চাঁদ দেখা নিয়ে বিতর্কের অবসান হওয়া দরকার

প্রকাশের সময় : 2019-06-26 20:07:49 | প্রকাশক : Administration

শাহীন রহমানঃ চাঁদ দেখা নিয়ে দেশে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন চাঁদের গাণিতিক হিসাব বিবেচনায় নিয়ে পর্যালোচনা করা হলে আজ এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতো না। বিশ্বের অনেক দেশই চাঁদের গাণিতিক হিসাব ব্যবহার করে থাকে। গাণিতিক এই হিসাব চাঁদে অমাবস্যা সৃষ্টি, নতুন চাঁদের জন্ম এবং চাঁদ ওঠা সম্পর্কিত নির্ভুল তথ্য প্রদান করে থাকে। বাংলাদেশেও দীর্ঘদিন ধরে জ্যোতির্বিদরা চাঁদ দেখার নির্ভুল গাণিতিক হিসাব দিয়ে আসছেন। কিন্তু এই হিসাব কখনই চাঁদ দেখা কমিটি বিবেচনায় না নিয়ে খালি চোখে চাঁদ দেখে সিদ্ধান্ত দিয়ে দিচ্ছেন। ফলে চাঁদ দেখা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খালি চোখে সব সময় চাঁদ দেখা যাবে এটা ঠিক নয়। কারণ আকাশে মেঘ থাকলে অনেক সময় চাঁদ দেখা সম্ভব নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে নতুন চাঁদের জন্ম সম্পর্কে গাণিতিক হিসাব বিবেচনায় নেয়া হলে কবে চাঁদ দেখা যাবে সেটা বলে দেয়া সম্ভব। দেশের বেসরকারী একটি সংগঠন বাংলাদেশ এ্যাস্ট্রনমিক্যাল সোসাইটি দীর্ঘদিন ধরে আরবি হিজরীর প্রতি মাসের চাঁদের নির্ভুল হিসাব প্রদান করছে। তাদের দেয়া তথ্য বিশ্লে−ষণ করে দেখা গেছে চাঁদ দেখা কমিটির বেশির ভাগ সিদ্ধান্তের সঙ্গে এ্যাস্ট্রনমিক্যাল সোসাইটির হিসাবের মিল রয়েছে। যেখানে চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত নয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে সেখানে এই সংগঠনের হিসাব-নিকাশ ছিল সম্পূর্ণ সঠিক।

এবারও সংগঠনটি থেকে আগেই শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়। এতে কবে চাঁদে অমাবস্যা সৃষ্টি হবে, নতুন চাঁদের জন্ম এবং আকাশে চাঁদ দেখা যাবে সে সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করা হয়। তাদের তথ্য বিশ্লে−ষণ করে দেখা যায়; তাদের দেয়া তথ্য ছিল সঠিক এবং নির্ভুল। এই শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কিত হিসাব এ্যাস্ট্রনমিক্যাল সোসাইটি গত ২১ মে প্রকাশ করে। এতে ৩ জুন সোমবার বেলা ৪টা ২ মিনিটে চাঁদের অমাবস্যা পূর্ণ করে নতুন চাঁদের জন্মের কথা উল্লেখ করা হয়। চাঁদটি ওই দিন অর্থাৎ ৩ জুন ৬টা ৪২ মিনিটে সূর্যাস্তের সময় দিগন্ত রেখা হতে ১ ডিগ্রী নিচে ২৯২ ডিগ্রী দিগংশে অবস্থান করবে। তাই ওইদিন চাঁদের কোন অংশই দেশের আকাশে দেখা যাবে না। এটি পরের দিন ৪ জুন মঙ্গলবার দেখা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়। তারা বলে ওইদিন সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের সময় দিগন্ত রেখা থেকে ১১ ডিগ্রী উপরে ২৮৯ ডিগ্রী দিগংশে অবস্থান করবে। ৫৮ মিনিট দেশের আকাশে অবস্থান শেষে সন্ধ্যা ৭টা ৪১ মিনিটে চাঁদের অস্ত যাওয়ার কথাও বলা হয়। এতে চাঁদের ১ ভাগ আলোকিত থাকার কথা বলা হয়। এবং আকাশ মেঘ মুক্ত থাকলে এতে খালি চোখে দেখা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়। এতে আরও উল্লেখ করা হয় চাঁদটি ভালভাবে দেখা যাবে সন্ধ্যা ৭টা ৮ মিনিটে। নতুন উদিত চাঁদের বয়সও উল্লেখ করা হয় ২৬ ঘণ্টা ৪০ মিনিট।

সংগঠনটির প্রেস সেক্রেটারি মামুন আহমেদ শরীফ দেশে চাঁদ দেখা সম্পর্কে বলেন, হিসাব করে চাঁদ দেখা সম্পর্কে আগেই বলে দেয়া সম্ভব। সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে অনেক সময় সূর্যের লাল আভা আকাশে থেকে যায়। ফলে সঙ্গে সঙ্গে চাঁদটি খালি চোখে দেখা সম্ভব নাও হতে পারে। সূর্যের আভা সরে গেলে তখন চাঁদ ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। তিনি জানান সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের ব্যবধান ৩ ঘণ্টা। এছাড়া সৌদি আরব পৃথিবীর কেন্দ্রে অবস্থিত বিধায় যেদিন চাঁদের জন্ম হয় সেদিনই দিগন্ত রেখার নিচে থাকলেও দেশটিতে চাঁদ দেখা সম্ভব।

কিন্তু চাঁদের অবস্থান দিগন্ত রেখার নিচে থাকার কারণে যেদিন জন্ম সেদিন বাংলাদেশে এটি দেখা নাও যেতে পারে। এ কারণেই বেশিরভাগ সময় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের একদিনের ব্যবধান হয়ে যায়। আবার কখনও কখনও চাঁদের অবস্থানের কারণে সৌদি আরব এবং বাংলাদেশে একই সময়ে ঈদ ও অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালিত হয়ে থাকে। অনেক সময় আকাশে মেঘ থাকলেও চাঁদ দেখা যেতে পারে। কারণ একই সময়ে দেশের সব জায়গা মেঘে ঢেকে থাকে না। একটু ধৈর্য্য নিয়ে দেখলেই চাঁদ দেখা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাঁদের এই গাণিতিক হিসাবের কারণে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা অনেক আগেই হিসাব করে বের করে ফেলেছেন কবে ঈদ আর রোজা কতটি হবে। এছাড়াও বাংলাদেশ এ্যাস্ট্রনমিক্যাল সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত অধ্যাপক আনোয়ারুল রহমান খান ঈদের দিন তারিখ হিজরী মাস সম্পর্কিত হিসাব এবং চাঁদের গতিবিধি সম্পর্কে প্রায় ১০ বছরের আগাম তথ্য দিয়ে গেছেন। যা সঠিক এবং নির্ভুল। শুধু চাঁদের জন্ম বা অমবস্যা নয়, সূর্য গ্রহণ, চন্দ্র গ্রহণ সম্পর্কিত আগাম তথ্য এখন জ্যোর্তিবিদদের জানা রয়েছে। ফলে চাঁদ দেখা পর্যালোচনা করতে এসব হিসাব বিবেচনায় নেয়া হলে বিভ্রান্তি হওয়ার কথা নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন বিশ্বের অনেক দেশেই এখন চাঁদের গাণিতিক হিসাব নিকাশ করে চাঁদ দেখা এবং ঈদের ঘোষণা দেয়া হয়। বাংলাদেশের ধর্মীয় এসব অনুষ্ঠান পালনের জন্য চাঁদ দেখা কমিটির ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু অনেক দেশে চন্দ্র বর্ষপঞ্জি আগ থেকেই নির্ধারিত থাকে। ফলে ঈদের তারিখ আগ থেকেই জানা যায়। - জনকণ্ঠ

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com