২ বছরে দারিদ্র্য দূর

প্রকাশের সময় : 2019-03-13 11:59:44 | প্রকাশক : Admin

এম শাহজাহান: স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সামনে রেখে আগামী দুই বছরের মধ্যে রূপকল্প-২১ বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের নেয়া এই রূপরেখার মূল লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে দারিদ্র্য দূর করার পাশাপাশি এ দেশকে মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়া। এছাড়া আগামী বছর ২০২০ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী যা মুজিববর্ষ হিসেবে পালন করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই দুই কর্মসূচী সামনে রেখে রূপকল্প-২১ বাস্তবায়ন করতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার।

ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ দেশকে মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি দিয়েছে। এবার সম্পূর্ণরূপে দারিদ্র্য দূর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার। রূপকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দশ উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এদিকে রূপকল্পের এই দর্শনটি আওয়ামী লীগ সরকারের। রূপকল্প ২০২১ (ভিশন ২০২১ নামেও পরিচিত) ছিল ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি নির্বাচনী ইশতেহার। যা দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরের জন্য বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক রূপরেখা হয়ে ওঠে। ওই বছরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী পালন করা হবে। এছাড়া আগামী  বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করা হবে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছেন। শুধু তাই নয়, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২০ সালকে তিনি মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই দুই উদ্যোগ বাস্তবায়নে জোরেশোরে কাজ শুরু হয়েছে। গত এক দশকে ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলে ২০২১ সালের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০১৫ সালেই তা অর্জিত হয়।

এ প্রসঙ্গে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, অচিরেই দেশ উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ হবে। বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি সুখী, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এটি এই সরকারের অন্যতম উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক এজেন্ডাও। সেই এজেন্ডা বাস্তবায়নে এ সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, সমৃদ্ধ দেশ গড়তে গত এক দশকে আমাদের বেশকিছু অর্জন আছে। সরকার ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়ন করে ‘রূপকল্প ২০৪১’ নিয়ে কাজ করছে।

এদিকে নির্বাচনে এবার আওয়ামী লীগ বিজয় পাওয়ায় ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও ২০২১ সালের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে উদযাপন করার সুযোগ পেয়েছে সরকার। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা, প্রবৃদ্ধি দুই ডিজিটে নিয়ে যাওয়া, বেসরকারী বিনিয়োগ আকৃষ্টে সরকারী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর এবং টেকসই স্থায়িত্ব উন্নয়নে ৯০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থসংস্থান, রফতানি বাড়াতে কূটনৈতিক সম্পর্ক এবার জোরদার করা হবে।

‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনে সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। জ্ঞানীজনদের আমন্ত্রণ করা হবে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে। সরকারীভাবে কর্মসূচী পালনের ব্যাপারে ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব কাজ শুরু করে দিয়েছেন। ২০২০ সাল থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন কর্মসূচী চলবে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত। এছাড়া সারা বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা, চিত্রাঙ্কন, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা হবে। বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।

রূপকল্প ‘ভিশন-২১’ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহে ‘শেখ হাসিনা বিশেষ উদ্যোগ’ নামে একটি কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। জীবনমান উন্নয়ন ও দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের লক্ষ্যে এ কর্মসূচীতে দশটি খাত অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করে তা বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই খাতগুলো হচ্ছে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, যা শীঘ্রই পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক নামে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে, এরপরই রয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচী, নারীর ক্ষমতায়ন, ঘরে ঘরে বিদ্যুত, কমিউনিট ক্লিনিক ও শিশু বিকাশ এবং সামষ্টিক নিরাপত্তা কর্মসূচী, পরিবেশ সুরক্ষা ও বিনিয়োগ বিকাশ।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মনে করছে, দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর এবং এসডিজি অর্জনে এসব খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। এ সম্পর্কিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) মূল ভাবনার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সার্বজনীন মানব উন্নয়ন চিন্তার ব্যাপক মিল রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন ভাবনা কার্যকরভাবে উপস্থাপন করে সব কর্মকান্ডে বিভিন্ন স্তরের নাগরিকদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com