শখের টার্কি এখন কোটি টাকার সম্পদ

প্রকাশের সময় : 2018-04-27 21:59:19 | প্রকাশক : Admin
শখের টার্কি এখন কোটি টাকার সম্পদ

সিমেক ডেস্কঃ শখের বসে ২০১৪ সালে ১২টি টার্কি মুরগির ছানা কিনেছিলেন বাবার একমাত্র ছেলে নাজমূল হুদা। কৃষক বাবা নুরুল আমিনের চার মেয়ে আর এক ছেলের মধ্যে সবচেয়ে ছোট নাজমূল হুদা এখন ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্যবিদ্যা বিষয়ের শিক্ষার্থী। নাজমূল হুদা তার এক বন্ধুর বাবা যিনি আমেরিকায় থাকেন। তার কাছ থেকে আঠারো হাজার টাকায় কেনা ১২টি টার্কি মুরগি এখন কোটি টাকার সম্পদে পরিণত হয়েছে।

প্রথমে বাবা নুরুল আমিন ছেলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, তোমাকে ঢাকায় পাঠিয়েছি লেখাপড়া করার জন্য। আর তুমি আমার পরিশ্রমের টাকা দিয়ে মুরগির ছানা কিনে শখ পূরণ করেছ, এটা মানা যায় না। ছেলে উত্তর দিল, ‘বাবা তোমার পরিশ্রমের টাকায় না, আমার জমানো টিউশনির টাকায় কিনেছি।’ পরে বাবা নুরুল আমিন ছেলে নাজমূল হুদা ও তিন মেয়েকে নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ করে শুরু করেন টার্কি  মুরগি পালন। মাত্র চার বছরেই সব খরচ বাদ দিয়ে ২৫ লাখ টাকা আয় করেন। এখন তাদের তিনটি ফার্মে প্রায় ১৫শ’ টার্কি মুরগি রয়েছে। টার্কি ছাড়াও সহস্রাধিক কোয়েল, তিতিরসহ দেশীয় প্রজাতির মুরগি রয়েছে।

সরেজমিনে কুমিল্লা জেলার সদ্য গঠিত লালমাই উপজেলার শিবপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির ভেতর বিভিন্ন আকৃতির খাঁচা। খাঁচাগুলোতে বিভিন্ন ধাপে মুরগি পালন করার তাক দেয়া আছে। বাড়িতে প্রবেশ করতেই এগিয়ে এলেন বাড়ির কর্তা কৃষক নুরুল আমিন। তিনি জানান, ২০১৪ সালে ছেলের কিনে আনা টার্কি এখন তাদের আয়ের বৃহৎ উৎস। লালমাই ছাড়াও চান্দিনা উপজেলার খিরাশার মোহনপুরে একটি ও বুড়িচং উপজেলার কংশনগর ভারেল্লা এলাকায় একটি মিলে মোট তিনটি টার্কির খামার রয়েছে। তিনটি খামারে ১৫ জন লোক কাজ করে। তাদের গড়ে ১৮ হাজার টাকা করে বেতন দেয়া হয়। গত ২০১৪ সালে শুরু করা তিনটি ফার্মে অর্ধকোটি টাকার বাচ্চা ও পরিণত টার্কি মুরগি রয়েছে। গত চার বছরে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকা আয় করেন। তিনি জানান, তিনটি ফার্মের ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বে রয়েছেন তার তিন মেয়ে। আশা আছে অন্যান্য উপজেলায় টার্কি ফার্ম সম্প্রসারিত করার।

শখের বসে অনেকেই টার্কি পালন করলেও কুমিল্লা জেলায় বাণিজ্যিকভাবে টার্কি মুরগি পালন শুরু হয় লালমাইয়ের কৃষক নুরুল আমিনের বাড়িতে। তার মেয়ে নাজমাই প্রথম এন আমিন এগ্রো নামে টার্কির খামার গড়ে তোলেন। প্রকৌশলী ভাই নাজমূল হুদার উদ্ভাবিত ইনকিউবেটরে টার্কি মুরগির বাচ্চা ফুটানো হয় বলে জানান বোন কানিজ ফাতেমা। সবার ছোট কানিজ ফাতেমা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে মাস্টার্সের ছাত্রী। পড়াশোনা আর টার্কি দেখাশোনা করা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই তার। টার্কি চাষে মাসে ৪০-৪৫ হাজার টাকা আয় হয় বলে চাকরি নিয়ে ভাবছেন না। লেখাপড়া আর টার্কি মুরগির দেখাশোনাতেই সময় কাটে পরিবারের লোকজনের।

টার্কি বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই এবং উপযোগী। দু’বছর আয়ুষ্কালের টার্কি প্রায় ৮-১০ কেজি ওজনের হয়। প্রতি জোড়া টার্কি সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা বিক্রি করেন। নাজমার দায়িত্বে থাকা এন আমিন এগ্রো ফার্মে টার্কি সরাসরি ফার্ম থেকে এবং অনলাইনেও বিকিকিনি হয়। টার্কির মাংস খুব সুস্বাদু। তাই পারিবারিক বা সামাজিক অনুষ্ঠানে মুরগির মাংসের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

দেশে যে পরিমাণ বেকার যুবক-যুবতী রয়েছে তারা যদি চাকরির পেছনে হন্যে হয়ে না ঘুরে স্বাবলম্বী হতে চায়, সে ক্ষেত্রে টার্কি চাষ একটি সম্ভাবনাময়ী খাত। যারা টার্কি চাষ করে বেকারত্ব ঘুচাতে চায় তাদের জন্য উপজেলা যুব উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষ হলে সনদ দেয়া হয় এবং প্রত্যেক সনদধারীকে ঋণ গ্রহণের সুবিধা দেয়া হয়। তবে টার্কি চাষে স্বাবলম্বী হতে হলে সবকিছুর ঊর্ধ্বে আন্তরিক হতে হবে। পরিশ্রমের এ কাজটিতে আন্তরিকতার বিকল্প নেই। -সূত্র : মানবকণ্ঠ

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com