শাড়িতে নক্সা করে গ্রামের নারীরা আজ স্বাবলম্বী

প্রকাশের সময় : 2019-09-12 23:47:13 | প্রকাশক : Administration
শাড়িতে নক্সা করে গ্রামের নারীরা আজ স্বাবলম্বী

কবিতা ও গানে শাড়ি বন্দনা হয়েছে যুগে যুগে। বাঙালী রমণীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক শাড়ি। বাংলার নারীদের শাড়ি ব্যবহার সেই প্রাচীনকাল থেকেই। বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের শাড়ির প্রচলন। ১২ হাত দৈর্ঘ্যের শাড়ি অনেক নারীর খুব প্রিয় পোশাক। পুরুষ কবি সাহিত্যিকদের লেখা গল্প-কবিতায় শাড়ি-বন্ধনা দেখেই অনুমান করা যায় শাড়ির মাহাত্ম্য। এদেশে ঐতিহ্যবাহী কত রকমের শাড়িই না রয়েছে সুতি, সিল্ক, জামদানি, বেনারসি, কাতান, কাঞ্জিভরম, মসলিন। আমাদের বাংলাদেশ তো এক সময় মসলিন  শাড়ির জন্য বিখ্যাত ছিল। সবই আজ ইতিহাসের অংশ।

সুঁই সুতা পুঁতি পাথর এসব অনুষঙ্গ দিয়ে শাড়িতে বাহারি রকমের নক্সা তৈরি করে ভাগ্য বদলের চেষ্টা করছেন অর্ধশত গ্রামের নারী। এতে সফলতাও পেয়েছেন অনেক নারী। কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার কুড়িমারা, দীপেশ্বর, গাঙ্গাটিয়া, পুমদি, ডাংরী, পানান, সৈয়দপুর, কেশেরা, দক্ষিণ গোবিন্দপুর ও নামা সীদলাসহ প্রায় ৫০ গ্রামের নারীরা শাড়িতে নক্সা তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সংসারের অভাব অনটন ঘুচাতে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন তারা।

উপজেলার প্রায় ৮ হাজারেরও বেশি নারী শাড়িতে নক্সার কাজ করেন। কয়েক বছর ধরে তারা নিজ বাড়ির আঙিনায়, উঠান ও ঘরের মেঝেতে শাড়িতে নক্সা তোলার কাজ করেন। ঈদ আসলে এসব নক্সি শাড়ির চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। সুঁই সুতার কাজ করেন বেশির ভাগ নারীরাই। সারাদেশেই তাদের হাতেই নিপূণ কাজের কদর রয়েছে।

কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন আকর্ষণীয় ও মনোরম ডিজাইনের পুঁতি ও সুতা দিয়ে বাহারি রঙের শাড়িতে নক্সার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের কারিগররা। তাদের সহযোগিতা করছে শিশুরাও। নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়ে রাত দিন একটানা অর্থ উপার্জনের জন্য শাড়িতে নক্সা করে যাচ্ছেন তারা। বাদ যাচ্ছে না স্কুল পড়ুয়া মেয়েরাও। শাহেদল কুড়িমারা, রহিমপুর, আশুতিয়া, দ্বীপেশ্বরসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটি বাড়িতে এখন পুরোদমে শাড়িতে পুঁতি ও সুতা দিয়ে বিভিন্ন নক্সা বাহারি রঙের শাড়িতে কাজে ডিজাইন আঁকে কারিগররা। এসব শাড়ি ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যবসায়ী ও মহাজনদের কাছ থেকে এবং এর ডিজাইন আঁকা অবস্থায় নামমাত্র মজুরির চুক্তিতে নিয়ে আসেন তারা।

দরিদ্র পরিবারের নারী ও শিশুরা মিলে শাড়ির ডিজাইন মতো সুতা ও পুঁতি দিয়ে নক্সা প্রস্তুত করে থাকেন। যেসব শাড়িতে ডিজাইন থাকে বেশি সেসব শাড়িতে নক্সা তৈরিতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে। একেকটা শাড়িতে ডিজাইন ও প্যাটার্ন ভিত্তিক মজুরি ভিন্ন হয়ে থাকে। বেশি ডিজাইনকৃত শাড়িতে নক্সার মজুরি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পান তারা। ওই সব শাড়ি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন নামীদামী মার্কেটে বিক্রি হয়।

কয়েক নক্সাকার বলেন, ‘আমাদের হাতে তৈরি পোশাকের কদর আমরা বুঝি না। যখন মানুষজন এই পোশাকগুলো বড় বড় শোরুম থেকে কিনে ব্যবহার করেন, তখনই আমরা বুঝতে পারি এগুলো আমাদের হাতে তৈরি।’ শাড়িগুলো খুচরা বিক্রেতারা ৮ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে থাকে। -শেখ আব্দুল আওয়াল

 

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সরদার মোঃ শাহীন,
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম সুজন,
বার্তা সম্পাদকঃ ফোয়ারা ইয়াছমিন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ আবু মুসা,
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ শামছুজ্জামান

প্রকাশক কর্তৃক সিমেক ফাউন্ডেশন এর পক্ষে
বিএস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড,
ওয়ারী, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত।

বানিজ্যিক অফিসঃ ৫৫, শোনিম টাওয়ার,
শাহ মখ্দুম এ্যাভিনিউ, সেক্টর # ১২,
উত্তরা, ঢাকা,
ফোন: ০১৯১২৫২২০১৭, ৮৮০-২-৭৯১২৯২১
Email: simecnews@gmail.com