মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির নবযাত্রা

প্রকাশের সময় : 2019-01-03 20:19:35 | প্রকাশক : Admin

মোরসালিন মিজানঃ কত যে কথা। কথার ফুলঝুড়ি। সব কথা কথার কথায় পরিণত হলো। শুধু কথায় চিড়ে ভিজে না। ভিজল না এবারও। স্বাধীনতাবিরোধীদের পুনর্বাসনের শেষ চেষ্টা ব্যর্থ হলো। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষেই রায় দিল জনগণ। গত দশ বছরের মজবুত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ ধরে আবারও ক্ষমতায় এলো আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট।

আগেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। এবার আরও সুসংহত হলো অবস্থান। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সামনে। এমন সময় এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে? তবে দায়িত্বও বেড়েছে। বিজয়ী দল ও জোটকে বিপুল চাওয়া পূরণের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। ক্ষমতায় থাকা নয় শুধু, আনতে হবে গুণগত পরিবর্তন। মুক্তিযুদ্ধের মৌল আকাঙ্খা মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে। তবেই সার্থক হবে এত এত ভোট পাওয়া।

বিএনপির কথায় আসা যাক। এবারও স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচন করেছে দলটি। এই অপশক্তিকে ধানের শীষ দিয়ে টিকিয়ে উদ্যোগ নিয়েছিল। নতুন কৌশল হিসেবে সামনে ছিল ঐক্যফ্রন্ট। ফ্রন্টের নেতা ডঃ কামাল হোসেন প্রায় প্রতিদিনই সভা-সমাবেশে বক্তৃতা করেছেন। তারও বেশি ছিলেন টেলিভিশনে। গত কয়েকদিনে কত রকমের কথা যে তিনি বলেছেন! হঠাৎই জোরালো কণ্ঠ। উত্তেজনায় ছটফট করতে দেখা যায় তাকে। আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্দেশ্যে গত ১০ ডিসেম্বর তিনি বলেছিলেন, আপনাদের তো আয়ু শেষ হয়ে যাচ্ছে। আরও ২০ দিন আছে। এই ২০ দিনের মধ্যে সময়কে কাজে লাগান। আর কয়েকদিন পর তো সাধারণ মানুষ হয়ে যাবেন। আপনাদের যেন ৩১ তারিখ মোবারকবাদ দিতে পারি সে সুযোগ দেন। কিছু ভাল কাজ করে না গেলে পরে আফসোস করবেন এই বলে যে সুযোগ পেয়েও কিছু ভাল কাজটি করলাম না।

এমনকি একে ওকে হুমকি দিতে দ্বিধা করেননি তিনি। এতকাল পর যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে নিয়ে কী তিনি এ্যাচিভ করতে চান? এমন প্রশ্নের কোন ব্যাখ্যা তিনি দেননি। সাংবাদিকরা স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির নিয়ে প্রশ্ন করায় চুটপাট শুরু করে দেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি এমনকি সাংবাদিককে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। প্রশ্নটিকে ‘বেহুদা কথা বলে’ বলে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। প্রায় মারমুখি হয়ে প্রশ্নকর্তাকে তিনি বলেন, ‘চুপ করো। চুপ করো। খামোশ।’ এমন দম্ভ দেখে অনেকেই অবাক হয়ে যান। তবে কি জনগণ আছে তাদের সঙ্গে? অনেকেই ভেবেছিলেন, আছে।

বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তো ভাইরাল ছিলেন সব সময়। প্রতিদিন কয়েক দফা কথা বলেছেন। ক্ষমতায় আসার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী নেতা বলেছিলেন, ৩০ ডিসেম্বর নীরব ভোট বিপ্লব ঘটবে। আওয়ামী লীগকে দেশের কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতিটি কেন্দ্রে পাহারা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আরেক আলোচিত নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছিলেন, অত্যাচারের জবাব ৩০ ডিসেম্বর দেব আমরা।

কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল অন্য চিত্র। ভোটের মাঠ ঘুরে তাদের কাউকে তেমন পাওয়া গেল না। নেতাদের কথা একদমই কানে তুলেননি সমর্থকরা। কনফিডেন্স পাননি। সচেতন ভোটারা বলছিলেন, বিগত দিনের অন্যায় দুর্নীতি অগ্নিসন্ত্রাসের দায় নিতে হয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীদের। জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চাওয়ার মুখ অনেকেরই ছিল না।

পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, সাধারণ মানুষও বঙ্গবন্ধু কন্যার উন্নয়নের রাজনীতির পক্ষে রায় দিয়েছেন। তাই এত বড় বিজয়। তাই আরও এক মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। কিন্তু যত বড় বিজয় তত বড়ই দায়। অনেক দায়িত্ব। মুক্তিযুদ্ধের সুফল সর্বস্তরের জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও অনেক অপ্রাপ্তি। সব দূর করতে হবে। তবেই সফল হবে ভোট। জয় বাংলার জয় সুনিশ্চিত হবে।  

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com