আনন্দময় শৈশবের প্রথম ধাপ

প্রকাশের সময় : 2019-04-25 17:01:35 | প্রকাশক : Admin
আনন্দময় শৈশবের প্রথম ধাপ

মুহম্মদ জাফর ইকবালঃ আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের একটা লাইন হচ্ছে, ‘মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো।’ সত্যি সত্যি কিছু কথা আছে যেগুলো শুনলে মনে হয় কানের ভেতর সুধা বর্ষণ হচ্ছে। যেদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের বাচ্চাদের জন্য তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত কোন পরীক্ষা থাকবে না, সেদিন আমার সেরকম মনে হয়েছে।

আমাদের শিক্ষানীতিতে আমরা এই প্রস্তাবটি রেখেছিলাম; কিন্তু কেউ মনে হয় এতদিন সেদিকে ঘুরেও তাকায়নি। কিভাবে এই দেশে সবাই ধরে নিয়েছে লেখাপড়া মানে হচ্ছে পরীক্ষা। কাজেই পুরো লেখাপড়াটাই হয়ে গেছে পরীক্ষাকেন্দ্রিক। পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য দুধের বাচ্চাদের ওপর পর্যন্ত কী ভয়াবহ চাপ! প্রাইভেট এবং কোচিংয়ের সে কী রমরমা ব্যবসা। কাজেই প্রধানমন্ত্রী যদি শিক্ষানীতির হারিয়ে যাওয়া একটি প্রস্তাব এবং আমাদের মনের কথাটি বলেন সেটি আমাদের কানে সুধার মতো লাগতেই পারে।

আমি জানি তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পরীক্ষা তুলে দেয়ার ঘোষণাটি শুনে এই দেশের অসংখ্য বাবা-মায়ের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। যেহেতু তারা জানেন লেখাপড়া মানেই হচ্ছে পরীক্ষা। তাই তারা ধরেই নিয়েছেন পরীক্ষা তুলে দেয়ার অর্থই হচ্ছে লেখাপড়া তুলে দেয়া! তারা প্রায় নিশ্চিত হয়ে ভাবছেন এই জাতির ভবিষ্যত অন্ধকার এবং এখন এই দেশে অশিক্ষিত এবং মূর্খ একটা জাতি গড়ে উঠবে!

এই দেশে যখন সৃজনশীল পদ্ধতি শুরু হয়েছিল আমি তখন খুব আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু এখন বেশিরভাগ সময়ই দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলতে হয়। কারণ সৃজনশীল প্রশ্নের গাইড বই বের হয়েছে এবং পরীক্ষায় সেখান থেকে প্রশ্ন আসছে। আমাদের শিশুরা শুধু বই মুখস্থ করত, এখন তার সঙ্গে সৃজনশীল গাইড বই মুখস্থ করে। এর চাইতে হৃদয়বিদারক ব্যাপার আর কী হতে পারে? অথচ মজার ব্যাপার হচ্ছে এই সমস্যার খুব কার্যকর সমাধান আছে এবং আমি নিজের কানে সেই সমাধান নিয়ে আলোচনা হতে শুনেছি; কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন হতে দেখছি না।

শুধু যে গাইড বইয়ের প্রশ্ন দিয়ে ছেলেমেয়েদের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে তা নয়, ছেলেমেয়েদের বোঝানো হয়েছে পরীক্ষার খাতায় সবকিছু বেশি বেশি করে লিখতে হবে! কাজেই ছেলেমেয়েদের কাছে পরীক্ষাটি একটি আতঙ্ক। আমি বুঝে পাই না কেন ছাত্রছাত্রীদের আমাদের প্রতিপক্ষ মনে করে লেখাপড়া শেখানোর নামে তাদের ঘায়েল করার চেষ্টা করছি? তাদের দিক থেকে কেন একটিবার পুরো ব্যাপারটি বিবেচনা করি না?

ক্লাস থ্রী পর্যন্ত পরীক্ষা তুলে দেয়ার উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে অনেক বড় একটা উদ্যোগ। ভাগ্যিস এটি স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে এসেছে। তার মুখ থেকে উচ্চারিত না হওয়া পর্যন্ত এই দেশে কিছু হয় না। কাজেই আমরা আশা করে আছি আমাদের দেশের শিশুদের শৈশবটি হয়তো প্রথমবারের মতো একটু আনন্দময় হবে। একটা শিশুকেই যদি আমরা আনন্দময় শৈশব উপহার দিতে না পারি তাহলে আমাদের বেঁচে থেকে কী লাভ? -সংকলিত

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com