‘ছন্নছাড়া দলকে কেন ভোট দেব?’

প্রকাশের সময় : 2019-01-19 11:51:43 | প্রকাশক : Admin
‘ছন্নছাড়া দলকে কেন ভোট দেব?’

সিমেক ডেস্কঃ বাংলাদেশ প্রায় বিরোধীশূন্য। বড় জয় পেয়ে ফের ক্ষমতায় আওয়ামী লিগ। টানা তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জয় বাংলার জয়ে দেশের মানুষের পাশাপাশি বিদেশের বাঙালীও আনন্দিত। পৃথিবীর কোন দেশে বিশেষত আমাদের মতো দেশে কোন ইলেকশনই এক শ’ পার্সেন্ট শুদ্ধ হয় না। হওয়া সম্ভবও না। যে সমাজ নানা কারণে হিংসা আর প্রতিশোধপ্রবণ, সেখানে কেউ দেবদূত না।

কথা হলো কার শাসন বা কার আমলে দেশ এগোয়। মানুষ এগোয়। গত ক’বছরে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ দেখিয়ে দিয়েছে শেখ হাসিনার শরীরে এখন তেজ আর দীপ্তি। জলে-স্থলে অন্তরীক্ষে বিজয় এনে দিয়েছেন হাসিনা। নদী সমুদ্রসীমায় আমরা জয়ী হয়েছি। মাটিতে জয়ী হয়ে ছিটমহল পেয়েছি। আকাশে স্যাটেলাইট পাঠিয়েছি। তারপরও তারা আলোকিত দেশের বদল বিদ্যুতহীন খাম্বা চায়!

যারা শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে ভোট করবে না বা কোনভাবেই মাথা নোয়াবে না বলেছিল, তারা নিজেদের পায়ে ভর দেয়া ভুলে গেছে। তাই তাদের দরকার হলো আওয়ামী লীগ পরিত্যক্ত কিছু বাতিল মাল। কামাল হোসেনের মতো বয়সী মানুষ সামনে এসে একটা উপকার করলেও দেশটা গুবলেট করে ছেড়েছে। উপকার এই তাকে সামনে পেয়ে এরা মনে করেছিল কাজ হয়ে গেছে। দেশী-বিদেশী লবিং এবার তাদের হয়ে কাজ করবে। কিন্তু তিনি এখন লাগামহীন পাগলা ঘোড়া। কথা কাজ বা আচরণে বেপরোয়া। মানুষ তার ওপর বিশ্বাস রাখবে কোন দুঃখে?রব, মান্না কিংবা কাদের সিদ্দিকীর এতিমখানায় মোমবাতি দেয়ার লোকও নেই। এদের ধারণা ছিল ধানের শীষ নিলেই বিজয় হবে। খালেদা জিয়ার সে কাল আর এ কালের তফাৎ বোঝেনি এরা। তিনি এখন অন্তরালে। তার কথা দলের লোকরাই শোনে না। কিছু হলেই তারা তারেক জিয়ার কাছে নালিশ জানায়। তার বুদ্ধির চাইতে অপকৌশল বেশি। সে কাহিনী এখন চলে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনও কিছুতেই বিএনপির পরিকল্পনার ছিঁটেফোটাও ছিল না। ইস্তাহার প্রকাশ করেছে যেনতেনভাবে। নির্বাচনের সপ্তাহখানেক আগেও বিএনপির একাধিক নেতা তাদের নিশ্চিত ভরাডুবির পূর্বাভাস দিয়েছেন। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ফাঁস হওয়া টেলিফোন কথোপকথনেও অর্ন্তকোন্দল আর হতাশা প্রকাশ পেয়েছে। ১২ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা একটি দলের মধ্যে যেমন মাটি কামড়ে পড়ে থাকা বা মরিয়া ভাব থাকার কথা, তার বিন্দুমাত্রও ছিল না।

বিএনপির প্রার্থীদের অনেকে একদিনের জন্যও প্রচারে নামেননি। কোথাও কোথাও বিএনপি প্রার্থীদের পোস্টার লাগাতে দেওয়া হয়নি বা ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, এই অভিযোগ সত্যি। আবার বিএনপির অনেক প্রার্থী পোস্টার ছাপেননি, সেটাও সত্যি। আওয়ামী লীগের এক নেতার কথায়, ‘পোস্টার না ছেপে যদি আপনি লাগাতে না দেওয়ার অভিযোগ করেন, প্রচার না চালিয়ে ঘরে বসে থাকেন, তাহলে কি ভূত এসে আপনার বাক্সে ভোট দেবে!’

বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনের দিন কোনও কোনও কেন্দ্রে এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আবার অনেক কেন্দ্রে বিরোধীরা এজেন্ট দেয়নি বা এজেন্ট দেওয়ার মতো লোক খুঁজে পায়নি। হয়রানির ভয়ে বিএনপির অনেক কর্মীই এজেন্ট হতে চাননি বা হলেও পরে পালিয়ে গিয়েছেন। বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্টের সব আয়োজন দেখে মনে হয়েছে, তারা নির্বাচনে নেমেছেন অভিযোগ করতে। লাগাতারভাবে তা করেছেও। তারা শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত অভিযোগ জানিয়ে বলেছিল, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

কিন্তু পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তারা একবারও পরিষ্কার করে বলতে পারেনি, জিতলে তাদের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন। তবে বিরোধীদের অভিযোগ যাই থাকুক না কেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ৭ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক। নির্বাচন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে সার্ক, ইসলামি সহযোগী সংস্থা ওআইসি, ভারত ও নেপালের পর্যবেক্ষকরা।

ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ডঃ কামাল হোসেন তো নির্বাচনে প্রার্থীই হননি। তিনি আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, ঐক্যফ্রন্ট জিতলেও তিনি কোনও দায়িত্ব নেবেন না। নির্বাচনের তিনদিন আগে সেই ডঃ কামাল এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, জামাত নেতাদের ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া হবে জানলে তিনি ঐক্যফ্রন্টের দায়িত্ব নিতেন না। আত্মবিশ্বাসী শেখ হাসিনার ঝলমলে আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির পাশে ঐক্যফ্রন্টকে বড্ড ম্লান মনে হয়েছে। ‘এমন ছন্নছাড়া দলকে কেন ভোট দেব?’ বলছেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com