ভাষার মাসে ফাগুন আসে ভালোবাসাও মুচকী হাসে

প্রকাশের সময় : 2019-02-14 15:36:56 | প্রকাশক : Admin

সিমেক ডেস্কঃ বছর ঘুরে আবার এলো ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। বায়ান্নর রক্তঝরা দিনগুলো। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে মাতৃভাষাকে রক্ষা করেন সালাম, রফিক, বরকত, জব্বারসহ আরও অনেকে। মায়ের ভাষা কেড়ে নেয়ার এ সংগ্রামে সেদিন ছাত্র জনতা এক সঙ্গে রাজপথে নেমে পড়ে। পৃথিবীর ইতিহাসে ভাষা নিয়ে এমন আন্দোলন আর কোথাও হয়নি।

মাতৃভাষা আন্দোলনের শুরুটা ১৯৪৭ সালের পর থেকেই। পাকিস্তান জন্মের পর থেকেই পূর্ব বাংলার মানুষ বঞ্চিত ও শোষিত হয়ে আসছিল। পাকিস্তান কৌশলে বাঙালী জনগোষ্ঠীর নিজের ভাষার ওপর প্রথম আঘাত হানে। মায়ের ভাষায় কথা বলাও তারা বন্ধ করে দেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু করে। কিন্তু বাংলার মানুষ সেই ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করতে একবিন্দু পিছু হটেনি। মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে প্রতিদিন রাজপথে চলতে থাকে মিছিল সমাবেশ। শুরু হয় বাংলাভাষা রক্ষার আন্দোলন। মায়ের মুখের ভাষাকে কেড়ে নিয়ে তারা রাষ্ট্রভাষা উর্দু করতে চেয়েছিল। আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিযে অনেক চড়াই-উৎরাই পার করে চূড়ান্ত রূপ লাভ করেছিল ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। তবে তার আগের দিনগুলো ছিল পাকিস্তানী শোষকগোষ্ঠীর অত্যাচার নির্যাতনের। ১৯৫২ সালের আগুনঝরা দিনগুলো বিশ্বের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।

পূর্ব পাকিস্তানে বহু আগেই ভাষাচেতনার উন্মেষ ঘটেছিল। কিন্তু দ্বি-জাতি তত্ত্বের আবিষ্কারকরা সেই আবেগ বুঝতে পারেননি। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার অল্পদিনের ব্যবধানে বাংলার মানুষ পাকিস্তান বিরোধী হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি।

পূর্ব পাকিস্তানে বহু আগেই ভাষাচেতনার উন্মেষ ঘটেছিল। কিন্তু দ্বি-জাতি তত্ত্বের আবিষ্কারকরা সেই আবেগ বুঝতে পারেননি। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার অল্পদিনের ব্যবধানে বাংলার মানুষ পাকিস্তান বিরোধী হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে নামেন। ভাষার দাবি চিরতরে স্তব্ধ করতে পাকিস্তান সরকারের বর্বর পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালাতেও দ্বিধা করেনি।

এ মাস শুধু শোকের নয়, এ মাসে ফাগুনও আসে; আসে বসন্ত ’আমার প্রাণের পরে চলে গেল কে/বসন্তের বাতাসটুকুর মতো...। লাগলো কি প্রাণে সেই বাতাস? বসন্তের বাতাসটুকু প্রাণেই লাগে বেশি! টের পাওয়া যাচ্ছে? চেনা যাচ্ছে হাওয়াটা? না চিনলেও ক্ষতি নেই। কবিগুরু বলছেন- যদি তারে নাই চিনি গো সে কি আমায় নেবে চিনে/এই নব ফাল্গুনের দিনে...।

প্রতিবারের মতোই রাঙিয়ে দিতে এসেছে ফাগুন। মনের গহীন কোণে অতি সূক্ষ্ম যে পুলক, সে তো কেবল বসন্তই জাগাতে পারে! এই বসন্ত কুসুম কোমল প্রেমের। কাছে আসার। প্রিয়জনের স্পর্শ নিয়ে বাঁচার সুখ বসন্ত। ষড়ঋতুর বাংলাদেশ প্রতি দুই মাস অন্তর রূপ পরিবর্তন করে। শুরু হয় গ্রীষ্ম দিয়ে। আর শেষ হয় বসন্ত দিয়ে।

বিপুল ঐশ্বর্যের অধিকারী এই বসন্ত। এখন বনে যেমন, মনেও এর আশ্চর্য দোলা। এরই মাঝে রূপ লাবণ্যে জেগে উঠেছে প্রকৃতি। বৃক্ষের নবীন পাতায় আলোর নাচন। ফুলে ফুলে বাগান ভরে উঠেছে। চোখ খুললেই গোলাপ জবা পারুল পলাশ পারিজাতের হাসি। মৌমাছির গুঞ্জন। কোকিলের কুহুতান। সব জানিয়ে দিচ্ছে- আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। ফাগুনের এই ক্ষণে বিবর্ণ প্রকৃতি জেগে উঠেছে নতুন করে। বাগানে বাগানে ফুটছে কুসুম। শিমুল, কাঞ্চন, মাধবী, কৃষ্ণচূড়ায় সেজেছে বন। আপন মনে গাইছে পাখি, আহা, আজি এ বসন্তে এত ফুল ফুটে, এত বাঁশি বাজে, এত পাখি গায়...।

প্রিয় ঋতুকে বরণ করে নিতে সারাদেশেই থাকবে নানা উৎসব অনুষ্ঠান। রাজধানী ঢাকার অলিগলি রাজপথে ভিড় বাড়বে। সকাল হতেই বাসন্তী রং শাড়ি পড়ে বেরিয়ে পড়বে তরুণীরা। ছোট্ট মেয়েটিও খোঁপায় জড়িয়ে নেবে গাঁদা ফুল। বড়দের মতো শাড়ি পড়ে গন্তব্যহীন হেঁটে যাবে। ছেলেরা পড়বে পাঞ্জাবি। দল বেঁধে ঘুরে বেড়াবে। এভাবে গোটা শহরে পৌঁছে যাবে বসন্তের বার্তা।

শীতের ছোঁয়া মিলিয়ে গেল আস্তে/ফাগুন এলো আবার ভালোবাসতে...। ভালোবাসি ভালোবাসি আর ভালোবাসি। না, আর কোন কথা নয়। মুখ থেকে, বুকের গভীর থেকে শুধু বলা- ভালোবাসি। কারণ বছর ঘুরে আবারও এসেছে সেই মাস; সেই দিন। ১৪ ফেব্রুয়ারি; ভালোবাসার বিশেষ দিবস! ভ্যালেনটাইন ডে।

শাশ্বত প্রেমের কাছে নত হওয়ার শুভক্ষণ। ভালোবাসার মহা অনুভূতির কাছে নিজেকে নিশ্চিন্তে সঁপে দেয়ার উপযুক্ত সময়। ভালোবেসে, সখী, নিভৃতে যতনে/ আমার নামটি লিখো- তোমার/ মনের মন্দিরে...। ভালোবাসার নেশায় নতুন করে বুঁদ হবে আজ বাঙালী। সারা পৃথিবীর মতো বাংলাদেশেও উৎযাপিত হবে ভ্যালেনটাইন ডে। প্রেমিক-প্রেমিকারা একে অন্যকে বিভিন্ন উপহার দেবেন। মোবাইল ফোন, এসএমএস, ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে চলবে ভালোবাসার আদান প্রদান।

মাত্র একদিন আগে থাকে পহেলা ফাল্গুন। বসন্তের প্রথম দিন উৎযাপনের রেশ থাকতে থাকতেই চলে আসে ভালোবাসার দিন। বাসন্তী রং পাল্টে লাল রঙ্গের শহর হবে। প্রেমিকের হাত হয়ে প্রেমিকার সুবিন্যস্ত খোঁপায় উঠবে লাল গোলাপ। প্রিয়জনের সামনে হাঁটু গেড়ে ঠিক বসে যাবেন। বলবেন, উইল ইউ বি মাই ভ্যালেনটাইন?

মনের গভীর ভাব প্রকাশ করে হাসন রাজা লিখেছিলেন, নিশা লাগিল রে, বাঁকা দুই নয়নে নিশা লাগিল রে...। ভাটি বাংলার এই লোককবির নিশা আর কাটেনি কোন দিন। প্রায় একই উচ্চারণ শাহ আবদুল করিমের- আমি ফুল বন্ধু ফুলের ভ্রমরা/কেমনে ভুলিব আমি বাঁচি না তারে ছাড়া...। মনের মানুষটি ছাড়া সত্যি বাঁচা দায়। ভালোবাসাহীন জীবন বিবর্ণ।

বিপুল আবেগ উচ্ছ্বলতায় কাটে বিশেষ এই দিবস। ভালবাসা দিবসে নতুন করে দেখা দেয় চিত্ত চাঞ্চল্য। রাজপথে, ক্যাম্পাসে, পার্কে, রেস্তরাঁয় প্রকাশ্যে ও গোপনে মিলবে যুগল। আজ সারা জীবন প্রিয় মানুষটির পাশে থাকার শপথ নেয়ার দিন। আর যারা একলা মানুষ তারা মনের মানুষটিকে ‘ভালোবাসি’ বলার সব চেষ্টা করবেন। 

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com