জীবন্ত কিংবদন্তীর ফিরে আসা

প্রকাশের সময় : 2018-05-24 22:07:07 | প্রকাশক : Admin
জীবন্ত কিংবদন্তীর ফিরে আসা

সিমেক ডেস্কঃ অবশেষে নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মালয়েশিয়ার সপ্তম ও বিশ্বের সবচেয়ে বয়োবৃদ্ধ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন কিংবদন্তী মাহাথির বিন মোহাম্মদ। শপথ নিয়ে ফের মালয়েশিয়ার হাল ধরলেন মাহাথির। রাজা পঞ্চম মোহাম্মদের আমন্ত্রণে কুয়ালামপুরের ইস্তানা নাগারা প্রাসাদে মাহাথির শপথ নেন। মাহাথির হয়ে উঠেছেন জীবন্ত কিংবদন্তী।

ভাবা যায়, যার রাজনৈতিক জীবনেরই ব্যাপ্তি ৭০ বছর; বয়স ৯৩ ছুঁই ছুঁই করছে এবং আধুনিক মালয়েশিয়া গড়ার মহানায়ক ও দিশারী এবং এখনও আপন মহীমায় জাতিকে দিশা দেয়ার চেতনাটি যার হারায়নি। বলা হচ্ছে, মালয়েশিয়ার চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী, যিনি ওই পদে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পুননির্বাচিত হয়ে পৃথিবীর সুদীর্ঘ আয়ুর জনসেবী নেতা।

সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধী নাজিব রাজাককেপরাজিত করে আবারও দেশটির হাল ধরলেন মাহাথির। এই নির্বাচনে ছয় দশক ধরে দেশটির ক্ষমতায় থাকা বারাসান ন্যাশনাল পার্টির বিরুদ্ধে ভোটবাক্সে সুনামি বইয়ে দিয়েছে মালয়েশিয়রা। নির্বাচনে মাহাথিরের পাকাতান হারাপান পেয়েছে ১২১টি আসন, আর ক্ষমতাসীনেরা পেয়েছে ৭৯টি এবং তৃতীয় জোট পাকিতান রাকিয়াত পেয়েছে ১৮টি। ১৫ বছর আগে রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছিলেন জীবন্ত কিংবদন্তী মাহাথির বিন মোহাম্মদ। সাধারণ নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছয় দশকের কোয়ালিশন শাসনের অবসান ঘটিয়ে আবারও ক্ষমতাসীন হয়েছেন। প্রতিদ্বন্ধীকে হারানোর পর আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি।

মালয়েশিয়ার নাগরিকরা স্পষ্ট করে দিয়েছে, মাহাথিরের বয়স নয় তার নেতৃত্ব প্রয়োজন। নাজিব রাজাকের দুর্নীতিই ১৫ বছর পর মাহাথিরের ফিরে আসার মূল কারণ। ৯২ বছরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে মাহাথির বিশ্বের সবচেয়ে বয়োবৃদ্ধ নেতার রেকর্ড গড়েছেন। তার প্রজ্ঞা, জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার কারণে মালয়েশিয়রা সহজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দেশের সপ্তম নেতা হিসেবে মাহাথির মালয়েশিয়ার দায়িত্ব গ্রহণের পর উল্লাস করে দেশটির নাগরিকরা। সেই সঙ্গে একের পর এক আসতে থাকে বিশ্বনেতাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তা। ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় পাঁচ ঘন্টা পর মাহাথিরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

ইতোপূর্বে মাহাথির ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রায় ২২ বছর পাঁচবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মালয়েশিয়াকে শাসন করেছিলেন। কঠোর পরিশ্রম ও অভাবনীয় উন্নয়ন করেছেন। সেসময়ে মালয়েশিয়া শুধু অভূতপূর্ব উন্নয়ন জোয়ারে এগিয়ে যায়নি, বরং সমৃদ্ধশালী হয়েছে। দীর্ঘ শাসনামলে মালয়েশিয়াকে জেলেদের দেশ থেকে গগনচুম্বি অট্টালিকার দেশে পরিণত করেছেন। পেয়েছেন ‘আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক’ হিসেবে সম্মাননা।

মাহাথির বিন মোহাম্মদ চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ে ডাক্তার হয়েছিলেন বটে, কিন্তু নিয়তি মাহাথিরকে রাজনীতিতে ডেকে নেয়। তাতে ছিল চড়াই- উৎরাই। ১৯৬৪ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৭৬ সালে উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং ১৯৮১ সালে প্রধানমন্ত্রী হন। তবে এবার মাহাথিরের বয়সগত কারণে অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। যখন বিজয় ঘোষণাটি আসে, সবার অবিশ্বাসটি কেটে যায়। এটা এক অত্যাশ্বর্য ঘটনা। একমাত্র তার পক্ষেই এ বিজয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ছয় দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা একটি দলকে পরাজিত করে মাহাথির দেখিয়েছেন, দলের জন্য ব্যক্তি নয়, ব্যক্তির জন্যই দল।

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com