অবশেষে তিনি নিজেই খামোশ হয়ে গেলেন!!!

প্রকাশের সময় : 2019-01-03 20:20:37 | প্রকাশক : Admin
অবশেষে তিনি নিজেই খামোশ হয়ে গেলেন!!!

সিমেক ডেস্কঃ প্রশ্নটি ছিল সাধারণ এবং প্রাসঙ্গিক। সাংবাদিকের প্রশ্ন। কিন্তু তিনি ক্ষেপে গেলেন। রেগেমেগে একাকার হয়ে নিজের জাত ভাষায় সাংবাদিককে একহাত নিলেন। বাংলা ছেড়ে উর্দুতে হুঙ্কার ছেড়ে বললেন, ‘খামোশ’। ‘খামোশ’ শব্দটি কদিন ধরেই ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। ‘খামোশ’ শব্দটি মূল ফার্সি হলেও বহুল ব্যবহৃত হয় উর্দুতে। ফার্সি ভাষার এই শব্দ বেশি ব্যবহার করে পাকিস্তানের উর্দুভাষীরা। তবে তার এই উর্দু ভাষায় হুমকি কিন্তু তেমন খারাপ লাগেনি। আমরা সাধারণ গড়পড়তা বাঙালী যেমন রেগে গেলে ইংরেজী বলি, তেমনি আইনজ্ঞ এবং সুশীল রাজনীতিক ডঃ কামাল রেগে গিয়ে উর্দু বলেছেন।

আর অবশেষে এতেই বেরিয়ে পড়েছে থলের বিড়াল। এর মধ্য দিয়ে ডঃ কামাল হোসেনের আসল চেহারা উন্মোচিত হয়েছে দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে। এতদিন দেশের মানুষ জানতেন যে, ডঃ কামাল হোসেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী, দেশে-বিদেশে যার খুব নামডাক ও খ্যাতি। সর্বোপরি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের পবিত্র জাতীয় সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম একজন। সেই কামাল হোসেন শেষ পর্যন্ত এতটা নিচে টেনে নামালেন নিজেকে একজন সাংবাদিককে দেখে নেয়ার হুমকি দিলেন! তাও জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে, ক্ষমতায় না যেতেই। তাহলে ক্ষমতায় গিয়ে তিনি বা তারা সত্যি সত্যিই কি করতেন, তা সহজেই অনুমেয়। উর্দু শব্দ ‘খামোশ’ উচ্চারণের মাধ্যমে এদিন ডঃ কামালের মধ্যে পাকিস্তানের স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া-ভুট্টো- টিক্কা-মিট্টা খানের প্রেতাত্মাই প্রতিধ্বনিত হয়েছে। 

জামায়াত আর পাকিস্তানকে আলাদা করে যেমন ভাবা যায় না। ডঃ কামালকে এখন আর জামায়াতের বাইরে ভাবা যায় না। তাই জামায়াত থেকে পাকিস্তান প্রেমে রাগের মাথায় উর্দুতে মুখ ফসকে বের হয়ে আসতেই পারে ‘খামোশ’। তাতে কোন আপত্তি নেই। আর আপত্তি থেকেই বা কী হবে! তবে খামোশ শব্দটি উচ্চারণ করে তিনি নিজেই যে এক সময় খামোশ হয়ে যাবেন এটা ভুলেও ভাবেননি।

এই খামোশ শব্দের মানে খুঁজতে উর্দু ভাল জানেন এমন দু-একজনের সঙ্গে কথাও বলেছি। তারা জানিয়েছেন খামোশ শব্দটি সাধারণ অর্থে ‘চুপ করা’কে বুঝায় না। চুপ করিয়ে দেয়াকে বোঝায়। চুপ করতে হুমকি দেয়াকে বোঝায়।

আসলে ডঃ কামাল এখন এক ধরনের ক্ষমতার ভাবের মধ্যে ছিলেন। মনে করে ছিলেন আর তো মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরই ক্ষমতায়। তাই কথার কোন লাগাম ছিল না। নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা এবং স্বপ্ন যে কেউ দেখতে পারেন। কিন্তু সেই ক্ষমতা পেতে ডঃ কামাল তখন জামায়াতকেও ‘হালাল’ জ্ঞান করেছেন। জামায়াতের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা, একাত্তরে গণহত্যা, বুদ্ধিজীবী হত্যা তার কাছে এখন আর দোষের নয়। বুদ্ধিজীবী দিবসে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি আসলে তার ভেতরের আসল চেহারাটা প্রকাশ করে দিলেন।

ডঃ কামাল বাংলাদেশের খ্যাতিমান আইনজীবী। আর বাংলাদেশের সবচেয়ে মহৎ আইনী লড়াই মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার। কিন্তু এই বিচার প্রক্রিয়ায় তার কোন ভূমিকা কখনও চোখে পড়েনি। বরং মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের সবচেয়ে বড় সমালোচকদের একজন তার ঘরে থাকেন।

ডঃ কামালের মেয়ের জামাতা সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান দিনের পর দিন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধাচরণ করে, এই বিচার প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। ডঃ কামাল কিন্তু কখনই তার জামাতার কোন কাজের বিরোধিতা করেননি, তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি। তার মানে নিজের মুখে বলতে না পারলেও ডেভিড বার্গম্যানের অবস্থানের সঙ্গে তার দ্বিমত ছিল না।

আসলে এখানে তিনি ছোটখাট একটি ভুল করে ফেলেছিলেন। বাংলাদেশে নিষিদ্ধ তার সাংবাদিক মেয়েজামাইর কারণেই ভুলটি হয়েছে। বহুদিন হলো মেয়েজামাই যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে কাজ করেন। এটা সর্বজনস্বীকৃত। বলা যায় বিশ্বমিডিয়াও স্বীকৃত। টাকা ছাড়া তো আর করেন না। বহু টাকা পয়সার লেনদেন এখানে আছে। তাই ধরে নিয়েছিলেন তাঁর জামাইয়ের মতই কেউ হয়ত টাকা খেয়েই প্রশ্নটি তাঁকে করেছে।

তিনি নিজেও টাকার পাগল। আইনজীবি হয়ে পৃথিবীময় ঘুরে বেড়ান মূলত টাকার জন্যেই। দোষ হবে কেন? তবে রাজনীতিতে তিনি এখনও শিশু; সময় দেননা মোটেও। তাই তিনি রাজনীতিতে একজন প্রান্তিক স্বোচ্ছাসেবী মাত্র। তাঁর সত্যিকারের পরিচয় হলো, তিনি বড় আইনজীবি কিন্তু ছোট রাজনীতিবিদ।

ডঃ কামাল হোসেন মূলত একটি পেশাকে অপমান করেছেন তার অশ্লীল প্রশ্নের মাধ্যমে। তার ঘরে যদি অসৎ সাংবাদিক থেকে থাকে, সেটা তার ব্যক্তিগত সমস্যা। তার পরিচিত যদি কোন অসৎ সাংবাদিক থেকে থাকে, সেটা তার অভিজ্ঞতার সমস্যা। তাই বলে তিনি কোন সাংবাদিককে প্রশ্ন করতে পারেন না কত টাকা খেয়েছেন? তিনি যদি পারেন, তাহলে তাকেও প্রশ্ন করা যায়, জামায়াতকে রক্ষার মিশনে নেমে তিনি কত টাকা ফি নিয়েছেন?

ডঃ কামাল হোসেনের স্ত্রী ডঃ হামিদা হোসেন জন্মগ্রহণ করেন পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের হায়দ্রাবাদে। হামিদা হোসেনের মাতা তুরস্কে বড় হয়েছেন এবং বিয়ের পর বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তিনি ১৯৬৫ সালে বিশিষ্ট আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ ডঃ কামাল হোসেনের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার শিক্ষার মাধ্যম ছিল ইংরেজী আর দ্বিতীয় ভাষা ছিল ফার্সি।

ডঃ কামাল হোসেনের জন্ম বরিশালের শায়েস্তাবাদে। তিনি বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম। তার স্ত্রী পাকিস্তানের ফার্সি ও উর্দুভাষী, মেয়ের জামাই বার্গম্যান ইংরেজী ভাষী, তিনি নিজে বিদেশে অধ্যয়ন করেছেন ইংরেজীতে, তার মেয়েও অধ্যয়ন করেছেন বিদেশে। এ কারণে ডঃ কামাল হোসেনের বাড়িতে পারিবারিকভাবে কথা বলার সময় বাংলা ভাষার চেয়ে ফার্সি বা উর্দু কিংবা ইংরেজী ভাষা ব্যবহার করেন পরস্পরের সঙ্গে কথোপকথনে।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com