অর্থনৈতিক বুনিয়াদ গড়ছে কমলা চাষ

প্রকাশের সময় : 2018-12-06 15:16:23 | প্রকাশক : Admin
�অর্থনৈতিক বুনিয়াদ গড়ছে কমলা চাষ

মোঃ নুরুল করিম আরমানঃ এক সময় বান্দরবানের লামা উপজেলার পাহাড় গুলোতে জুম ও বনজ গাছের ব্যাপক আবাদ হত। বেশ কয়েক বছর ধরে এসবের পরিবর্তে কমলার চাষ হচ্ছে পাহাড়গুলোতে। এতে কমলার অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করেছে এ উপজেলা। এখানের অধিকাংশ পাহাড় এখন কমলার থোকায় ভরে উঠেছে। সর্বত্র সচরাচর বিক্রি হচ্ছে উৎপাদিত টসটসে এসব রসালো কমলা।

এখানের কমলার স্বাদ ও আকারের দিক থেকে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত কমলার চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে এবার। আর্থিক সচ্ছলতার অপার সম্ভাবনা দেখে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিদের পাশাপাশি বাঙালিরাও ঝুঁকছে এ কমলা চাষে। বর্তমানে উপজেলার শতশত কৃষক কমলা চাষে জড়িত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়ভাবে এর কদর থাকায় দিন দিন কমলা চাষের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিনই এখানে উৎপাদিত কমলা ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা।

লামা উপজেলার ২৬০ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে কমলা চাষ হয়েছে। আর এ থেকে উৎপাদন হয়েছে ২৫৫ মেট্রিক টন। বর্তমানে সাত শতাধিক কৃষক কমলা চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এখানকার পাহাড়ের মাটি, আবহাওয়া কমলা চাষের উপযোগি। তবে বেসরকারী হিসেবমতে এর পরিধি আরও বেশি হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার গজালিয়া, ফাঁসিয়াখালী, রুপসীপাড়া ও লামা সদর ইউনিয়নের পাহাড়গুলোতে বেশ কয়েক বছর ধরে গড়ে উঠেছে সাড়ে তিন শতাধিকেরও বেশি কমলা বাগান।

এসব ইউনিয়নের লুলাই, পোপা ও মিরিঞ্জা নামক পাহাড়ে কমলার উৎপাদন লক্ষনীয়। কমলা চাষে এগিয়ে রয়েছে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি ম্রো সম্প্রদায়। তাদের দেখাদেখি কিছু বাঙ্গালী কৃষকরাও কমলা চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। গজালিয়া ইউনিয়নের লুলাইং লেবু পালং এলাকার কমলা চাষী সোচিং মুরুং জানান, পাহাড়ের ৩ একর জমিতে কমলা আবাদ করেছেন। প্রথম বছর একর প্রতি বীজ সংগ্রহ, চারা পলিব্যাগ করা, জায়গা পরিস্কার, কীটনাশক ও শ্রমিক বাবদ ৩০ হাজার টাকা খরচ হলেও ৫/৬ বছর পর একে একে কমলা ধরা শুরু করে। (অবৈজ্ঞানিকভাবে বীজ সংগ্রহ করে পাহাড়ের মাছাংয়ের ওপর পলিব্যাগ করে চারা উৎপাদন করে শেষে পাহাড়ে চারা লাগিয়ে থাকেন চাষীরা) পরে প্রতি সপ্তাহ অন্তর অন্তর কমলা উত্তোলন করে বিক্রি করা যায়।

তিনি এক একর জমির কমলা বিক্রি করে পেয়েছেন প্রায় আড়াই লাখ টাকার বেশি। এছাড়াও কমলাসহ মৌসুমি ফল প্রক্রিয়াজাত এবং বাজারজাতকরণের সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় প্রতিবছর ৫-৮ লাখ টাকার কমলা বাগানেই পচে যাচ্ছে। কৃষক মকবুল, লাংকম ম্রো বলেন, এখানের পাহাড়ে কমলা, কলা, আনারস, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফল উৎপাদন হচ্ছে।

এ অঞ্চলের মাটি এবং আবাহাওয়া কমলা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। পরিকল্পিতভাবে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় কমলা চাষ সম্প্রসারণ হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকারীভাবে কৃষকদেরকে প্রশিক্ষণ শেষে বিনামুল্যে কমলার চারাও প্রদান করা হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় জুম চাষের পরিবর্তে কমলা চাষে আগ্রহী হচ্ছে পাহাড়িরা।

স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে উপজেলার কমলা এখন দেশের বিভিন্নস্থানে বিক্রি হচ্ছে। গজালিয়া ইউনিয়নের লুলাইং বাজারের চৌধুরী শিংপাশ ম্রো বলেন, লুলাইং এলাকায় উৎপাদিত কমলাগুলো খুবই সুস্বাদু এবং সাইজে বড়। বাগানের কয়েকশ কমলা গাছে ৫০ হাজারেও বেশি কমলা ধরেছে। ব্যবসায়ীরা চাষীদের অগ্রিম টাকা দিয়ে পাইকারি দামে কমলা বাগান কিনে নিচ্ছে।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com