হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য

প্রকাশের সময় : 2018-12-19 10:32:00 | প্রকাশক : Admin

নুরুল আমিন: এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, ভেজাল ঔষধের রমরমা বাণিজ্য কিছুতেই কমছে না। বরং তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মেয়াদোত্তীর্ণ, নকল ও নিম্নমানের ঔষধে সয়লাব হয়ে উঠেছে বাজার। মানহীন এসব ঔষধ কিনে মানুষ প্রতারিত হয় এবং এসব ঔষধ সেবন করে রোগী রোগমুক্তির পরিবর্তে আরও রোগাক্রান্ত হয়। ভোগান্তির শিকার হয়। এমন কী ভেজাল ঔষধের কারণে অকালে থেমে যায় জীবনের স্নিগ্ধ সমীরণ। যা কখনও মেনে নেয়ার মতো নয়।

শহর থেকে শুরু করে গ্রাম অঞ্চলের ফার্মেসিগুলোতে দিব্যি বিক্রি হচ্ছে ভেজাল ঔষধ। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীরা এ ঔষধগুলো বাজারজাত করে। ভালমানের কোন ব্র্যান্ডের ঔষধের লেবেল হুবহু নকল করা হয়। অনেক অসাধু বিক্রেতা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে লেখা ঔষধ পরিবর্তন করে ভেজাল ঔষধ দিয়ে থাকেন। এতে রোগ ভাল হয় না। বরং জটিলতা বাড়ে। ডাক্তারেরও দুর্নাম হয়। কিন্তু নগদ অর্থ লাভ হয় বিক্রেতার।

অধিকাংশ ফার্মেসির লাইসেন্স নেই এবং ঔষধ বিক্রেতার প্রশিক্ষণ নেই। শিক্ষিত বেকাররা ফার্মেসি খুলে বসে এবং এরা ঔষধ বেচতে বেচতে ডাক্তার হয়ে ওঠে। ভেজাল ও নকল ঔষধে লাভ বেশি বিধায় এগুলো বিক্রির প্রতি এদের আগ্রহ রয়েছে। রোগ ও ঔষধ সম্পর্কে এদের তেমন ধারণা না থাকলেও  লাভের অঙ্কটা বোঝে ঠিকমতো; যা কখনও সুখকর নয়। দিন দিন ভেজাল ঔষধ বাণিজ্য বেপরোয়া হয়ে ওঠছে। জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। দেখার যেন  কেউ নেই। কোন প্রতিকার নেই, প্রতিরোধ নেই। মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হলেও কাজের কাজ তেমন কিছুই হয় না। কিছু কিছু চিকিৎসক রয়েছেন যারা অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যে ব্যবস্থাপত্রে ভুঁইফোড় কোম্পানির মানহীন ঔষধ লিখে থাকেন যা খুব হতাশাজনক।

মিটফোর্ড এলাকায় ঔষধ তৈরির সবধরনের কাঁচামাল পাওয়া যায় এবং এখানে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধের ডাম্পিং করার ব্যবস্থা আছে। নকলবাজরা এখান থেকে কাঁচামাল কিনে ভেজাল ঔষধ তৈরি করে। মিটফোর্ডসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভেজাল ও নিম্নমানের ঔষধ তৈরির কারখানা রয়েছে। এগুলো বন্ধ করার উদ্যোগ না নেয়ার কারণ রহস্যজনক। এছাড়া কোন ঔষধ তৈরির পর সেটি বাজারজাত করার আগে ঔষধটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ব্যবস্থা গ্রহণ না করাও উদ্বেগজনক। ভেজাল ঔষধ রোধে কোন ধরনের অবহেলা কাম্য নয়।

ভেজাল ঔষধ বন্ধ করতে কিছু পদক্ষেপ নেয়া জরুরী। যেমন -ফার্মেসিগুলোকে নজরদারির আওতায় আনতে হবে, লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসি বন্ধ বা সিলগালা করতে, ঔষধ বিক্রেতার প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, নিয়মিত বাজার তদারকি করতে হবে, ভেজাল ঔষধবিরোধী অভিযান ঘনঘন দিতে হবে, বিশেষ অনুমতি ব্যতিত যার তার কাছে ঔষধের কাঁচামাল বিক্রি বন্ধ করতে হবে, ভেজাল ঔষধ উৎপাদন ও বাজারজাত করণ বন্ধ  করতে হবে, সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে ইত্যাদি।

সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভেজাল ঔষধ রোধে জনস্বার্থে কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন আশা করি।

                               - লালমোহন, ভোলা

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com