মহাকাশে পা; আরেক স্বপ্ন পূরণ

প্রকাশের সময় : 2018-05-24 22:06:29 | প্রকাশক : Admin
মহাকাশে পা; আরেক স্বপ্ন পূরণ

সিমেক ডেস্কঃ উৎসাহী মানুষের রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা। মহাকাশে উড়তে গিয়েও উড়েনি বাংলাদেশের গৌরব ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’। ‘কাউন্টডাউনে’ ৪২ সেকেন্ডে এসে থেমে যায় বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের যাত্রা। তখন টেলিভিশনের সামনে থাকা কোটি কোটি দর্শকের কম্পনও অনেকটাই থেমে যায়। টেলিভিশনের আলোচকদের মধ্যেও নেমে আসে হতাশার সুর। বৃহস্পতিবার রাত দুটা ১২ মিনিট থেকে চারটা ৪৭ মিনিটের মধ্যে এমন একটি দৃশ্যের অবতারণা হয়।

শেষ বেলায় এসে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হয়েছে বলে ঘোষণা আসে। তবে ওই ঘোষণায় বলা হয় পরদিন একই সময়ে আবার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। পরদিন শুক্রবার আবার চেষ্টা হবে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের। সফল উৎক্ষেপণের অপেক্ষায় দেশের কোটি কোটি মানুষ। মহাকাশ জয় হলেই বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর ৫৭তম দেশ, যাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকছে।

প্রথম দিন স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ হলে দেশের মানুষের মনে যে আনন্দের বন্যা বইছিল-তা আরও প্রবল হতো এই আনন্দে কিছুটা ছন্দ পতন হলো। যে কোন রকেট উৎক্ষেপণের এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। সামান্য ত্রুটি দেখা দিলেই উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হয়। খোদ আমেরিকার বহু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দিন তারিখ অনেকবার পরিবর্তন করে উৎক্ষেপণের ইতিহাস রয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে।

অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ‘জয় বাংলা স্লোগান নিয়ে’ ছুঁটেছে স্বপ্নের স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। মহাকাশের পথে পাড়ি জমায় বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। শুক্রবার (১১ মে) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টা ১৪মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর কেপ কেনেডি সেন্টারের লঞ্চিং প্যাড থেকে মহাকাশের পথে উড়াল দেয় বঙ্গবন্ধু-১।

এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ দিয়ে অবিস্মরণীয় এক অর্জন হলো বাংলাদেশের। বহু আগেই বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলের স্বীকৃতি পেয়েছে। এবার মহাকাশেও লাল সবুজের গৌরবগাঁথা দেখল বিশ্ব। ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠালো বাংলাদেশ।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মহাকাশে পৌঁছার পর বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে লাগবে প্রায় এক মাস। এরপর কারিগরি বিভিন্ন বিষয় শেষ করে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও এক মাস সময় লাগবে বলে ধারণা বিটিআরসির। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের জন্য গাজীপুরের জয়দেবপুরে এবং রাঙামাটির  বেতবুনিয়ায় নির্মিত হয়েছে গ্রাউন্ড স্টেশন।

বাংলাদেশ এতদিন বিদেশি স্যাটেলাইট ভাড়া করে সম্প্রচার ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ে গবেষণার কাজ চালিয়ে আসছিল; বর্তমানে বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বাংলাদেশকে গুণতে হয় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে, যার ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে এবং বাকিগুলো ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।

বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখন অনেক উঁচুতে। আরও একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। এর মাধ্যমে মহাকাশে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। ভূমি থেকে ছাড়ার পর টানা ৮ দিন মহাকাশে উড়ে ৩৬ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নিজস্ব কক্ষপথে নিজের অবস্থানে স্থাপন হবে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হবে বাংলাদেশ।

স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ নিয়ে সারাদেশে বিরাজ করেছে উৎসবের আমেজ। তথ্য প্রযুক্তি খাতে নবযুগে প্রবেশ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল। রাজধানীসহ সারা দেশে শোভা পাচ্ছে বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দৃশ্য জনসাধারণকে দেখার সুব্যবস্থা করার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থানকারী বাংলাদেশীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ। উৎক্ষেপণের সময় প্রবাসীরা জড়ো হন কেন্দ্রের কাছে। বাংলাদেশ থেকে অনেক মিডিয়াও যোগদান করে এই উৎসবে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, ৩ দশমিক ৭ মেট্রিক টন ওজন নিয়ে টানা ১৫ বছর অবস্থান করবে। ১৫ বছর চলে যাওয়ার পর স্যাটেলাইট আরও ৩ বছর বার্তা দিতে পারবে। স্যাটেলাইট নির্মাণের এই মহাকর্মযজ্ঞে খরচ হয়েছে ২৭৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ১৩১৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা। বাকি ১৬৫২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বিদেশী ঋণে নির্মিত হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সঙ্গে সঙ্গে মর্যাদার আসনে যুক্ত হলো বাংলাদেশ। বিশ্বের শক্তিধর ও উন্নত দেশগুলোই কেবল স্যাটেলাইটের মালিক। বাংলাদেশের মত দেশ আজ উন্নত দেশের কাতারে দাঁড়িয়েছে। জাতি হিসেবে এটা গর্বের বিষয়।

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাকাশ জয় তো বটেই, বিশ্ব জয় করেছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতির পিতার স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়েছে; বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশ ছুঁয়েছে, পরিভ্রমণ করতে শুরু করছে ৩৬০০ কিলোমিটার ওপর দিয়ে মহাকাশে। স্যাটেলাইটের সেবা চালু হলে তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তিখাত দ্রুত এগিয়ে যাবে এবং বাণিজ্যিকভাবেও লাভবান হবে দেশ। এ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর থেকে আমাদের প্রয়োজন মিটবে, খরচও বাঁচবে, পরন্তু অন্য দেশের কাছে ভাড়া দিয়ে অনেক টাকা আয়ও হবে।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com