জীবে-দয়ার গুরুত্ব ও ফজিলত

প্রকাশের সময় : 2019-02-28 14:58:40 | প্রকাশক : Admin

আল-আমিন: সৃষ্ট-জীবের প্রতি দয়াময় আল্লাহর ভালোবাসার অন্ত নেই। তাই তার সৃষ্ট-জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শন করলে তিনি সন্তুষ্ট হন। অপরদিকে তার সৃষ্ট-জীবকে কষ্ট দিলে তিনি অসন্তুষ্ট হন। এ কারণেই দেখা যায়, বনী ইসরাইলের জনৈকা মহিলা একটি বিড়ালকে কষ্ট দিয়ে মেরে ফেললে তিনি তার উপর অসন্তুষ্ট হন এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপের নির্দেশ দেন। পক্ষান্তরে জনৈকা পাপিষ্ঠ মহিলা তার ওড়নার আচল ছিঁড়ে মোজায় বেঁধে কূপের গভীর হতে পানি তুলে তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করালে আল্লাহ খুশি হয়ে তাকে ক্ষমা করে দেন।

যে ব্যক্তি  আল্লাহর সৃষ্টজীবের প্রতি অনুগ্রহ করে সে ব্যক্তি আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয় পাত্র। এ সম্পর্কে হজরত আনাস (রাঃ) এবং হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, গোটা সৃষ্টি আল্লাহ তায়ালার পরিবার স্বরূপ। আল্লাহ তায়ালার কাছে ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে প্রিয় যে ব্যক্তি তার সৃষ্টির প্রতি দয়া করে। (বায়হাকী)

সৃষ্টি জগতের প্রতি দয়া প্রদর্শন করলে আল্লাহ তায়ালার বিশেষ দয়া লাভ করা যায়। এ সম্পর্কে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, “আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি অনুগ্রহকারীদের প্রতি দয়াময় আল্লাহ অনুগ্রহ বর্ষণ করেন। সুতরাং তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি অনুগ্রহ কর, তাহলে আকাশের মালিক (আল্লাহ তায়ালা) তোমাদের ওপর অনুগ্রহ বর্ষণ করবেন।(তিরমিযী ও আবু দাউদ)

সৃষ্টিজগতের মধ্যে মানুষ আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। তাই মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ সামর্থ থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে না সে আল্লাহ তায়ালার পূর্ণ রহমত থেকে বঞ্চিত থাকে। এ প্রসঙ্গে হজরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করে না আল্লাহ তায়ালাও তার প্রতি অনুগ্রহ করেন না। (বোখারী-মুসলিম)

বিধবা এবং মিসকীনদের প্রতি দয়া প্রদর্শনকারী ব্যক্তি আল্লাহর পথের মুজাহিদ এবং দিনে রোযা পালনকারী এবং রাতে ইবাদতকারীর সমান সওয়াবের অধিকারী হবে। এ ব্যাপারে হজরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “বিধবা ও নিঃস্বদের প্রতি দয়া প্রদর্শনে গমণকারী ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে গমণকারী ব্যক্তির মত। রাবী হজরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমার ধারণা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এটাও বলেছেন, বিধবা ও নিঃস্বদের সাহায্যে গমণকারী ব্যক্তি ঐ ব্যক্তির মত যিনি রাত জেগে ইবাদতে কখনো অলসতা করেন না এবং দিনে কখনো রোজা ভাঙ্গেন না। (বোখারী-মুসলিম)

অসহায় ইয়াতীমকে লালন পালনকারী ব্যক্তি এমন অতুলনীয় মর্যাদা লাভ করবে যে, উক্ত ব্যক্তি জান্নাতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর অতি নিকটবর্তী থাকবে। এ ব্যাপারে হজরত সাহল ইবনে সাদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “আমিও ইয়াতীমের লালনপালনকারী ব্যক্তি চাই সে ব্যক্তি ইয়াতীমের নিজের হোক বা অন্য কেউ হোক জান্নাতে এরূপ হব। এটা বলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নিজের তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল দ্বারা ইশারা করলেন। তখন দুই আঙুলের মধ্যে সামান্য ব্যবধান ছিল। (বোখারী)

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com