আমজাদ হোসেনের প্রস্থানে কিছু স্মৃতিকাতরতা

প্রকাশের সময় : 2019-01-19 11:32:39 | প্রকাশক : Admin
আমজাদ হোসেনের প্রস্থানে কিছু স্মৃতিকাতরতা

সিমেক ডেস্কঃ আমজাদ হোসেন গান লিখেছেন, ‘আমি ফুল কদম ডালে, ফুটেছি বর্ষাকালে’। সেদিন শীতের রোদ্দুরেও মন হয়েছে নিকষ কালো, চোখে নেমেছে বর্ষা। অশ্র“স্নাত চোখে এই কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বকে বড় আয়োজন করে বিদায় জানালো দেশের মানুষ।

২২ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে বাবাকে যেন তার গানের কথা দিয়েই উত্তর দিলেন বড় ছেলে সাজ্জাদ হোসেন দোদুল। বললেন, ‘‘বাবা লিখে গেছেন, ‘গাছের একটা পাতা পড়লে, কাছের একজন মানুষ মরলে, কে তার খবর রাখে’। আমি আজকে বাবাকে বলব, বাবার কথাটা ভুল। আজ সারাদেশের মানুষ তাকে দেখেছে, তার খবর রাখছে। এত ভালোবাসা তিনি তার যোগ্যতায় দেশের মানুষের কাছে পাচ্ছেন।

এফডিসিতে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদনে নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি আবার বলেন, ‘একটা বিষয় বড় করে বলতে চাই; তিনি এদেশের মানুষকে খুব ভালোবাসতেন। খুব সাধারণ মানুষের মতো করে চলতেন। তার গাড়ি থাকা স্বত্তেও রিক্সা, সিএনজিতে করে চলাফেরা করতেন। হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরতেন। আনমনে ঘুরে বেড়াতেন। আপনাদের এত ভালোবাসার পরও তার মনে কখনও অহংকার জমেনি। বাবা শুধু বলতেন, তোমরা যদি মানুষদের ভালোবাসো, তার প্রতিদান তোমরা পাবে। বাবার এ কথাটাই ধারণ করে চলতে চাই।’ নায়িকা ববিতা বলেন, ‘আমজাদ হোসেনের কাজ সব মাইলস্টোন হয়ে আছে। অসাধারণ গুণী একজন মানুষ। আমি বলব, হি ওয়াজ মাই আইকন। তিনি বহুগুণে গুণান্বিত একজন মানুষ। আমার দেখা সবচেয়ে ভালো মানুষ তিনি।’ আরও বলেন, ‘আমজাদ ভাইয়ের ছবি বিভিন্ন ফেস্টিভালে নিয়ে গেছি। তার কী যে ভীষণ প্রশংসা পেতাম- আয়োজকরা বলতেন, তোমাদের দেশে যন্ত্রপাতির এত সুযোগ সুবিধা কম। কিন্তু তোমরা এত সুন্দর ছবি বানাও কীভাবে? তার ছবি শুধু যে পুরস্কৃতও হয়েছে, তাই নয়। যেমন চলেছে (ব্যবসা করেছে), তেমনি হাততালি পেয়েছে। এটাই হচ্ছেন আমজাদ ভাই।’

আমজাদ হোসেনের চিত্রনাট্য করা ‘জীবন থেকে নেওয়া’ চলচ্চিত্র একটি বড় সম্পদ এদেশের জন্য। ছবিটির নায়িকা ছিলেন সুচন্দা। তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্র সাহিত্য বা নাটকে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো, তা পূরণ করার নয়। বহু ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছি। কত স্মৃতি! আমজাদ ভাইয়ের সঙ্গে সংলাপ করেছি বহুবার। তা এখন মনে পড়ছে। তার কথা মনে পড়ছে আর হৃদয়টা ভেঙে যাচ্ছে। ’‘আমজাদ ভাইয়ের বেশিরভাগ ছবি ছিল গ্রাম পটভূমি নিয়ে। তিনি গ্রামের ভাষায় কথা বলেছেন। কিন্তু এটা সব শ্রেণির দর্শকরা গ্রহণ করেছেন।’ যোগ করলেন সুচন্দা।

এফডিসিতে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদন। আমজাদ হোসেনের সঙ্গে তিন চলচ্চিত্রে কাজ করেছিলেন নায়ক আলমগীর। বয়সের ব্যবধান খুব বেশি না হলেও এ মানুষকে তিনি শিক্ষক হিসেবে মানেন। তাকে নিয়ে আলমগীর বলেন, ‘আমজাদ ভাই এমন একজন গুণী অভিভাবক তা বলে শেষ করার মতো নয়। আমজাদ ভাইয়ের ছাত্র ছিলাম আমি। মাঝখানে অনেকদিন গ্যাপ ছিল। আমিও চলচ্চিত্র থেকে দূরে ছিলাম। গত তিন-চার বছর এফডিসির ডিরেক্টর স্টাডি রুমে আমরা নিয়মিত আড্ডা দিতাম। সেখানে স্বাভাবিকভাবে শিক্ষক হয়ে যেতেন আমজাদ ভাই। আড্ডাখানা পরিণত হতো ক্লাসরুমে। সত্যি বলতে আমি এই ক্লাসরুমটা খুব মিস করব। তবে এখন পর্যন্ত তার কাছ থেকে যতটুকু পেয়েছি তা কাজে লাগিয়ে যেতে চাই।’

আমজাদ হোসেনের প্রথম চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেওয়া’ নিয়ে কথা বলেন নায়ক ফারুক, ‘‘অনেকেই জানেন, ‘জীবন থেকে নেওয়া’য় তিনি শুধু অভিনয়ে ছিলেন আমজাদ হোসেন। কিন্তু তিনিই সব কিছু করছেন। সেট থেকে শুরু করে, চিত্রনাট্য- সব। তার সঙ্গে যখন সাক্ষাৎ হয়, মনে হতো না কে অভিনেতা ছিল আর কে পরিচালক? আমজাদ হোসেন একটা জিনিস করতে পেরেছেন, তিনি শিল্পী-কলাকুশলীদের নিয়ে সংসার সাজাতে পেরেছেন।’

আমজাদ হোসেনের সমবয়সী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। একসঙ্গে পথচলার অনেক গল্প আছে তার স্মৃতিতে। এই সহযাত্রী প্রসঙ্গে তিনি বললেন, ‘আমজাদ ভাইয়ের লেখনী এত সুন্দর ছিল যে, তিনি যদি লেখালেখি নিয়েই থাকতেন, তাহলে বাংলা সাহিত্যে তার অন্যরকম আসন থাকত। আদর্শগত দিক থেকে আমরা আলাদা হলেও, ব্যক্তিগত কাজে তিনি কখনও সেই ছাপ পড়তে দিতেন না।

শহীদ মিনারে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদন। গুণী এই পরিচালক ১৯৭৮ সালে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ এবং ১৯৮৪ সালে ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক, স্বাধীনতা পদকসহ একাধিক রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

আমজাদ হোসেন ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। পঞ্চাশের দশকে ঢাকায় এসে সাহিত্য ও নাট্যচর্চার সঙ্গে জড়িত হন। উল্লেখ্য, ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৫৭ মিনিটে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। -সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com