কৃষিতে নতুন স্বপ্ন; দ্বিগুণ ফলনের আশা

প্রকাশের সময় : 2019-08-28 16:54:25 | প্রকাশক : Administration

মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, টেকসই কৃষি ব্যবস্থা ও ফসল উৎপাদনে এখন নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথ দেখাচ্ছে বায়োচার। জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্রমবর্ধমান কৃষি সম্প্রসারণে টেকসই খাদ্য নিরাপত্তায় বায়োচার প্রযুক্তির ব্যবহারে নতুন আশায় স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরাও। গবেষকরা বলছেন, বায়োচার ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা শক্তি, পানির ধারণ-ক্ষমতা ও সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।

বায়োচার মাটিতে গাছের খাদ্য উপাদানগুলোকে ধরে রাখে, মাটিতে লবণাক্ততা ও খরার প্রভাব এবং মাটির অম্লত্ব¡ দূর করে। মাটিকে সংশোধন করে বায়োচার মাটিতে অবস্থানকারী ছোট-ছোট অণুজীবকেও সক্রিয় করে তোলে। কৃষিতে এটি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি বলেও মত দিয়েছেন গবেষকরা।

দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় উর্বর মাটির গুরুত্ব অপরিসীম। খাদ্য উৎপাদনকারী প্রায় প্রতিটি উদ্ভিদই মাটিতে জন্মে থাকে। উর্বর মাটির ফসল উৎপাদন ক্ষমতা বেশি থাকে যা মানুষ ও পশুপাখির খাদ্যের জোগান দিতে থাকে। সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে কৃষি বিজ্ঞানেরও ক্রমাগত উন্নতি হচ্ছে। বায়োচার তার একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। ক্ষুদ্র অংশ হওয়া সত্ত্বেও বায়োচার কৃষিজ পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সমান ভূমিকা পালন করছে। বায়োচার ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা শক্তি, পানির ধারণ-ক্ষমতা ও সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। পরিবেশবান্ধব এই বায়োচার পদ্ধতি ব্যবহারে জমির ফলনও দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়।

বায়োচার ব্যবহারে রাসায়নিক সার ও পানি সেচ কম দিতে হয়, ফলে কৃষকের খরচ কমে যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্তির জন্য মাটিতে বায়োচার ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও আবাদি জমিতে পরিবেশবান্ধব বায়োচার পদ্ধতি ব্যবহার করে ধানের চারা রোপণ করা হচ্ছে। বায়োচার আলু, সবজি চাষেও ব্যবহার করা হচ্ছে এ অঞ্চলে। এর ফলে ভাল ফল পাচ্ছেন কৃষকরা।

গবেষণায় দেখা যায়, যে সব মাটির জৈব পদার্থ ১ শতাংশের কম আছে সে সব মাটিতে অনুমোদিত রাসায়নিক সার প্রয়োগের পরেও ভাল ফলন পাওয়া যায় না। ফলশ্র“তিতে কৃষকরা বেশি ফলনের আশায় অতিরিক্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগ করেন। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়, ফসলের সংরক্ষণ ক্ষমতা কমে, পরিবেশের ক্ষতি সাধন হয় এবং মাটির উর্বরতা হ্রাস পায়। এ অবস্থায় বায়োচার (কৃষিবান্ধব চুলা থেকে উৎপাদিত) মাটি থেকে হারিয়ে যাওয়া জৈব শক্তি পুনরায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। বায়োচার হচ্ছে এক ধরনের কয়লা। এটি মাটিতে ব্যবহার করলে মাটির জৈব উপাদান বৃদ্ধি পায়, লবণাক্ততা হ্রাস করে, পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ে, সারের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়, পুষ্টি উপাদান ধরে রাখে, মাটিতে অবস্থানকারী অনুজীবের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বায়োচার একটি উত্তম অনুষঙ্গ।

বায়োচার এক ধরনের চারকোল বা কয়লা যা পাইরোলাইসিস (সীমিত অক্সিজেনের উপস্থিতিতে বা অক্সিজেনবিহীন তাপের) পদ্ধতির সাহায্যে বিভিন্ন জৈব পদার্থ, যেমন- ধানের তুষ, কাঠের গুঁড়া, কাঠ, মুরগির বিষ্ঠা এমনকি নালা-নর্দমার বর্জ্য পদার্থ, আবর্জনা থেকে তৈরি করা হয়। বায়োচার পানি বিশুদ্ধকরণ এবং মাটির লবণাক্ততা কমাতে ভূমিকা রাখে। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় বায়োচার একটি অদ্বিতীয় অনুষঙ্গ।

বায়োচার জমিতে একবার ব্যবহার করলেই দীর্ঘ সময় আর ব্যবহার করতে হয় না। বায়োচার কার্বনকে বছরের পর বছর মাটিতে ধরে রাখে, ফলে মাটির স্বাস্থ্যের স্থায়ী উন্নয়ন ঘটে। বায়োচার মাটিতে প্রায় ১০০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। আর শতবর্ষ ধরে এটি মাটির উর্বর শক্তি বৃদ্ধি করে নানাভাবে। মামুন-অর-রশিদ, জনকন্ঠ

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com