ডায়াবেটিস থেকে চোখের রোগ

প্রকাশের সময় : 2019-02-14 15:46:38 | প্রকাশক : Admin

সিমেক ডেস্কঃ ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত আছি। এ রোগে শরীরের ইনসুলিনের ঘাটতির কারণে শুধু রক্তে শকর্রার পরিমাণ বাড়ে না। বহু বছর ধরে অনিয়মিত ডায়াবেটিসের কারণে পযার্য়ক্রমে স্নায়ুরোগ, কিডনি রোগ এমনকি চক্ষুরোগ হতে পারে।

ডায়াবেটিসজনিত চোখের রোগ ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথিঃ রেটিনা হলো চোখের সবচেয়ে দৃষ্টি সংবেদনশীল অংশ। রক্তে অতিরিক্ত শকর্রার কারণে চোখের রেটিনার রক্তনালি সরু হয়ে যায়। এতে রেটিনার পুষ্টিহীনতার কারণে রক্তপাত, প্রদাহ, পানি জমা ইত্যাদির কারণে ধীরে ধীরে দৃষ্টিহীনতা হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না করালে চোখে প্রচন্ড ব্যথা হয়ে চোখ অন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই প্রথমত অবশ্যই ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শে প্রয়োজনে লেজার চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে এ রোগ নিমূর্ল করা সম্ভব হয়। প্রতি ছয়মাস পর পর চোখ পরীক্ষা করিয়ে নিলে ভালো।

ডায়াবেটিসজনিত ছানিঃ চোখের স্বচ্ছ লেন্সের ভেতর দিয়ে আলো প্রবাহিত হয়ে রেটিনার দৃষ্টির অনুভূতি তৈরি করে। আলোর এ প্রভাবের জন্য লেন্সের স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি। ডায়াবেটিস রোগের কারণে স্বচ্ছ লেন্সের ভেতর শকর্রার পরিমাণ বৃদ্ধি পায় বলে লেন্স ফুলে অসচ্ছল হয়ে যায়, তখন দৃষ্টি কমে যায়। আস্তে আস্তে এ অস্বচ্ছতা বা ছানির পরিমাণ বেড়ে যায় এবং রোগী ক্রমাগত দৃষ্টিহীন হয়ে পড়ে।

চিকিৎসাঃ ডায়াবেটিসজনিত ছানি অপসারণ করে কৃত্রিম লেন্স প্রতিস্থাপন করে অনেকাংশে দৃষ্টি ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়। তবে কারও যদি রেটিনাতেও সমস্যা থাকে, সেক্ষেত্রে দৃষ্টি সম্পূণর্ভাবে নাও আসতে পারে।

চোখের পাওয়ার সমস্যাঃ অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে স্বচ্ছ লেন্স ফুলে গিয়ে ক্ষীণদৃষ্টি বা মায়োপিয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে চশমা ব্যবহারে সাময়িক আরামবোধ হলেও পরে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের কারণে আবার চশমার পাওয়ার পরিবতর্ন করতে হতে পারে তাই ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পাওয়ার পরীক্ষা করে চশমা দেয়া প্রয়োজন।

গুকোমাঃ ডায়াবেটিক রোগীদের চোখের চাপ বেড়ে গিয়ে গুকোমা রোগ হতে পারে। প্রাইমারি গুকোমাতে ডায়াবেটিস হলো একটি রিস্ক ফ্যাক্টর। বহুদিনের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে চোখে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। তখন চোখে পুষ্টি প্রদানের জন্য নতুন রক্তনালি তৈরি হয়, যা থেকে চোখে প্রদাহ, রক্তপাত এবং পরে চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ বেড়ে গুকোমা রোগ হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শে ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণ, রেটিনাতে লেজার চিকিৎসা এবং গুকোমা রোগের চিকিৎসার মাধ্যমে অন্ধত্ব থেকে চোখকে রক্ষা করা সম্ভব হয়। দৃষ্টি স্নায়ুর প্রদাহ বা অপটিক নিউরাইটিসের কারণে হঠাৎ করে চোখের দৃষ্টি কমে যেতে পারে। মাংসপেশির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে চোখ টেরা হয়ে যেতে পারে। পরিশেষে বলতে হয়, ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ডায়াবেটিসজনিত চোখের সমস্যাসমূহের সমাধান সম্ভব নয়। নিয়মিত চোখ পরীক্ষার মাধ্যমে ত্বরিত রোগ নিণর্য় এবং ডাক্তারের পরামর্শে দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে অন্ধত্ব থেকে চোখকে রক্ষা করা যায়।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com