পায়রায় বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা

প্রকাশের সময় : 2019-07-25 18:09:42 | প্রকাশক : Administration
পায়রায় বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা

শাহীন চৌধুরী: দেশের দক্ষিণাঞ্চল বিদ্যুৎ উৎপাদনের ‘হাব’-এ পরিণত হতে যাচ্ছে। পটুয়াখালী জেলার পায়রায় দেশের সবচেয়ে বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শুরু করার পর এই এলাকায় আবার বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ৫০ মেগাওয়াটের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ৮শ’ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

সূত্র জানায়, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বিসিপিসিএল। এজন্য ইতিমধ্যেই উইন্ড ম্যাপিং করা হয়েছে। এই কাজে শুরুতেই ভালো ফল পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষ আশাই করেনি যে এত ভালো ফল পাওয়া যাবে।

বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে খরচ সবচেয়ে বেশী। এক তুলনামূলক পর্যালোচনা দেখা গেছে, বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি মেগাওয়াটে ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকার প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে তেল ও গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদনে মেগাওয়াট প্রতি ৮ কোটি টাকা, কয়লায় ১২ কোটি টাকা এবং সৌর বিদ্যুতে ১১ কোটি টাকা প্রয়োজন হয়। বায়ু বিদ্যুতে সবচেয়ে বেশি খরচ হলেও সুবিধা হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জ্বালানি খরচ শূন্য।

সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত উইন্ড ম্যাপিংয়ের যে ফল পাওয়া গেছে, তাতে বলা হচ্ছে, ৫০ থেকে ১০০ মিটার উচ্চতায় বায়ু প্রবাহের গতি প্রতি সেকেন্ডে আট থেকে ১৩ মিটার। বাংলাদেশের মধ্যে যাকে সর্বোচ্চ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। পায়রায় উইন্ড ম্যাপিংয়ের জন্য যে টাওয়ার বসানো হয়েছে, তাতে ১০০ থেকে ১২০ মিটারের মধ্যে প্রতি সেকেন্ডে ১৩ মিটার, ৮০ মিটার উচ্চতায় প্রতি সেকেন্ডে ১১ মিটার এবং ৫০ মিটার উচ্চতায় প্রতি সেকেন্ডে ১০ মিটার বায়ুর প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল রিনিউয়েবল এনার্জি ল্যাবরেটরির (এনআরইএল) এক পর্যবেক্ষনে জানায়, বাংলাদেশের উপকূলে অন্তত ১০ হাজার মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তারা বাংলাদেশের নয়টি স্থানের ২৪ থেকে ৪৩ মাস ধরে বায়ু প্রবাহের তথ্য সংগ্রহ করে। এই তথ্যের ওপর নির্ভর করেই তারা এই সম্ভাবনার রিপোর্ট প্রদান করে।

সূত্রমতে, বিসিপিসিএল বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৫০ মেগাওয়টের উইন্ড মিল স্থাপন করবে। তবে পরীক্ষামূলকভাবে শুরুতে আড়াই মেগাওয়াটের চারটি অর্থাৎ ১০ মেগাওয়াট উইন্ড মিল স্থাপন করা হবে। কর্মকতারা ধারণা করছেন, তাদের ম্যাপিংয়ের কাজ শেষ হলে অন্যরাও এই তথ্যর ভিত্তিতে উপকূলীয় এলাকায় বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে এগিয়ে আসবে।

এ ব্যাপারে বিসিপিসিএল-এর প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক শাহ আব্দুল মওলা বলেন, ফিজিবিলিটি স্টাডিতে আমরা যে ফল পাচ্ছি তা খুবই আশা ব্যঞ্জক। এ প্রকল্পের ব্যপারে আমাদের আগ্রহ বেড়ে গেছে। ব্যয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বায়ু বিদ্যুৎ ব্যয়বহুল হলেও জ্বালানি খরচ নেই সুতরাং এটা কোন সমস্যা নয়।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে বাংলাদেশের কুতুবদিয়া ও ফেনীতে বায়ু বিদ্যুতের দু’টি পরীক্ষামূলক পাইলট প্রকল্প চালু আছে। কুতুবদিয়ায় এক মেগাওয়াট করে দু’টি অর্থাৎ ২ মেগাওয়াট এবং ফেনীতে এক মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কেন্দ্র রয়েছে।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com