কালো মানুষগুলোর ভাল ব্যবহারে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি

প্রকাশের সময় : 2018-12-06 15:01:54 | প্রকাশক : Admin
�কালো মানুষগুলোর ভাল ব্যবহারে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি

মোঃ মহসিনঃ (পূর্ব প্রকাশের পর)ঃ মানবতা, মহানুভবতা, অন্যকে সাহায্য করার প্রবল আন্তরিকতা CMC হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সবার মাঝেই লক্ষ্য করা যায়। "সবার উপরে মানুষ সত্য তার উপরে নাই" এই ধর্মীয় বাণীটি ওরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। হাসপাতালের মাঝখানের একটি বড় অংশ জুড়ে একটি চ্যাপেল সার্বক্ষণিক ওখানে ধর্মগুরু ধর্মীয় বয়ান করছেন। হাসপাতালের একটি অংশে লাইটিং করে লেখা আছে" The Loard is Your, the God is with you, wherever you go."

পাঠক এবার আসা যাক আমার লেখার ২য় অংশে; "আমরা কেন গিয়েছিলাম Vellore এর CMC হাসপাতালে"- বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি  বাংলার প্রতিটি মানুষ ত্যক্ত বিরক্ত। এমন কোন লোক বাংলাদেশে পাওয়া যাবে না যারা ডাক্তারের সমালোচনা করে না। একজন অতি সাধারণ মানুষও  সমালোচনা করে। সম্প্রতি নচিকেতাও উচ্চ স্বরেই হাসপাতাল নিয়ে গান গেয়েছেন। হাজার হাজার মানুষের ঘৃনা আর কটুক্তি মিশ্রিত কথাগুলো কি আমাদের কারোরই কর্ণকুহরে প্রবেশ করেনা?

এই যে এত সব আলোচনা সমালোচনা, এ থেকে কি শিক্ষা নেয়ার কিছুই নেই? আমার বিশ্বাস এদেশেও যথেষ্ঠ ভাল ডাক্তার আছেন। কিন্তু বিতর্কিতরাও যে নেই, তা কি কেউ অস্বীকার করতে পারবে? পেশার প্রতি, আদর্শের প্রতি, সেবার প্রতি আরো একটু সচেতন হলেই দেশের মানুষ বিনাবাক্য ব্যয়ে তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতেন। সমলোচনা করতেন না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিশ্বাস করি, একজন রোগী যখন ডাক্তারের শরনাপন্ন হন তখন শুধু ঐ রোগীটিই বুঝে তার অসহায়ত্বের কথা। আমার মনে হয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও তাদের কাছে অসহায়, ডাক্তারদের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শুনলাম, “চিকিৎসার জন্য হাজার কোটি টাকা দেশ থেকে বিদেশে চলে যাচ্ছে। আপনারা একটু সচেতন হউন, চিকিৎসার নামে দেশের টাকা বিদেশে যাবেনা।” সরকারী হাসপাতাল গুলোতে -Ray machine, MRI machine maximum সময়ই খারাপ থাকে, কেন? ক্লিনিক এবং প্রাইভেট  হাসপাতাল গুলোর জমজমাট ব্যবসার জন্য। আমি নিজে বসে শুনলাম একজন ডাক্তার রোগীকে বলছেন; আপনি সরকারী হাসপাতালে অপারেশন করাতে চাচ্ছেন? ওখানে আপনার ইনফেকশন হতে পারে, প্রাইভেটে ওমুক হাসপাতালে আসুন এত টাকা লাগবে আমি অপারেশন করে দিব। এ যেন সরকারী হাসপাতাল থেকে রোগী বাগিয়ে নিয়ে নিজের অর্থের ক্ষুধা মিটাবার হীন প্রয়াস।

যাক সেসব; যা বলতে চেয়েছিলাম, ২০১৭ সালের ২৩ শে সেপ্টেম্বর থেকে অদ্যাবধি আমরা পারিবারিক ভাবে আমার ছোট ভাই হুমায়ুনকে নিয়ে বড় টেনশনে আছি। এর মূল কারণ বাংলাদেশের ডাক্তারের ভুল অপারেশন; বাম পা ফুলে গেছে, বেশ ক’জন ডাক্তার দেখানোর পর গেলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে, আমাদের পরিচিত এক জুনিয়র ডাক্তারের পরামর্শে।

শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত, যিনি ধানমন্ডির এক জনপ্রিয় হাসপাতালে বসেন। ওখানে দেখা করলাম, উনি অর্থোপেডিক্স ডাক্তার। উনি দেখেই বললেন “এটা কোন সমস্যাই না। কোমড়ে এবং ঘাড়ে একটা অপারেশন লাগবে। আমি আপনাদের অভয় দিচ্ছি ৪/৫ দিনেই হেঁটে বাড়ি যাবেন। Day after tomorrow অপারেশন, এত টাকা লাগবে। আজই কিছু টাকা    দিয়ে যান”। উনি টাকাটা এতটাই লোভনীয় ভাবে চাইলেন ওখান থেকেই আমাদের বুঝা উচিত ছিল, ডাক্তার হিসেবে উনি ভালো নাও হতে পারেন।

অপারেশন হয়ে গেল। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, ৪/৫ দিন যায়, ৪/৫ মাস যায় ভাই আমার দাঁড়াতে পারেনা। উনাকে জিজ্ঞেস করলে বলে, “এত ব্যস্ত হচ্ছেন কেন? ঠিক হবে হাঁটুতে ইনজেকশন লাগবে” পর পর ৩টি ইনজেকশন হাঁটুতে পুশ করলেন। এই ইনজেকশন উনি নাকি বিদেশ থেকে এনেছেন, বাজার মূল্য থেকে যখন অনেক বেশি মূল্য নিলেন ঠিক সেদিন থেকে বুঝতে পারলাম উনি আমাদেরকে বোকা বানিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন।

যখন হতাশ হয়ে উনাকেই প্রশ্ন করলাম এখন আমরা কি করব? উনি সম্ভবত তৃতীয় বারের মতো MRI, X-Ray, Blood Test করালেন, পরীক্ষা দেখে বললেন; “আচ্ছা আপনারা রোগীকে BSMMU তে নিয়ে আসুন, কয়েকদিন Physio Theraphy  দিব, যদি না সারে তবে একটা ছোট্ট অপারেশন লাগবে” একটা অপারেশনে যেখানে জীবন যায় যায় অবস্থা সেখানে আবার অপারেশন? কতটা নির্মম আচরণ আমরা তার কাছ থেকে পেলাম। তারপরেও উনার নামটা উচ্চারণ করতে পারছিনা। হয়ত উঁচু স্তরে আছেন। যে দেশে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় রোগী মারা গেলে ডাক্তারের কিছু হয়না, মরা রোগী লাইফ সাপোর্টে রেখে টাকা আদায় করলে বিচার হয়না, যেখানে রোগীরা প্রতিবাদ করলে ডাক্তার চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয় সে দেশে প্রতিবাদ করে কি লাভ হবে? কাজেই চলে গেলাম রোগী নিয়ে Vellore এর CMCss হাসপাতালে।

Vellore হাসপাতালের ডাঃ রোগীকে তিনটি প্রশ্ন করলেন। আপনি কি প্রস্রাব পায়খানা ধরে রাখতে পারতেন না? পারতাম, তাহলে কেন আপনার ডাক্তার আপনাকে অপারেশন করল? আপনি কি একেবারেই হাঁটতে পারতেন না? পারতাম, তাহলে অপারেশন প্রয়োজন ছিল না। আপনি কি ব্যথায় অস্থির হয়ে যেতেন? না, তাহলে আপনার ভুল অপারেশন হয়েছে। অপারেশন করে আপনার রোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। অপারেশনে আপনার যে ক্ষতি হয়েছে তা ভালো হওয়ার জন্য আপনাকে দীর্ঘদিন বেডরেষ্টে থাকতে হবে। কিছু ঔষধ দিলেন, কিছু ব্যায়াম শিখিয়ে দিলেন এবং ছয় মাস পর আবার দেখা করতে বললেন।

ওনাদের চিকিৎসায় আজ আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। দোয়া করবেন; হুমায়ুন যেন পূর্ণ সুস্থ হয়ে আপনাদের মাঝে আসতে পারে। পরিশেষে বলতে চাই-

আমাদের দেশে সেই ডাক্তার কবে হবে

টাকার জন্যে মানুষকে পঙ্গু না করে

সত্যিকার নির্লোভ চিকিৎসা দিবে।   

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com