অর্থনীতিতে সুবাতাস

প্রকাশের সময় : 2019-06-13 17:42:29 | প্রকাশক : Administration

রহিম শেখঃ রাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিবেশের কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে বিদেশীরা। ফলে দেশের অর্থনীতিতে সুবাতাস দেখা দিয়েছে। ২০১৮ সালে দেশে ৩৫০ কোটি ডলারের বেশি সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে যা ২০১৭ সালের তুলনায় প্রায় ৬৮ শতাংশ বেশি। এক বছরের হিসেবে এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এবং ৩০০ কোটি ডলারের ঘর ছোঁয়ার নতুন মাইলফলক।

এর আগে ২০১৫ সালে প্রথমবার বিদেশী বিনিয়োগ ২০০ কোটি ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্ভে প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশে স্থানীয় ও বিদেশী বিনিয়োগ প্রকল্পের নিবন্ধিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের (স্থানীয় ও বিদেশী) সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২৮। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ২২ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা।

জানা গেছে, নিজ দেশের বাইরে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদেশীরা অনেক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হলো দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ডুইং বিজনেস সূচক, ব্যবসার ছাড়পত্র এবং জমি ও শ্রমের সহজলভ্যতা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ২০২১ সালে মধ্যম ও ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশে রূপান্তরের লক্ষ্য পূরণে বিপুল পরিমাণ দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ দরকার। বিশেষ করে বছরে বিদেশী বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে এক হাজার কোটি ডলার।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ডঃ এ বি মির্জা মোঃ আজিজুল ইসলাম বলেন, বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ছে, এটা দেশের জন্য স্বস্তিদায়ক। তবে এই বৃদ্ধি সত্ত্বেও দেশের জিডিপি অনুপাতে এটা ২ শতাংশ বা এর নিচে থাকবে, যা আমাদের পাশের দেশগুলোর তুলনায় কম। তাই আমাদের আরও বেশি বিদেশী বিনিয়োগের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির সন্তোষজনক হার, সার্বিক রাজনৈতিক পরিবেশে স্থিতিশীলতা, জ্বালানিসহ অবকাঠামো খাতে উন্নয়নে সরকারের নেয়া পদক্ষেপ বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে বলেও মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, সামাজিক ও অন্যান্য সূচকে অনেক উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। এ জন্য বিদেশীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে। ফলে ইকুইটি বা নতুন বিনিয়োগ বাড়ছে। আবার যারা আগে থেকে এখানে আছে তারাও উল্লে−খযোগ্য পুনর্বিনিয়োগ করছে। মোট কথা, যারা বাংলাদেশে একবার বিনিয়োগ করে, তারা আর ফেরত যেতে চায় না। এখানে রিটার্নও পাওয়া যায় বেশি।

সূত্র মতে, বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারের পক্ষ থেকে নানা প্রণোদনা ও বিভিন্ন উৎসাহমূলক সুবিধা দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে অন্তত ১৭টি খাতে কর অবকাশ সুবিধা পাচ্ছেন বিদেশীরা। বিদেশীদের মুনাফা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রেও বিধিবিধান শিথিল করা আছে। মুনাফাসহ শতভাগ মূলধন ফেরত নেয়ার পাশাপাশি নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠায় যন্ত্রপাতির অবচয় সুবিধা, শুল্কমুক্ত যন্ত্রাংশ আমদানি এবং রফতানি উন্নয়ন তহবিল থেকে কম সুদে ঋণ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বিদেশীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্ভে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে দেশে মোট নিট এফডিআই এসেছে ৩৬১ কোটি ৩৩ লাখ ডলার; যা ২০১৭ সালের তুলনায় ১৪৬ কোটি ডলার বা ৬৭.৯০ শতাংশ বেশি। ২০১৭ সালে দেশে সরাসরি নিট বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছিল ২১৫ কোটি ১৫ লাখ ডলার। গত বছর দেশে যে পরিমাণ বিদেশী বিনিয়োগ এসেছে, তার মধ্যে ইকুইটি মূলধন বা নতুন বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১১২ কোটি ৪১ লাখ ডলার। -  জনকণ্ঠ

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com