হৈ চৈ আর আনন্দ করেই কেটে যেত আমার ঈদের দিন!!!

প্রকাশের সময় : 2019-08-28 17:50:27 | প্রকাশক : Administration
হৈ চৈ আর আনন্দ করেই কেটে যেত আমার ঈদের দিন!!!

আলহামদুলিল্লাহ। জীবনের প্রথম নিজের সংসারে ঈদ সফলভাবেই সম্পন্ন করলাম। চিন্তাও করতে পারিনি যে বাবার আদরের সিরাজউদ্দৌলার মেয়ে এত্তো কিছু পারবে। সেই ছোট্রবেলা থেকেই ছিলাম বাবার আদরের রাজকন্যা। আমার বাবা সবসময় মাকে বলতেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার ঘরে জন্ম নেয়ার কথা ছিলো; ভুলে মনে হয় আল্লাহ আমার ঘরে পাঠিয়েছেন।

স্কুল শিক্ষক হলেও বাবা কখনও তার রাজকন্যার কোন আবদার অপূর্ণ রাখেননি। রাজকন্যারও তাই বায়নার সীমা ছিলো না। যে কোন বিশেষ দিনে যেমন, বাংলা বছরের ১ম দিনে তার নতুন ড্রেস চাই, ইংরেজি বছরের ১ম দিনে নতুন ড্রেস চাই, যে কোন পরীক্ষার আগে নতুন ড্রেস চাই। জন্মদিন, ঈদের দিনেরটা তো আছেই। ড্রেস ছাড়া আরো কত্তো রকমের চাহিদা তার।

এবার আসি রাজকন্যার ঈদ প্রসঙ্গে। আমরা চার ভাই বোন। ভাইয়া বড় মাঝখানে আমরা দুবোন ও সবার ছোট আরেক ভাই। তো, ভাইয়া ছোটবেলা থেকেই গোছালো; আম্মাকে ঘর গোছানোর বিভিন্ন কাজে সাহায্য করতো। আর ছোটবোনটাতো আরো লক্ষীমেয়ে। আমিই ছিলাম বাবার বড় আদরের দুষ্টু মেয়ে। ঈদের আগের দিন রাত থেকেই শুরু হতো আনন্দ। আম্মাকে দেখতাম রাত জেগে পিঠা বানানো, পরের দিনের মসলা রেডি করা, আরো কত কী কাজ।

ঈদের দিন ভোরের নামায সেরেই আম্মা কাজে নেমে পড়তেন। প্রতিটি বিছানায় নতুন চাদর, টেবিলে ফুলদানিতে গাছ থেকে তুলে আনা তাজা ফুল দিয়ে সাজানো, ক্যাসেট প্লেয়ারে ফুল ভলিউমে বাজানো ভাইয়া ও আম্মার পছন্দের গান। আব্বা মসজিদ থেকে নামায শেষে  মর্নিং ওয়াক শেষ করে বাড়ি ফিরেই ঝাড়ু নিয়ে বাড়ির আঙ্গিনাটা খুব সুন্দর করে ঝাড়ু দিতেন। এদিকে সিরাজউদ্দৌলার মেয়ের তখনও ঘুম ভাঙ্গেনি। ঘুম ভাঙলেও আয়েশ করে শুয়ে  থাকা ও কান পেতে সব শুনা, কখন বাবা এসে আহ্ললাদ করে উঠাবেন।

বিছানা থেকে উঠেই দেখতাম খাবার টেবিলে সুন্দর করে সাজানো বিভিন্ন আইটেমের নাস্তা। নতুন কাপড়গুলো সামনেই রাখা। তাই দেরি না করে গোসল সেরে, নাস্তা সেরে নতুন কাপড় পরে সাজুগুজু করে বেরিয়ে পড়তাম বাড়ির সব আন্ডা বাচ্চার সাথে। সারাদিন ওদের সাথে হৈ চৈ আর আনন্দ  করেই কেটে যেত আমার ঈদের দিন। এভাবে  হেসে খেলেই বড় হয়ে গেলো বাবার আদরের রাজকন্যা।

এবার আসি বিয়ের পরের ঈদ কাহিনী। বিয়ের পর একযুগ পার হলো। কোন ঈদই আর নিজের বাড়ি করা হয়না। প্রতি ঈদেই সেই অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসে করে জামালপুরের তারাকান্দা যাওয়া। যার সাথে যাই তার চোখে মুখে আনন্দ আর খুশির বন্যা দেখে নিজের অজান্তেই নিজেও খুব খুশি হয়ে যাই। তারপরও যখন মনে পড়ে যায় পিছনে ফেলে আসা ঈদের দিনগুলোর কথা তখন এমনিতেই চোখের কোণটা ভিজে যায়।

শ্বশুর বাড়িতেও আমি রাজকন্যার মতোই ঈদ করি।

কখনও আমাকে রান্নাঘরে যেতে হয় না। গেলে অবশ্য কেউ নিষেধ করবে না বরং খুশিই হবে। এবারের ঈদটা আমার জীবনের একটা স্মরণীয় ও কষ্টেরও বটে। কারণ গতবছর কুরবানীর ঈদে  আমার বাবা জীবিত ছিলেন। বাবার সাথে ঈদের দিন কুশল বিনিময়ও হয়েছিল।

এবারের ঈদটা আমার সংসার জীবনে নিজের সংসারে প্রথম ঈদ। ফ্ল্যাট বাসায় প্রথম ঈদ কাটানো। শ্বশুর বাড়িও যাইনি; বাপের বাড়িও যাইনি। বিভিন্ন কারণে মনটা খুব খারাপ ছিলো। খুব টেনশনে ছিলাম। আজ পর্যন্ত কোন ঈদে রান্নাঘরে যাইনি, পারবো তো সব সামাল দিতে! তার উপর আবার কাজের লোক ও নেই এবার। আমি কি আমার মায়ের মতো মা হতে পারবো! আমার বাচ্চাদের বা বাচ্চার বাবাকে সারপ্রাইজ দিতে পারবো! যে কিনা আমার দিকে চেয়ে বাড়ি যাওয়া বাদ দিলো। আল্লাহর কাছে মনে মনে সাহায্যও প্রার্থনা করছি, আমি যেন সব সামাল দিতে পারি।

আগের রাত থেকে একটু একটু প্রস্তুতি নিতে নিতে ব্যাপক প্রস্তুতি হয়ে গেছে। বাপ-বেটাদের পছন্দের আইটেমসহ সবকিছুই সুন্দরভাবে করতে পেরেছি। এমনকি কুরবানীর গোশতও দুজনে মিলে সুন্দর ভাবে বন্টণ করতেও পেরেছি। হাজার শুকরিয়া  আল্লাহর কাছে।

আজ বারবার শুধু বাবার  কথাই মনে পড়ছে! বাবা তোমার আদরের সিরাজউদ্দৌলার মেয়ে, তোমার রাজকন্যা এখন অনেক বড় হয়েছে, অনেক কিছু পেরেছে। বাবা সবকিছুই আছে, শুধু তুমি নেই! বাবা তুমি নেই!! আমি তোমার পুতুল পুতুল মেয়ে হয়েই থাকতে চাই। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তোমাকে ভালো রাখুন। "রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বা ইয়ানি সগীরা।"

- নাহিদ আলম, আনন্দ মোহন কলেজ

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com