তলাবিহীন ঝুড়ি এখন বিশ্বের বিস্ময়!

প্রকাশের সময় : 2018-05-11 15:03:21 | প্রকাশক : Admin
� তলাবিহীন ঝুড়ি  এখন বিশ্বের বিস্ময়!

ডঃ এস এম ইমামুল হকঃ সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে 'তলাবিহীন ঝুড়ি' বলে উপহাস করেছিলেন। সেই তলাবিহীন ঝুড়ি এখন বিশ্বের রোল মডেল। অর্থনীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি, শিল্প, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অর্জন করেছে অভাবনীয় সাফল্য।

সম্প্রতি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ওঠার যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতিপত্র পেয়েছে বাংলাদেশ। উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি একটি রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বিষয়। জাতিসংঘ বাংলাদেশকে এ স্বীকৃতি দিয়েছে। উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আরও উৎসাহী হবেন। একটি দেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। এর আগে বহু দেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা- এ তিনটি সূচকেই প্রথমবারের মতো যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এটি আমাদের দেশের জন্য সম্মানের।

স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের প্রস্তরকঠিন দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। ধ্বংসপ্রায় অবকাঠামো পুনঃনির্মাণ করে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার কাজে হাত দিয়েছিলেন।সাড়ে তিন বছরে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন অনেকখানিই। কিন্তু উন্নয়নের গতি থামিয়ে দিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে ক্ষমতা দখল করে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র।

ইতিহাসের এই কালো অধ্যায়ের চোরাবালিতে পথ হারায় বাংলাদেশ। স্বাধীনতাবিরোধী মহল কখনই চায়নি দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাক। দীর্ঘ ২১ বছর পর ঐতিহাসিকভাবে ক্ষমতা ফিরে পায় দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনে মনোনিবেশ করে দলটি। নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলে উন্নয়নের পথে।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। দেশ এগিয়ে চলেছে সমৃদ্ধির পথে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দক্ষিণবঙ্গের কোটি মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু আজ আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবের পথে। অর্থায়নের প্রতিশ্র“তি দিয়ে বিশ্বব্যাংক খোঁড়া অজুহাতে মুখ ফিরিয়ে নিলেও আমরা পিছু হটিনি। সারাবিশ্বকে চমকে দিয়ে দেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের জন্য এটি ছিল বিরাট চ্যালেঞ্জ আর সারাবিশ্বের কাছে বিস্ময়। আমি শেখ হাসিনাকে ব্যক্তিগতভাবে বাহবা দেব এ কারণে, তিনি দেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের সাহসী উদ্যোগ নিয়েছেন। পদ্মা সেতুর সঙ্গে রেল সংযোগ একটি বড় পদক্ষেপ। পদ্মা সেতু চালু হলে বাংলাদেশ কোথায় চলে যাবে, সেটা আমরা চিন্তাও করতে পারব না।

মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র, স্যাটেলাইট প্রকল্পের মতো মেগা প্রকল্পও বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসের নানা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (কুতুবখালী) পর্যন্ত যাবে একটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। থাইল্যান্ডে দেখেছি, ওরা উড়াল সেতু করে দেশের চেহারা বদলে ফেলেছে। সুতরাং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করতেই হবে। উন্নয়ন যখন হয়, পরিবেশ একটু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমাদের খানিকটা অ্যাডজাস্ট করে নিতে হবে। ঢাকার সঙ্গে বিভিন্ন রুটে চার লেনের মহাসড়ক করা হচ্ছে, এরই মধ্যে কিছু কাজ শেষ হয়েছে। এ কাজগুলো দ্রুত শেষ করতে পারলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।

উন্নয়নের অন্যতম মাপকাঠি বিদ্যুত। বিদ্যুত ছাড়া আমাদের একদিনও চলবে না, ইন্ডাস্ট্রি অচল হয়ে যাবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত পেতে হলে উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাই হাতে নেওয়া হয়েছে রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্র, মাতারবাড়ী বিদ্যুত প্রকল্প ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের মতো বড় বড় প্রকল্প। গত ২৮ জানুয়ারি কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ প্রকল্পে মোট খরচ হবে ৩৬ হাজার কোটি টাকা। পুরোদমে এগিয়ে চলেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের কাজ।

দেশে গ্যাসের মজুদ কমে আসায় সরকার কক্সবাজারের মহেশখালীতে লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। মহেশখালীর টার্মিনাল ছাড়াও আরও চারটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

পায়রা সমুদ্রবন্দরটি পুরোপুরি চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। এর কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এই বন্দরের মাধ্যমে এরই মধ্যে ৩০ কোটি টাকা আয় হয়েছে। এ বন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে এখানে সার  কারখানা, জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ ভাঙা কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে।  এ ছাড়া পটুয়াখালী হয়ে কুয়াকাটা সৈকত পর্যন্ত চার লেনবিশিষ্ট সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ফলে পায়রা বন্দরের সঙ্গে সুগম হবে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ। পদ্মা সেতু নির্মাণ শেষ হলে রেলপথের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য জেলার সঙ্গে যুক্ত হবে পায়রা বন্দর।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' এখন বাস্তব। দেশের চার হাজার ৫৪৭টি ইউনিয়নে চালু হয়েছে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র বা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। এসব সেবাকেন্দ্রে ভর্তিসংক্রান্ত তথ্য, ভর্তি ফরম পূরণ, জন্মনিবন্ধন, বিদ্যুত বিল পরিশোধ, মোবাইল ব্যাংকিং, কৃষিসহ দৈনন্দিন ৬০ ধরনের সেবা পাওয়া যাচ্ছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে মানুষ নানা সেবা পাচ্ছে, এটি একটি বড় অগ্রগতি। ভর্তি ও চাকরির আবেদন এখন মাউসের নাগালে। বিদেশ গমনেচ্ছুরা অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারছেন ঘরে বসেই। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সরকারি ওয়েবসাইট জাতীয় তথ্য বাতায়নে ৪৩ হাজার দপ্তর যুক্ত। এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অফিসের নানা কার্যক্রম সম্পর্কে জানা যাচ্ছে ঘরে বসেই। জেলা ই-সেবাকেন্দ্রের মাধ্যমেও বিভিন্ন সেবা পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে এসব পদক্ষেপ ব্যাপক অগ্রগতি সাধন করেছে। উপাচার্য, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com