি যাচাই বাছাই করে ডিসেম্বরের মধ্যে ফিজিবিলিটি স্টাডির সব প্রক্রিয়া শেষ করবে। এরপর শুরু হবে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিল্ড লেবেলে ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (প্রকৌশল) ও সার্কুলার ট্রেনের প্রকল্প পরিচালক মোঃ মনিরুল ইসলাম ফিরোজী বলেন, ‘সার্কুলার ট্রেনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা বসে নেই। কাজ করছি। প্রকল্পটি ২০১৪ সালের হলেও আমরা এটিকে ধরবো জানুয়ারি থেকে। কারণ জানুয়ারিতে এটি একনেকে পাস হয়েছে। এরপর আমরা বেশ ভালোই এগিয়েছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আশা করছি ২০১৯ সালের জানুয়ারিতেই আমাদের কাজ মাঠে গড়াবে। মাঠ পর্যায়ে ফিজিবিলিটির কাজ শুরু করতে পারবো।’ তিনি বলেন, এক বছর আমাদের হাতে সময় আছে ফিজিবিলিটি স্টাডি করার। এরপর আমরা ডিপিপি তৈরি করবো। এরপরের কার্যক্রম হচ্ছে এটিকে তৈরির জন্য আমরা ডোনার এজেন্সি খুঁজবো। সেটি পেয়ে গেলেই আমাদের মূল কাজ শুরু হবে। সে হিসেবে বলা যায় ২০২০-২১ সালের দিকে সার্কুলার ট্রেনের মূল কাজ শুরু হতে পারে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, যানজট নিরসনে ঢাকা শহরের চারদিকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণে ২০১৪ সালে একটি প্রকল্প হাতে নেয় রেলপথ মন্ত্রণালয়। সেই প্রকল্প শুরু করার জন্য একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি করার জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সায় দিয়েছে।

এই প্রকল্পের জন্য ঢাকার চারদিকে বৃত্তাকার রেলপথ তৈরি করা হবে। রেলপথটি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের তারাবো সেতু এলাকা থেকে শুরু হয়ে ইস্টার্ন বাইপাস, আবদুল্ল−াহপুর, ডিএনডি বাঁধ, লালবাগ, পোস্তগোলা, কদমতলী হয়ে আবার তারাবো গিয়ে শেষ হবে। লেভেল ক্রসিংয়ের ঝামেলা এড়াতে পুরো রেলপথটি হবে এলিভেটেড (উড়ালপথে)। আর বৃত্তাকার এ রেলপথে স্টেশন থাকবে ৪০টি। ট্রেন চলবে স্ট্যান্ডার্ড গেজ ডাবল লাইনে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার (ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন)। এ জন্য ছয় বগিবিশিষ্ট ৩০ সেট ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ইএমইউ) কেনা হবে। সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ৫ মিনিট পর পর দুই দিক থেকেই চলবে। আর সার্কুলার রেলপথের টিকিট ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হবে স্মার্ট কার্ড।

এর নকশা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (প্রকৌশল) ও সার্কুলার ট্রেনের প্রকল্প পরিচালক মনিরুল ইসলাম ফিরোজী বলেন, ঢাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল, ফ্লাইওভারকে মাথায় রেখেই সার্কুলার রেলপথ তৈরি করা হবে। একই সাথে সার্কুলার রেলপথ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও জনবসতিপূর্ণ স্থানগুলোর কাছাকাছি থাকবে। যাতে করে ওই সব এলাকা থেকে মানুষ সহজেই সার্কুলার ট্রেনে চড়ে গন্তব্যে যেতে পারে। প্রতি ৫ মিনিট পর পর সার্কুলার ট্রেন চলবে বলে এতে সারা দিন বহু যাত্রী পরিবহন করা যাবে। সার্কুলার ট্রেনে ঢাকার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যেতে আধা ঘণ্টারও কম সময় লাগবে।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com