কোথায় ছিলেন ডঃ ইউনুস?

প্রকাশের সময় : 2019-01-03 20:43:28 | প্রকাশক : Admin

ঢাকার একটি অনলাইনে ইউনূস সংক্রান্ত একটি খবর। প্রকাশিত খবরেই বলা হয়েছে, 'বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্যের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন ডঃ ইউনূসই। তিনিই ডঃ কামালকে এই ঐক্যের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন; বিএনপিকেও ত্যাগ স্বীকারের উপদেশ তারই।' খবরটি পাঠ করে নিজের সন্দেহভঞ্জনের জন্য ঢাকায় ইউনূস শিবিরের বন্ধুসহ কয়েকজন নির্ভরযোগ্য বন্ধুর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেছি। তারা বলেছেন, খবরটি সঠিক।

অনলাইনের খবরে আরও মন্তব্য করা হয়েছে- 'বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে তার ক্ষোভ ও আক্রোশ নতুন কিছু নয়। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন সরকারের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন ডঃ ইউনূস। হাসিনা সরকারকে জব্দ করার জন্য পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধের জন্য চেষ্টা করার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। এবারও কথা ছিল বিদেশে তার একমাসের অধিকাংশ কর্মসূচি শেষ করার পর এবং বাংলাদেশে ঐক্য প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার এক পর্যায়ে তিনি দেশে ফিরে তাতে যোগ দেবেন এবং নেতৃত্বও দেবেন।'

কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত দেশে না ফিরে বিদেশেই অবস্থান করেন এবং তার সামাজিক ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। অনলাইনে বলা হয়েছে, 'সম্প্রতি ইতালিতে বিশ্ব খাদ্য সংস্থার প্রধানের সঙ্গে তার এক বৈঠক হয়। এই বৈঠকে খাদ্য সংস্থার প্রধান হাসিনা সরকারের খাদ্যশস্য উৎপাদনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ সময় ডঃ ইউনূসকে নীরব থাকতে হয়।' অন্য একটি ইউরোপীয় সূত্র বলেছে, সামাজিক ব্যবসা নিয়ে ইউরোপ পরিভ্রমণকালে অধিকাংশ দেশের সরকারের মধ্যেই তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্ব এবং তার সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসা শুনতে পান। ফলে তিনি কিছুটা নিরুৎসাহিত হয়ে আপাতত রাজনৈতিক কর্মকান্ড থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। প্রকাশিত আরেকটি খবরে বলা হয়েছে, দেশ থেকে বিদেশে আসার সময়ে তিনি সহকর্মী ও একান্তজনকে বলে এসেছেন, 'এই মুহূর্তে আন্দোলন, নির্বাচন বা অন্য কোনো উপায়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হটানো সম্ভব নয়। কেননা হাসিনা খুবই বিচক্ষণ এবং বুদ্ধিমত্তার অধিকারী। এ জন্য সরকারের সঙ্গে নতুন কোনো বিরোধে জড়িয়ে না পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বিদেশমুখী হয়েছেন। তিনি তার এই সিদ্ধান্ত ডঃ কামাল হোসেনকেও জানিয়েছিলেন।

আগেই বলেছি, একটি অনলাইন কাগজ এবং আরও দু'একটি সূত্র থেকে পাওয়া এই খবর কতটা সঠিক, আমি জানি না। তবে ডঃ ইউনূসের ঘনিষ্ঠ মহলের কয়েকজনের কাছ থেকে খোঁজখবর নিয়ে জেনেছি, এটা একেবারে বানানো খবর নয়। তিনি প্রকাশ্যে মুখ ফুটে কিছু না বললেও তার কাছের লোক ও আপনজনের কাছে আপাতত ঐক্যফ্রন্টের রাজনীতি ও বর্তমান সরকারের বিরোধিতা থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

আমার ধারণা, তিনি শুধু ইউরোপ, বিশ্বব্যাংক, বিশ্ব খাদ্য সংস্থাকে নয়, ভারত এবং আমেরিকাকেও বাজিয়ে দেখেছেন, হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে তাদের কতটা নেওয়া যায়। সম্ভবত এ ব্যাপারে খুব উৎসাহী হওয়ার সংকেত তিনি পাননি। হয়তো ক্লিনটন ফ্যামিলি থেকেও তিনি উৎসাহিত হননি। ঢাকায় জার্মান রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য থেকেও বুঝে ফেলেন, হাসিনা সরকার সম্পর্কে জার্মান রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের মধ্যেই অধিকাংশ ইউরোপীয় দেশের মনোভাবের আভাস রয়েছে। এ জন্য তিনি ডঃ কামালদের রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে নিজে সরে পড়েছেন।

এটা সব বুদ্ধিমানই করে থাকেন। ডঃ কামালেরও করার কথা ছিল। তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে বুদ্ধিমান লাক মনেও করতাম! তিনি সেটা করেননি। তাই এখন ডঃ কামালের পক্ষে কিল খেয়ে কিল হজম করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। ডঃ কামাল হোসেনের অবস্থা এখন না ঘরকা না ঘাটকা। তিনি বড় আইনজ্ঞ হতে পারেন; কিন্তু রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অভাবেই মনে করেছিলেন, পশ্চিমা শক্তিগুলো বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঘোড়া বদল চায়; সুতরাং তার সময় এসেছে। তিনি এখন আন্তর্জাতিক প্রভুদের সাহায্যেই ফসিল থেকে আবার ফসল হয়ে উঠবেন। কিন্তু তার চিন্তার গোড়াতেই যে গলদ, তা ক্রমশ ধরা পড়ছে।

তিনি হাসিনা-বিদ্বেষে অন্ধ হয়ে 'গৃহত্যাগ' করলেন বটে; তাতে শুধু ইজ্জতই খোয়ালেন। কোনো লাভ হলো না। তাকে দিয়ে কাজ গুছিয়ে নিয়ে বিএনপি বহু কাজেই তাকে পাত্তা দেয়নি। অন্যদিকে, পশ্চিমা জগতে হাসিনা সরকার আস্থা ও সমর্থন হারিয়েছে বলে তাকে যা বোঝানো হচ্ছিল, তা যে সর্বাংশে সঠিক নয়, ঢাকায় জার্মান রাষ্ট্রদূতের খোলামেলা বক্তব্যে তিনি তাও বুঝতে পেরেছিলেন। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com