কেটে গেছে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা

প্রকাশের সময় : 2018-12-06 14:47:05 | প্রকাশক : Admin

বিভাষ বাড়ৈঃ কদিন আগেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মুখোমুখি অবস্থানে ছিল সরকার ও বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত বিরোধী পক্ষ। এমনকি নির্বাচন নিয়ে সংলাপ হতে পারে এমন আশাও করা যাচ্ছিল না। ফলে জনমনে ক্রমেই বাড়ছিল উৎকণ্ঠা। গত নির্বাচনের মতো বিরোধীদের লাগাতার অবরোধের নামে নাশকতার আশঙ্কাও বাড়ছিল। তবে বিরোধীদের অবাক করে প্রধানমন্ত্রীর নেয়া সংলাপে পাল্টে গেল পরিস্থিতি। দুদিন আগেও শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না বলে যারা হুমকি দিয়েছেন তারা সবাই এখন সংবিধান মেনে সরকারের অধীনে নির্বাচনে প্রস্তুত।

এ অবস্থাকে বাংলাদেশের গুমোট রাজনীতির এক ‘বিশাল রাজনৈতিক সাফল্য’ বলে অভিহিত করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি নির্বাচনের আগে একটি বড় সফলতা। বাংলাদেশ এখন রোলমডেল অন্য দেশগুলোর কাছেও। যেখানে পাকিস্তানও এখন বাংলাদেশের মতো হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। সংলাপের ফল হিসেবে এই মুহূর্তে সরকার সমর্থিত সকল দল, বিএনপি সমর্থিত দল ছাড়াও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে দেশের প্রতিটি দল। নিবন্ধন না থাকলেও তথ্য মিলছে, বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করে গোপনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে মাঠে সক্রিয় জামায়াতও। জাতীয় পার্টি ও ডঃ বদরুদ্দোজা চৌধুরীর যুক্তফ্রন্ট ছাড়াও তফসিল মেনে নির্বাচনের কাজে সক্রিয় সকল ইসলামী দল।

সংলাপের ফলে বাংলাদেশের হঠাৎ ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘দি ইকোনমিস্ট। ‘নির্বাচনের আগে হঠাৎ নমনীয় ক্ষমতাসীন দল’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইকোনমিস্ট বলেছে,  এক সপ্তাহ আগেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানুষের চিন্তাভাবনা অন্য রকম ছিল। অনেকেই মনে করছিল, আগামী নির্বাচনে খুব বেশি ভোট পড়বে না। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবারও যেভাবেই হোক নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করতে চাইবে। কিন্তু হঠাৎ করেই দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। পরিবর্তিত এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মানুষ আশা করছে, ডিসেম্বরের নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত অক্টোবর মাস দুটি বড় চমক নিয়ে এসেছে। মাসের মাঝামাঝি সময়ে বড় দুই রাজনৈতিক দলের একটি বিএনপি তাদের দীর্ঘদিনের ডানপন্থী মিত্রদের বাদ দিয়ে তুলনামূলক উদার ছোট দলগুলোর সঙ্গে জোট করে। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ডঃ কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন এই জোটের নাম জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এর চেয়েও বড় চমকটি আসে পরে। কঠোর অবস্থানে থাকা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ হঠাৎ করেই নমনীয় হয়। তারা ঐক্যফ্রন্টসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শুরু করে। ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দুই দফায় সংলাপ হয়।

সংলাপের ফল হিসেবে সারাদেশেই নির্বাচন নিয়ে ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। কদিন আগের ভয় নেই জনমনে। ক্ষমতাসীন জোট নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা আগেই জানিয়েছিল, ভোট নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই সরগরম আওয়ামী লীগের কার্যালয়। জাতীয় পার্টিও নির্বাচনের প্রচারে নেমে পড়েছে আগেই। এখন ভোটের মাঠে বিএনপিসহ তাদের রাজনৈতিক মিত্ররাও। অবশেষে বাম গণতান্ত্রিক জোটও নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কাজ শুরু করছে ইসলামী দলগুলো। ইতোমধ্যে কয়েকটি দল প্রাথমিকভাবে প্রার্থী তালিকাও চূড়ান্ত করেছে। কিছু দল ক্ষমতায় যেতে বড় জোটের শরিক হতে বা তাদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টাও করছে। নির্বাচন সামনে রেখে হয়েছে কিছু নতুন জোট। ১৫টি সমমনা রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি নিয়ে গঠিত ইসলামিক ডেমোক্র্যাটিক এ্যালায়েন্স ১৫ সেপ্টেম্বর আত্মপ্রকাশ করে।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সংঘাতের বিপরীতে শান্তিপূর্ণ এ পরিবেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাষ্ট্রনায়কোচিত পদক্ষেপের ফল। তার পরেও যে আতঙ্ক ছিল জনমনে নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাষ্ট্রনায়কোচিত পদক্ষেপের ফলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য, দেশের জন্য বড় একটি কাজ হয়েছে। সকলে এখন নির্বাচনমুখী। নেই কোন সংঘাত।

সকল দলকে নির্বাচনে আনাকে শাসক দলের বিশাল রাজনৈতিক সাফল্য বলে অভিহিত করেছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিপপের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডঃ নাজমুল আহসান কলিমুল্ল−াহ। তবে এক্ষেত্রে বড় কৃতিত্ব পান বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। বলতে গেলে তার একক কৃতিত্বে দেশে এখন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত হয়েছে। সংঘাতের বিপরীতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি নির্বাচনের আগে তাই ক্ষমতাসীনদের একটি বড় সফলতা বলতেই হবে।

তিনি আরও বলছিলেন, সংলাপ দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবেশ দিয়েছে। এখন যে পরিবেশ হয়েছে এটাই গণতন্ত্র। গণতন্ত্র মানে তো কেবল নির্বাচন নয়। সকল মত পথের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই গণতন্ত্র। এ বিশেষজ্ঞ বলছিলেন, সংলাপের উদ্যোগ ও সেখানে সরকারের নেয়া ইতিবাচক অবস্থান ইতিবাচক ফল দিয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব) মোহাম্মদ আলী সিকদার বলেন, সরকার যে সব দলকে নির্বাচনে আনতে সক্ষম হয়েছে তা সারা বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশে^ নন্দিত নেত্রী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। সকল দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সরকারের বড় একটি সফলতা।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com