লেগেছে আধুনিকতার হাওয়া

প্রকাশের সময় : 2019-09-12 23:16:21 | প্রকাশক : Administration

সমুদ্র হকঃ ছুটে চলেছে নারী। থেমে নেই অগ্রযাত্রা। কেউ কি ভেবেছিল বাংলাদেশের কিশোরী তাসমিনা ঘোড়দৌড়ে বিশ্ব মাতিয়ে দেবে! অথচ হয়েছে তাই। মাঠে বাবার ঘোড়া চড়াতে গিয়ে খেলার সঙ্গী করে ঘোড়ায় ছুটতে শিখেছে। এরপর এই ছুটে চলা আর থেমে নেই। হয়ে উঠেছে পারদর্শী ঘোড়সওয়ার। দেশের ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তেজি ঘোড়াকে তীরের বেগে ছুটিয়ে নিয়ে সবার আগে গন্তব্যে পৌঁছে।

ছিপছিপে গড়নের এই কিশোরীর নাম তাসমিনা আক্তার (১৫)। বয়স যখন পাঁচ তখনই ঘোড়া বাগে আনার কৌশল রপ্ত করে নেয় সে। তাকে নিয়ে পরে প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে, যা কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে। দেশে-বিদেশে সম্মান কুড়িয়েছে। পুরস্কারের ডালা ভরে যাচ্ছে তাসমিনার।

আরেক তরুণী আফরোজ আক্তার রিমা। নারী-পুরুষ সমতায় নিজেকে গড়ে তুলেছে দক্ষ করে। কর্মক্ষেত্রে যেতে, সড়ক-মহাসড়কে স্কুটি চালাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধকরে সে। দেশের নানা প্রান্তের হাজারো নারী আজ শুধু স্কুটি নয় মোটরবাইকে চলাচল করছে। উত্তর জনপদের মেয়ে রিমা এ ক্ষেত্রে এগিয়ে। নারীর বাহনে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে স্কুটি। গাড়ি আছে এমন পরিবারের মেয়েরা গাড়ি চালায়। কিন্তু উত্তরাঞ্চলে গায়ের বেশিরভাগ কিশোরী বাইসাইকেলে স্কুলে যাচ্ছে। বিত্তবান পরিবারের মেয়েরা স্কুটিতে কলেজে যাচ্ছে- ভাবা যায়।

কিশোরীর ঘোড়ায় ছুটে চলার দৃশ্য প্রথম নজরে আসে বগুড়ায়। বেশকিছু মেলায় ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় নওগাঁর মেয়ে তাসমিনা আক্তার। আগে বিভিন্ন মেলার ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিত অভিজ্ঞ পুরুষ সওয়ারী। ঘোড়দৌড়ে কোন মেয়ে অংশ নিতে পারে তা কেউ স্বপ্নেও ভাবেনি। হঠাৎ উল্কার মতো আবির্ভূত হলো ওই কিশোরী। মাস দুয়েক আগে বগুড়ার গাবতলীর হেলেঞ্চার মাঠের মেলায় কিশোরী তাসমিনা ঘোড়দৌড়ে অংশগ্রহণ অনেকেই অবজ্ঞার চোখে দেখে।

কিন্তু আয়োজকরা যখন দেখে ঘোড়াকে ক্ষিপ্রতায় এনে, বাগে আনে কৌঁসুলি সওয়ার ছুটে চলল সবার আগে ওই কিশোরী; তখন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন অনেকেই। বিস্ময় বালিকা নওগাঁর তাসমিনা ঘোড়দৌঁড়ের মাঠে সবার আগে চিহ্নিত পয়েন্টে পৌঁছলে মুহুর্মুহু করতালিতে উল্লাস করে দর্শক। তিন দিনের এই ঘোড়দৌঁড়ে প্রতিদিনই তাসমিনা প্রথম হয়েছে। শুধু উত্তরাঞ্চলেই নয় গাজীপুর, ময়মনসিংহসহ দেশের অনেক স্থানে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য এনেছে। প্রতি বছর অন্তত একশ’ ঘোড়দৌঁড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বেশিরভাগ সময়ই প্রথম হওয়ার সম্মান কুড়িয়েছে।

তাসমিনার বাড়ি নওগাঁ জেলার ধামইরহাটে। ধামইরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। বাবা আনোয়ার হোসেন জানালেন, তার একটি সাদা রঙের ঘোড়া ছিল। ৪ বছর বয়সে তাসমিনা ওই ঘোড়া মাঠে চড়াতে যেত, ঘোড়ায় চড়েই ঘুরত। ধীরে ধীরে ঘোড়াকে বাগে এনে দারুণ ক্ষিপ্রতায় তাসমিনা ছুটতে থাকে গ্রামের পথে। এলাকার মানুষ অবাক হয়ে এ কান্ড দেখে। এভাবেই একদিন ঘোড়ায় ছুটে চলা তার আনন্দ আর নেশায় পরিণত হয়। সে ওই ঘোড়ার নাম দিয়েছিল ‘রং তামাশা’। এক পর্যায়ে ওই ঘোড়া বেঁচে দিতে হয়। তাসমিনা তখন অন্যের ঘোড়ায় চেপে ছুটতে শেখে। দেখা যায় নিজের ঘোড়া কেবল নয় অন্যের ঘোড়ায়ও সে সমান পারদর্শী। তাসমিনা অন্যের ঘোড়াকে সহজে বশ করে ছুটতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তার টার্গেট থাকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। প্রথমে ঘোড়ার সঙ্গে ভাব করে ঘোড়ার ধরন বুঝে নেয়। এরপর ঘোড়ায় চড়লে ঘোড়াই বুঝতে পারে অভিজ্ঞ সওয়ারীকেই পিঠে নিয়েছে। এরপর তাসমিনার নির্দেশ মেনে দুরন্ত গতিতে ছুটে চলে।

এদিকে স্কুটিতেও এগিয়ে চলেছে বগুড়ার মেয়েরা। বগুড়ার একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক ইমতিয়াজ জানান, তাদের মোটরসাইকেল বিক্রির ১০ শতাংশ ক্রেতাই নারী। আর স্কুটি বিক্রির ৯০ শতাংশ নারী। শহরে নারীর স্বাচ্ছন্দ্য বাহন স্কুটি। নারীর ক্ষমতায়নে দশ প্রযুক্তির একটি স্কুটি। গ্রামে অনেক আগেই কিশোরীদের স্বাচ্ছন্দ্যে পথ চলার সঙ্গী হয়েছে বাইসাইকেল। হালে গায়ের অনেক নারী সাইকেল ও স্কুটি ব্যবহার করছে।

বর্তমানে প্রতি বছর স্কুটিসহ ৬ লাখ মোটরবাইক বিক্রি হচ্ছে। ’২৫ সালে এই সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১৫ লাখে। বাইসাইকেল বিক্রি হচ্ছে বছরে অন্তত ৭০ লাখ। স্কুটি আর বাইসাইকেল ক্রেতার বড় অংশই কিশোরী। নারীর অগ্রযাত্রা এগোতে জাতিসংঘের নারী সংস্থা পাঁচটি পয়েন্ট দিয়েছে। ১. দূর থেকে সুপেয় খাবার পানি আনতে বিশেষ যানের ব্যবহার। ২. বাই সাইকেলে চলাচল (সঙ্গে যোগ হয়েছে স্কুটি ও মোটরবাইক)। ৩. ইন্টারনেটে এ্যাকসেস। ৪. স্যানিটারি প্যাড। ৫. প্যান্ট। যা নারীর জীবনযাপন করেছে সহজ বাড়িয়েছে চলার গতি। কর্মক্ষেত্রে নারী প্যান্ট পড়ে যত দ্রুত এগোতে পারে শাড়িতে ততটা নয়। দেশের উত্তরের শুকনো এলাকায় দূর থেকে সুপেয় খাবার পানি সংগ্রহে শ্রম কমাতে নারীকে চাকাওয়ালা গাড়ি ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বাইসাইকেল, স্কুটি ও মোটরবাইক নারীকে অধিকতর চলাচল ও স্বাধীনতার সুযোগ করে দিয়েছে।

অতীতে অনেক দেশে অভিভাবকের সঙ্গে মেয়েরা পিছনে বসে ঘোড়ায় চড়ে চলাচল করত। এখন নারী ঘোড়ায় ছুটছে। নারীর উন্মুক্ত পরিসর তৈরিতে ইন্টারনেটে বেড়েছে সচেতনতা। পিরিয়ডে নারীর চলার গতি ধরে রাখতে স্যানিটারি প্যাড অপরিহার্য। প্যান্ট এখন আর ফ্যাশন নয়, নারীর ভূষণ। কয়েক শতাব্দী ধরে যে কাজ শুধু পুরুষের বলে ধরে নেয়া হতো- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ঘটল পালাবদল। সকল কাজে যুক্ত হতে থাকে নারী। তখনই নারীর পোশাকে পরিবর্তন আসে। প্যান্ট জায়গা করে নেয় অনেকখানি।

নারীর এই চলা দ্রুত এগোচ্ছে। বাংলাদেশের মেয়েরা হিমালয়ের চূড়ায় উঠেছে। ঘোড়া ও স্কুটিতে নারী ছুটে চলার গতি বলে দিচ্ছে ওরা আসছে...। - জনকণ্ঠ

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com