ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে দায়সারা মনোভাব ছিল

প্রকাশের সময় : 2019-01-19 11:30:33 | প্রকাশক : Admin
ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে দায়সারা মনোভাব ছিল

সিমেক ডেস্কঃ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তাসহ সহ নানা বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনা, বিতর্ক ও শঙ্কার মধ্য দিয়েই অনুষ্ঠিত হয়ে গেল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারাদেশে নির্বাচনী সহিংসতায় ১৯ জনের মৃত্যু, প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটারসহ প্রায় দুই শতাধিক আহত এবং আরও কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনার মধ্যেও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় বসেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট। শাসক দলের ভাষ্যমতে অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হলেও বিরোধীরা এটি প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় নির্বাচন দাবি করেছেন।

কেমন হলো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন? বিষয়টির মতামত জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। সেটাই পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি আমি শান্তিপূর্ণই দেখেছি। বিএনপির প্রার্থীরা অনেকে ঘর থেকেই বের হননি। তাদের এজেন্টরাও কেন্দ্রে আসেননি। এর কারণে বোধহয় তাদের সমর্থকরাও আশেপাশে ছিল না। এমনকি আওয়ামী লীগ ছাড়া বিএনপির কোনো পোস্টারও দেখিনি। কাজেই যে পরিবেশে নির্বাচন হয়েছে, বিশেষ করে আমি যে কেন্দ্রে ভোট দিয়েছি, সেখানে তো কোনো গোলযোগ দেখিনি। তবে, এই না দেখা হচ্ছে একটি শান্তিপূর্ণ দিক। কিন্তু, সকলের অংশগ্রহণতো সেখানে হয়নি।”

“আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কেন্দ্রে ভোট দিয়েছি। সেখানে বিএনপির’র প্রার্থী ছিলেন মির্জা আব্বাস। তিনি নিজেও ভোট দেননি। এরকম প্রার্থীদের অনেকেই ভোট না দেওয়ায় তাদের সমর্থকরাও আসেননি। তাতে ভোটটা যেভাবে শুরু হওয়ার কথা ছিল, যেভাবে আমরা সবাই ভেবেছিলাম, খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। সেখানে একেবারে আগে থেকেই এরকম জায়গা ছেড়ে দেওয়া, এই মানষিকতা আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি,”।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক বলেন, “যেটি সবচেয়ে বেশি অবাক লেগেছে, বিরোধী দলের একেবারে সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি। তারা অনেক ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, তাদের কর্মীরা ঘর থেকে বের হতে পারেননি। কিন্তু, এতো বড় একটা দল যদি এরকম দুর্বলতার ভেতর পড়ে যায়, তাহলে তাদের নির্বাচন করারই বা দরকার কি ছিল? এটাই হলো বড় সমস্যা।”

তিনি বলেন, “এই নির্বাচন নিয়ে আমি সন্তুষ্ট নই। সন্তুষ্ট হতাম যদি সকলে মিলে শুরু থেকে নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। নির্বাচন তো পাঁচ বছরে একবারই আসে। তো ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে দেখলাম দায়সারা একটি মনোভাব। তারা নির্বাচন করছে, কিন্তু কোনো প্রার্থী কোথাও যাচ্ছেন না। কোনো প্রচার নেই, কোনো পোস্টার নেই।”

তিনি আরও বলেন, “এতো বড় একটা দল, যে ২০১৪ সালের পর তারা পুলিশের সঙ্গে যুদ্ধ করল, তিনমাস ধরে অবরোধ চালিয়ে গেল, বাসে আগুন দিল; তারা হঠাৎ এতো শক্তিহীন হয়ে গেল যে পোস্টার লাগাতেই পারছে না। এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি অবাক লেগেছে। তখনই আমার মনে হয়েছে যে ভোটটা খুবই একপেশে হয়ে যাচ্ছে। ভোটের দিন যখন দুই ঘণ্টার ভেতর তাদের অনেক প্রার্থী বললেন যে ভোট বর্জন করছি, ফলে ভোটারের ওপর এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।”

“অনেক কেন্দ্রে অনেক নারী ভোটাররা আসেননি। যাই হোক, আমি আরও অংশগ্রহণমূলক, আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন চেয়েছিলাম। তবে নানা কারণেই সেটি হয়নি। কিন্তু, নির্বাচন যখন হয়ে গেছে, আমাদের সকলকে তা গ্রহণ করতে হবে এবং সামনে এগিয়ে যেতে হবে,” মনে করছেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। -সূত্রঃ আমাদের সময় ডটকম

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com