উপমহাদেশে ইসলামের আগমন

প্রকাশের সময় : 2018-12-19 10:31:10 | প্রকাশক : Admin

প্রফেসর ডঃ এ.কে.এম ইয়াকুব হোসাইন: ভারতবর্ষের সঙ্গে আরবদের সম্পর্ক প্রাচীনকাল থেকেই। প্রাগৈতিহাসিককাল থেকেই আরবরা ছিল ব্যবসাপ্রিয় জাতি। পবিত্র কোরআনেও তাদের এ বাণিজ্যপ্রীতির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়। (আল কোরআন, সুরা আল কুরাইশ, আয়াত: ১-২) ঐতিহাসিক এলফিনস্টোন বলেন, হজরত ইউসুফ (আঃ)-এর আমল থেকেই ভারতের সঙ্গে আরবদের চমৎকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল।

আরবে ইসলামের আগমনের পূর্বে রোমান সাম্রাজ্যের সঙ্গে পারস্যের সাসানীয় সাম্রাজ্যের অব্যাহত যুদ্ধ-সংগ্রামের কারণে আরবদের স্থলভাগের বাণিজ্যপথে মারাত্মক বিঘœ ঘটলে প্রয়োজনের তাগিদে বাধ্য হয়ে সমুদ্রবাণিজ্যে আগ্রহী হয় ও নৌপথ অনুসন্ধান করে। খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতাব্দী থেকেই আরবরা নৌবাণিজ্যে ইয়েমেন, হাযরামাউত, দক্ষিণ ভারতের মালাবার, কালিকট, চেরর, বার্মা ও কম্বোডিয়ায় বাণিজ্যের জন্য যাতায়াত করত।

তখন থেকেই আরবরা নাবিক হিসেবে সমুদ্র অভিযানে পারদর্শী ছিল। আরব দেশ থেকে বছরে অন্তত দু’বার আরব নৌবহর মৌসুমি বায়ু ধরে বাণিজ্যিক পণ্য আদান-প্রদানের জন্য ভারত মহাসাগর অঞ্চলে যাতায়াত করত। শুধু তা-ই নয়, মিসর থেকে সুদূর চীন পর্যন্ত প্রলম্বিত দীর্ঘ নৌপথে আরবগণ যাতায়াত করতেন।

প্রাচীনকাল হতে ভারতবর্ষের সঙ্গে আরবদের স্থল ও জল উভয় পথেই যোগাযোগ বিদ্যমান ছিল। আর এটা ছিল বাণিজ্যিক সম্পর্ক। এরূপ অর্থনৈতিক বিনিময় উভয়ের সাংস্কৃতিক বিনিময়কে গতিশীল ও দৃঢ় করেছে। তবে প্রাক-ইসলামী যুগে ধর্মীয় আচারে পৌত্তলিকতার ব্যাপক অনুসরণ উভয় সংস্কৃতিকে গতিধারায় নতুন মাত্রা সংযোজন করে। আরবদের ধর্মীয় আচারে পৌত্তলিকতার প্রভাব কি ভারতীয় সংস্কৃতির অবদান?

সপ্তম শতকে আরব ভূমিতে ইসলামের আবির্ভাবে আরব জীবনের গতিকে বেগবান করে তোলে। যার প্রভাব তাদের বৈষয়িক কর্মকাণ্ডে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। ফলে খলিফা ওমরের সময়েই জল ও স্থল উভয় পথে ভারতের উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক কর্মতৎপরতা শুরু হয়। আর অষ্টম শতকে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয় ছিল সে উদ্যোগেরই ফল। যদিও এর রাজনৈতিক প্রভাব ফলপ্রসূ ছিল না, কিন্তু সাংস্কৃতিক প্রভাব ছিল কালোত্তীর্ণ।

সাংস্কৃতিক সম্পর্কের মধ্যে সুলতান মাহমুদের বার বার ভারত আক্রমণ ভাঙনের সুর সৃষ্টি করে। কিন্তু বৈষয়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে দেখা যায় সুলতান মাহমুদ ভারতে মুসলিম রাজ্য প্রতিষ্ঠার অন্যতম অগ্রদূত। যা মুহাম্মদ ঘুরীর ও বখতিয়ার খলজীর রাজনৈতিক তৎপরতায় চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। তাই আরবদের ভাগ্যকে স্বীকার করে নিয়ে বলতে হয় ভারতবর্ষে রাজনৈতিকভাবে মুসলিম আধিপত্য বিস্তারের কৃতিত্ব তুর্কীদের, আরবদের নয়।

মালাবার উপকূল বয়ে তারা চীনের পথে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করতেন। তৎকালীন এদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে এসে চন্দন কাঠ, হাতির দাঁত ও দন্ত নির্মিত বিভিন্ন আসবাবপত্র, মসলা, মূর্তি, কাপড় ইত্যাদি ক্রয় এবং জাহাজ বোঝাই করে নিজেদের দেশে নিয়ে যেতেন। উপমহাদেশের সরবতক নামক জনৈক শাসক রসুল (সাঃ)-এর নিকট ভারত বর্ষের এক পাত্র ‘যানযাবিল’ বা আদ্রকসহ বেশকিছু উপহার- উপঢৌকন পাঠিয়েছিলেন বলে হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।

নির্ভরযোগ্য ইতিহাস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ইসলামী বিপ্ল−বের প্রথম কয়েক বছরে নবুয়ত ও প্রথম খলিফার আমলে না হলেও দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ফারুক (রাঃ)-এর খিলাফতকালে বিশ্বনবীর পাঁচজন মহাত্মা সাহাবিও উপমহাদেশে আগমন করেছেন। ২৩-৪০ হিজরির মধ্যেই পাক-ভারতের পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত ওই মুসলিম প্রচারক ও মুজাহিদ বাহিনী পৌঁছেছিলেন বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। যে পাঁচজন সাহাবির ভারত আগমনের সন্ধান রয়েছে তারা হলেন : (১) হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ইতবান (রাঃ), (২) হজরত আসেম ইবনে আমর আততামীমী (রাঃ), (৩) হজরত সুহার ইবনে আল-আবদী (রাঃ), (৪) হজরত সুহাইল ইবনে আদী (রাঃ), (৫) হজরত হাকাম ইবনে আবিল আস আছ ছাকাফী (রাঃ)।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com