নয় বছরে কলেজে পড়ে বাংলাদেশি বালক

প্রকাশের সময় : 2019-03-27 18:36:26 | প্রকাশক : Administration
নয় বছরে কলেজে পড়ে বাংলাদেশি বালক

মুনজের আহমদ চৌধুরীঃ নয় বছর বয়সে কলেজে পড়ছে বাংলাদেশের কায়রান। আমেরিকায় রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশি এক নয় বছরের বিস্ময় বালক। অবিস্মরণীয় মেধার সাক্ষর ছড়িয়ে বিশ্বের বুকে সে সৃষ্টি করেছে নতুন এক ইতিহাস। মাত্র নয় বছর বয়সে স্কুলের পাঠ শেষ করে কলেজে ভর্তি হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সে সবাইকে।

কায়রান কাজী নামে বাংলাদেশের এই বিস্ময় বালকের বর্তমান বসতি আমেরিকায় কার্লিফোনিয়ায়। আমেরিকার জনপ্রিয় টিভি শো- ‘গুড মনিং’ আমেরিকায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কায়রান কাজীকে। হাফিংটন পোস্টে কায়রানকে নিয়ে করা প্রতিবেদনের পর কেবল আমেরিকা নয়, সর্বত্র বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে তাকে ঘিরে। আত্বীয়তার সম্পর্কে কায়রান আমার খালাতো ভাই। কায়রান কাজী জুলিয়া চৌধুরী কাজী ও মোস্তাহিদ কাজীর পুত্র। 

মাত্র ৯ বছরেই কলেজের ছাত্র হলো। কায়রানকে বিস্ময় বালক বলাটা বাড়াবাড়ি হবে না মোটেই। যুক্তরাষ্ট্রের কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির গড় বয়স যেখানে ১৭ থেকে ১৯, খুব মেধাবী হলেও ১৫ বা ১৪ বছরের নিচে ভর্তির রেকর্ডও যৎসামান্য; সেখানে বাংলাদেশের কায়রান কলেজে ভর্তি হয়েছে মাত্র ৯ বছর বয়সে! তাও যেনতেন কোনো বিষয় নয়, রীতিমতো গণিত ও রসায়ন নিয়ে পড়ছে সে। ক্যালিফোর্নিয়ার লাস পজিটাস কলেজে ভর্তি হওয়া কায়রানের এমন অভাবিত প্রতিভাকে প্রথম সবার সামনে তুলে ধরে হাফিংটন পোস্ট। হাফিংটন পোস্টে খবর প্রকাশের পরই আমেরিকায় কায়রানকে ঘিরে আলোচনার শুরু। তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল আমেরিকার জনপ্রিয় টিভি শো গুড মর্নিং আমেরিকাতেও। পরে ডেইলি মেইল, আইরিশ টাইমস ও অন্যান্য পশ্চিমা গণমাধ্যমও কায়রানকে নিয়ে সংবাদ ছেপেছে।

হাফিংটন পোস্টে নিজের সম্পর্কে কায়রান লিখেছে, তৃতীয় গ্রেডে থাকা অবস্থায় ডাক্তাররা পরীক্ষা করে জানায়, আমার আইকিউ ৯৯.৯ শতাংশ। আমার ইকিউ বা ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সও অনেক বেশি। অভিভাবকরাও আমার যত্ন নিতেন। ধরে নেওয়া হয়, আমার কাছে প্রকৃতি প্রদত্ত কিছু রয়েছে। আমি ভর্তি হলাম মিনেসা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে।

প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা বিষয়ে কায়রানের বক্তব্য, কলেজে শিক্ষাজীবন শুরুর আগে আমার যেসব বিষয় ভালো লাগত, আমি সেসব বিষয়ে আগ্রহ দেখাতাম ও চেষ্টা করতাম। কলেজের প্রথম কোর্স হিসেবে তারা আমাকে অ্যালজেবরা-১ কোর্সটি নিতে বলে, যেন আমি কলেজের পড়ালেখায় অভ্যস্ত হই। কিন্তু আমি বিরক্ত হতাম ও ক্লাসে ভিডিও গেমস খেলতাম। তবে আমিই মা-বাবাকে পীড়াপীড়ি করি, যেন আমাকে আরও কঠিন কোর্স দেওয়া হয়। যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষায় দেখা গেল, আমি ক্যালকুলাস নিতে সক্ষম, যা আমার বর্তমান ধাপেরও চার ধাপ পরের কোর্স। তখন তারা বিশ্বাস করতে শুরু করল, আমি আসলে জানি আমার কী করা প্রয়োজন।

কায়রান জানায়, খুব মিশুক হওয়ায় কলেজে তার অনেক বন্ধু। এমনকি তারা কায়রানের কাছে শিখতে চায়। যদিও ক্যাম্পাসে প্রথম প্রথম অন্যরা তার দিকে অদ্ভুতভাবে তাকাত ও আড়ালে ছবি তুলত। ‘তারা আমাকে কিউট ও স্মার্ট বলে। আমি তাদের সঙ্গে পরিচিত হই ও বন্ধু হতে চাই মন্তব্য কায়রানের।

কায়রান বলে, সবাই জানতে চায় আমি অসাধারণ মেধাবী কি না। কায়রান মনে করে, যদি কারও মনে হয় যে তার অর্জন স্রেফ খোদা প্রদত্ত, তবে তা আংশিক সত্য। কারণ কিছু অর্জন করতে হলে নিজেরও কিছু না কিছু তো করতেই হবে। সে কেবল বইয়ে মুখ গুজে পড়ে থাকা কোনো শিশু নয়। বরং আর দশটা ৯ বছরের বালকের সব দুরন্তপনাতেও সে সিদ্ধহস্ত।

কায়রানের মা জুলিয়া কাজী মৌলভীবাজারের জুলিয়া শপিং সিটির সত্বাধিকারী। কায়রানের জন্মের পর তার নামে তার নানা শহরে প্রতিষ্ঠা করেন কায়রান রেস্টুরেন্ট। জুলিয়া ও জুলিয়ার মা বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক মহিলা সংসদ সদস্য, সৈয়দা হাসনা বেগম চৌধুরী কায়রানের জন্য সবার দোয়া চেয়েছেন। কায়রানের নানা মরহুম সাংবাদিক অ্যাডভোকেট গজনফর আলী চৌধুরী ছিলেন ষাটের দশকে দক্ষিণ সিলেটের বরেণ্য ন্যাপ নেতা। মৌলভীবাজারের রক্তের স্বজন আমাদের এ সন্তানটির জন্য হৃদয়ের সবটুকু দিয়ে শুভকামনা।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com