‘শনিবারের ডাক্তার’ ভুটানের প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : 2019-06-13 18:04:12 | প্রকাশক : Administration
‘শনিবারের ডাক্তার’ ভুটানের প্রধানমন্ত্রী

লিহান লিমাঃ দিনটি শনিবার, ভুটান। লোটে শেরিং (৫০) নামের একজন সার্জারিয়ান সদ্যই জিগমে ওয়াংচুক ন্যাশনাল রেফারেল হাসপাতাল থেকে একজন রোগির মূত্রনালীর অপারেশন করে ফিরেছেন। একজন ডাক্তার রুটিন অনুযায়ী তাই করে থাকেন। তবে শেরিং কোন সাধারণ ডাক্তার নন। তিনি হিমালয়ের কোল ঘেঁষে থাকা ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। লোটে শেরিং। তবে সেবার তার দল জিততে ব্যর্থ হয়। পরাজয়ের পর রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক তাকে চিকিৎসকদের একটি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে দূরবর্তী গ্রামগুলিতে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য ভ্রমণ করার নির্দেশ দেন। এখন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে, প্রতি শনিবার তিনি তার কাছে রেফার করা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে সময় অতিবাহিত করেন এবং বৃহস্পতিবার সকালে তিনি প্রশিক্ষণার্থী এবং ডাক্তারদের চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করেন। রোববার পরিবারকে সময় দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার চেয়ারেও ঝুলতে দেখা যায় একটি ল্যাব কোট। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা তার নির্বাচনি অঙ্গীকার। ভুটানে স্বাস্থ্যসেবার জন্য রোগীদের সরাসরি অর্থপ্রদান করতে হয় না, কিন্তু শেরিং এটিকে আরো এগিয়ে নিতে চান। সম্প্রতি দেশটি আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি, শিশু মৃত্যুহার হ্রাস সহ অনেক সংক্রামক রোগের নির্মূলে উন্নতি করেছে। শেরিং বলেন, ‘আমাদের এখন ধীরে ধীরে মাধ্যমিক এবং তৃতীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার ওপর আরো গুরুত্বারোপ করা আবশ্যক।’

শেরিং এর কাছ থেকে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী ব্ল্যাডারের অস্ত্রোপচার করা ৪০ বছরের এক রোগী বুমথাপ বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছি, যাকে দেশের সেরা চিকিৎসক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই এখন আমি আরও বেশি স্বস্তি বোধ করছি।’ শেরিংয়ের কাছে রাজনীতি অনেকটাই ডাক্তারির মতো। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে আমি রোগিদের স্ক্যান করি, সেবা দেই। সরকারে আমি রাজনীতির স্বাস্থ্য স্ক্যান করি ও সেটিকে আরো ভালো করার চেষ্টা করি। আমৃত্যু আমি এটি করে যাব।’ শেরিং বলেন, ‘যখনই আমি সপ্তাহজুড়ে কোন কাজের জন্য বাহিরে গাড়ি চালাই তখনই আমার বাম দিকে মোড় নিয়ে হাসপাতালের দিকে যেতে ইচ্ছে করে। আমি এ জায়গাটাকে অনেক মিস করি।

 

২০০৮ সালে রাজতন্ত্রের সমাপ্তির পর তৃতীয় গণতান্ত্রিক নির্বাচনে ২০১৮ সালে সাড়ে সাত লাখ লোকের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শেরিং। শেরিং বলেন, ‘আমার জন্য এটি একটি চাপ নিরোধক কাজ। কিছু লোক অবসরে গলফ খেলে, কেউ কেউ তীর চালায়, আর আমি অপারেশন করি। আমার ছুটির দিনটি হাসপাতালেই কাটাই।’ হাসপাতালের কেউই শেরিংকে দেখে চোখ কপালে তোলে না, ধূসর ল্যাব কোট পরিধান করে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের ব্যস্ত করিডোর  ধরে পায়চারি করেন। নার্স এবং হাসপাতালের অন্যান্যরা স্বাভাবিকভাবেই তাদের কাজ করে যান। বৌদ্ধ রাষ্ট্রটির অনেক অস্বাভাবিক ঘটনার মধ্যে এটি এক পৃথক ঘটনা।

বাংলাদেশের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস ও এফসিপিএস করে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ নিয়ে ২০১৩ সালে রাজনীতিতে আসেন  লোটে শেরিং। তবে সেবার তার দল জিততে ব্যর্থ হয়। পরাজয়ের পর রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক তাকে চিকিৎসকদের একটি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে দূরবর্তী গ্রামগুলিতে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য ভ্রমণ করার নির্দেশ দেন। এখন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে, প্রতি শনিবার তিনি তার কাছে রেফার করা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে সময় অতিবাহিত করেন এবং বৃহস্পতিবার সকালে তিনি প্রশিক্ষণার্থী এবং ডাক্তারদের চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করেন। রোববার পরিবারকে সময় দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার চেয়ারেও ঝুলতে দেখা যায় একটি ল্যাব কোট। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা তার নির্বাচনি অঙ্গীকার। ভুটানে স্বাস্থ্যসেবার জন্য রোগীদের সরাসরি অর্থপ্রদান করতে হয় না, কিন্তু শেরিং এটিকে আরো এগিয়ে নিতে চান। সম্প্রতি দেশটি আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি, শিশু মৃত্যুহার হ্রাস সহ অনেক সংক্রামক রোগের নির্মূলে উন্নতি করেছে। শেরিং বলেন, ‘আমাদের এখন ধীরে ধীরে মাধ্যমিক এবং তৃতীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার ওপর আরো গুরুত্বারোপ করা আবশ্যক।’

শেরিং এর কাছ থেকে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী ব্ল্যাডারের অস্ত্রোপচার করা ৪০ বছরের এক রোগী বুমথাপ বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছি, যাকে দেশের সেরা চিকিৎসক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই এখন আমি আরও বেশি স্বস্তি বোধ করছি।’ শেরিংয়ের কাছে রাজনীতি অনেকটাই ডাক্তারির মতো। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে আমি রোগিদের স্ক্যান করি, সেবা দেই। সরকারে আমি রাজনীতির স্বাস্থ্য স্ক্যান করি ও সেটিকে আরো ভালো করার চেষ্টা করি। আমৃত্যু আমি এটি করে যাব।’ শেরিং বলেন, ‘যখনই আমি সপ্তাহজুড়ে কোন কাজের জন্য বাহিরে গাড়ি চালাই তখনই আমার বাম দিকে মোড় নিয়ে হাসপাতালের দিকে যেতে ইচ্ছে করে। আমি এ জায়গাটাকে অনেক মিস করি।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com